মানবতামানবতা

তানোর ও গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্রঋণের মরণফাঁদ: কিস্তির চাপে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার

শেয়ার করুন
অ+ অ-
তানোর ও গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্রঋণের মরণফাঁদ: কিস্তির চাপে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার
একই সুতোয় গাঁথা ঋণের মরণফাঁদ: তানোর ও গোদাগাড়ীর একটি উঠান বৈঠকে কিস্তি আদায়ের অপেক্ষায় এনজিও কর্মী ও ঋণের ভারে জর্জরিত নারীরা। দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই বৈঠকগুলো এখন অনেকের জীবনেই কিস্তির আতঙ্ক আর হাহাকারের নাম।"

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা তানোর ও গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনে চরম হাহাকার শুরু হয়েছে। একের পর এক এনজিওর ঋণের চাপে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক পরিবার বসতভিটা ও শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেলছে।

​দুই উপজেলার অভিন্ন চিত্র

​সরেজমিনে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় একই করুণ দৃশ্য। তানোরের কলমা, পাঁচন্দর ও কামারগাঁ ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী, কাকনহাট ও চর অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ঋণের জাল সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই একাধিক এনজিওর ঋণ রয়েছে। কেউ কেউ ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত কিস্তি চালাচ্ছেন।

​ঋণের চাপে গ্রামছাড়া হওয়ার উপক্রম

​গোদাগাড়ীর কাকনহাট এলাকার এক ঋণগ্রহীতা নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "সকাল ৮টা বাজলেই এনজিও কর্মীরা ঘরের দুয়ারে এসে দাঁড়ায়। ঘরে খাবার থাকুক বা না থাকুক, কিস্তি দিতেই হবে। কিস্তি দিতে না পারলে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সামনে অপমান করে।"

​অন্যদিকে, তানোরের অনেক গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। কিস্তির ভয়ে দিনের আলো ফোটার আগেই অনেকে কাজের সন্ধানে বা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন, ফিরছেন গভীর রাতে। ঋণের এই ভয়াবহ চাপ সইতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।

​ভয়াবহ ‘ঋণ-চক্র’

​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক এনজিওর কিস্তি শোধ করার জন্য অন্য এনজিও থেকে নতুন করে ঋণ নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এভাবেই তারা একটি অন্তহীন ‘ঋণ-চক্র’ বা মরণফাঁদে আটকা পড়ছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ঋণের এই উচ্চ সুদ ও কিস্তির চাপ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

​সচেতন মহলের উদ্বেগ

​এলাকার সচেতন নাগরিক ও সমাজসেবীরা বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ এক সময় দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার বলা হলেও এখন তা দারিদ্র্য বিস্তারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো তদারকি ছাড়াই যত্রতত্র ঋণের বিস্তার এবং চড়া সুদের হার তানোর ও গোদাগাড়ীর প্রান্তিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

​প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

​ভুক্তভোগী জনসাধারণ এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা কিস্তির সময়সীমা বাড়ানো এবং হয়রানিমূলক আদায় প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


তানোর ও গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্রঋণের মরণফাঁদ: কিস্তির চাপে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা তানোর ও গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনে চরম হাহাকার শুরু হয়েছে। একের পর এক এনজিওর ঋণের চাপে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক পরিবার বসতভিটা ও শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেলছে।

​দুই উপজেলার অভিন্ন চিত্র

​সরেজমিনে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় একই করুণ দৃশ্য। তানোরের কলমা, পাঁচন্দর ও কামারগাঁ ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী, কাকনহাট ও চর অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ঋণের জাল সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই একাধিক এনজিওর ঋণ রয়েছে। কেউ কেউ ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত কিস্তি চালাচ্ছেন।

​ঋণের চাপে গ্রামছাড়া হওয়ার উপক্রম

​গোদাগাড়ীর কাকনহাট এলাকার এক ঋণগ্রহীতা নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "সকাল ৮টা বাজলেই এনজিও কর্মীরা ঘরের দুয়ারে এসে দাঁড়ায়। ঘরে খাবার থাকুক বা না থাকুক, কিস্তি দিতেই হবে। কিস্তি দিতে না পারলে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সামনে অপমান করে।"

​অন্যদিকে, তানোরের অনেক গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। কিস্তির ভয়ে দিনের আলো ফোটার আগেই অনেকে কাজের সন্ধানে বা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন, ফিরছেন গভীর রাতে। ঋণের এই ভয়াবহ চাপ সইতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।

​ভয়াবহ ‘ঋণ-চক্র’

​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক এনজিওর কিস্তি শোধ করার জন্য অন্য এনজিও থেকে নতুন করে ঋণ নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এভাবেই তারা একটি অন্তহীন ‘ঋণ-চক্র’ বা মরণফাঁদে আটকা পড়ছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ঋণের এই উচ্চ সুদ ও কিস্তির চাপ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

​সচেতন মহলের উদ্বেগ

​এলাকার সচেতন নাগরিক ও সমাজসেবীরা বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ এক সময় দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার বলা হলেও এখন তা দারিদ্র্য বিস্তারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো তদারকি ছাড়াই যত্রতত্র ঋণের বিস্তার এবং চড়া সুদের হার তানোর ও গোদাগাড়ীর প্রান্তিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

​প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

​ভুক্তভোগী জনসাধারণ এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা কিস্তির সময়সীমা বাড়ানো এবং হয়রানিমূলক আদায় প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত