অপরাধঅপরাধ

গোদাগাড়ীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বিপথে তরুণ সমাজ, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

শেয়ার করুন
অ+ অ-
গোদাগাড়ীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বিপথে তরুণ সমাজ, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বন্দি ভবিষ্যৎ: গোদাগাড়ী উপজেলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ, যা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে।"

গোদাগাড়ী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় মরণনেশা মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোনে সহজলভ্য বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবক ও শ্রমজীবী মানুষ। ফলে বাড়ছে পারিবারিক কলহ, চুরি-ছিনতাই এবং সামাজিক অস্থিরতা।

​গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই জুয়ার জাল

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের চা-দোকান, মোড় ও নির্জন এলাকায় তরুণদের জটলা বেঁধে স্মার্টফোনে মগ্ন থাকতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে গেম খেলছে মনে হলেও বাস্তবে তারা ওয়ান-এক্স বেট, মেলবেট বা লাইনবেটের মতো আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটে বাজি ধরছে।

​যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে এই নেটওয়ার্ক

  • ​সহজ এক্সেস: একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ এই চক্রে যুক্ত হতে পারছে।
  • ​লেনদেনের সহজ মাধ্যম: বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে সহজেই টাকা লেনদেন করা হচ্ছে।
  • ​এজেন্টদের তৎপরতা: স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে, যারা সাধারণ তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে এই পথে নামাচ্ছে।

​ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম

​স্থানীয় অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। পকেটে টাকা না থাকলে তারা বাড়ি থেকে টাকা চুরি করছে বা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

​এক ভুক্তভোগী বাবা জানান, "আমার ছেলে কলেজের পড়ার খরচ জোগানোর কথা বলে টাকা নিয়ে জুয়ায় হেরেছে। এখন সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।"

​প্রশাসনের বক্তব্য

​অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। জুয়ার সাইটগুলো বন্ধের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

​গোদাগাড়ী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় এটি দমনে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​উপসংহার: গোদাগাড়ীর তরুণ প্রজন্মকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


গোদাগাড়ীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বিপথে তরুণ সমাজ, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গোদাগাড়ী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় মরণনেশা মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোনে সহজলভ্য বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবক ও শ্রমজীবী মানুষ। ফলে বাড়ছে পারিবারিক কলহ, চুরি-ছিনতাই এবং সামাজিক অস্থিরতা।

​গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই জুয়ার জাল

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের চা-দোকান, মোড় ও নির্জন এলাকায় তরুণদের জটলা বেঁধে স্মার্টফোনে মগ্ন থাকতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে গেম খেলছে মনে হলেও বাস্তবে তারা ওয়ান-এক্স বেট, মেলবেট বা লাইনবেটের মতো আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটে বাজি ধরছে।

​যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে এই নেটওয়ার্ক

  • ​সহজ এক্সেস: একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ এই চক্রে যুক্ত হতে পারছে।
  • ​লেনদেনের সহজ মাধ্যম: বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে সহজেই টাকা লেনদেন করা হচ্ছে।
  • ​এজেন্টদের তৎপরতা: স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে, যারা সাধারণ তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে এই পথে নামাচ্ছে।

​ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম

​স্থানীয় অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। পকেটে টাকা না থাকলে তারা বাড়ি থেকে টাকা চুরি করছে বা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

​এক ভুক্তভোগী বাবা জানান, "আমার ছেলে কলেজের পড়ার খরচ জোগানোর কথা বলে টাকা নিয়ে জুয়ায় হেরেছে। এখন সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।"

​প্রশাসনের বক্তব্য

​অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। জুয়ার সাইটগুলো বন্ধের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

​গোদাগাড়ী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় এটি দমনে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​উপসংহার: গোদাগাড়ীর তরুণ প্রজন্মকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত