নির্বাচননির্বাচন

ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আইনসভার উচ্চকক্ষের প্রস্তাব: রংপুরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ

শেয়ার করুন
অ+ অ-

রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি ভোটের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী, সংসদীয় ও দলীয় নেতৃত্ব—এই তিন ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হওয়ার সুযোগেই ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম হয়।

তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতা থেকেই জুলাই সনদে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গণভোটের সরকারের পক্ষে প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে ‘টিক’ চিহ্নে সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হতে হবে।

রংপুর বিভাগের কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এবং রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ মজিদ আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয় তারা মূলত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই একটি দানবীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণেই জনগণ বারবার ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতে জিম্মি হয়েছে। তাই যারা আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায় তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে গড়ে না ওঠায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আইনসভার উচ্চকক্ষের প্রস্তাব: রংপুরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি ভোটের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী, সংসদীয় ও দলীয় নেতৃত্ব—এই তিন ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হওয়ার সুযোগেই ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম হয়।

তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতা থেকেই জুলাই সনদে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গণভোটের সরকারের পক্ষে প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে ‘টিক’ চিহ্নে সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হতে হবে।

রংপুর বিভাগের কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এবং রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ মজিদ আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয় তারা মূলত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই একটি দানবীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণেই জনগণ বারবার ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতে জিম্মি হয়েছে। তাই যারা আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায় তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে গড়ে না ওঠায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত