নির্বাচন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে শুরু হয়েছে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ভোটের মাঠে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তাপ, পাল্লা দিয়ে চলছে প্রচারণা,যা পুরো আসন জুড়ে সৃষ্টি করেছে টানটান উত্তেজনা। একদিকে রয়েছে ভোটারদের উৎস অন্যদিকে রয়েছে অজানা শঙ্কাও। পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠের লক্ষে নির্বাচনি মাঠে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচনে দায়িত্ব থাকা সহকারী রিটানিং অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ, যিনি লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে জামায়াতী ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থী কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য এএইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, যার প্রতীক দাড়ি-পাল্লা। দু’জনই নিজ নিজ ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে ভোটারদের মন জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানাগেছে, বিএনপির দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলে আসা অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের বিরোধের শেষ পর্যন্ত অবসান হয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে। তবে ভোটার মাঠে গ্রুফিং থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রথমে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও বিরোধ অবসানে স্বস্তি ফিরেছে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপের দলীয় আসনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এর পর অনেকটা ভোটার মাঠে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি তথা ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা দিয়ে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে প্রথম নির্বাচনি জনসভায় যা বিশাল জনসভা শেষ পর্যন্ত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এদিকে স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের বিরোধের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদের মুখোমুখি হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। কিন্তু দলের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধের কারণে বরাবরই বেকায়দায় পড়ে যান বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ। এবার বিরোধ মীমাংসিত হওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা ঐক্যেবদ্ধ হয়ে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন বিএনপি তথা ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ,এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
সবমিলিয়ে এ আসন এখন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সরগরম। নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠছে প্রচার প্রচারণা। দুই দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভাসমান ভোটার ও অন্যান্য দলের যাদের প্রার্থী নেই তাদের ভোটগুলো নিজেদের আদর্শে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে আভাস পাওয়া গেছে স্থানীয় ভোটারদের কাছে। জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদকে একেবারে উড়িয়ে দিলে হবেনা তিনি নারী ভোটার বেশি টানছেন দাঁড়ি পাল্লার দিকে। তারা দুইজন ছাড়া আরও কয়েকজন ডামি প্রার্থী ভোটার মাঠে সমান প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে কক্সবাজার-২ আসনে কে হাসবেন শেষ হাসি,তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই দিনই নির্ধারিত হবে মহেশখালী–কুতুবদিয়া রাজনৈতিক ও জনগণের ভাগ্য। ###

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে শুরু হয়েছে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ভোটের মাঠে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তাপ, পাল্লা দিয়ে চলছে প্রচারণা,যা পুরো আসন জুড়ে সৃষ্টি করেছে টানটান উত্তেজনা। একদিকে রয়েছে ভোটারদের উৎস অন্যদিকে রয়েছে অজানা শঙ্কাও। পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠের লক্ষে নির্বাচনি মাঠে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচনে দায়িত্ব থাকা সহকারী রিটানিং অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ, যিনি লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে জামায়াতী ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থী কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য এএইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, যার প্রতীক দাড়ি-পাল্লা। দু’জনই নিজ নিজ ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে ভোটারদের মন জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানাগেছে, বিএনপির দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলে আসা অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের বিরোধের শেষ পর্যন্ত অবসান হয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে। তবে ভোটার মাঠে গ্রুফিং থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রথমে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও বিরোধ অবসানে স্বস্তি ফিরেছে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপের দলীয় আসনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এর পর অনেকটা ভোটার মাঠে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি তথা ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা দিয়ে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে প্রথম নির্বাচনি জনসভায় যা বিশাল জনসভা শেষ পর্যন্ত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এদিকে স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের বিরোধের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদের মুখোমুখি হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। কিন্তু দলের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধের কারণে বরাবরই বেকায়দায় পড়ে যান বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ। এবার বিরোধ মীমাংসিত হওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা ঐক্যেবদ্ধ হয়ে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন বিএনপি তথা ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ,এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
সবমিলিয়ে এ আসন এখন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সরগরম। নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠছে প্রচার প্রচারণা। দুই দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভাসমান ভোটার ও অন্যান্য দলের যাদের প্রার্থী নেই তাদের ভোটগুলো নিজেদের আদর্শে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে আভাস পাওয়া গেছে স্থানীয় ভোটারদের কাছে। জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদকে একেবারে উড়িয়ে দিলে হবেনা তিনি নারী ভোটার বেশি টানছেন দাঁড়ি পাল্লার দিকে। তারা দুইজন ছাড়া আরও কয়েকজন ডামি প্রার্থী ভোটার মাঠে সমান প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে কক্সবাজার-২ আসনে কে হাসবেন শেষ হাসি,তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই দিনই নির্ধারিত হবে মহেশখালী–কুতুবদিয়া রাজনৈতিক ও জনগণের ভাগ্য। ###
