নির্বাচন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওশতী বাজার, উচাখিলা ও তারুন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনী মাঠে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে যৌথবাহিনীর এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্যগুলো হলো— অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের ডি.এস. কামিল মাদ্রাসায় সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা ও স্পর্শকাতর স্থানে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠে রয়েছে পৃথক অভিযানিক দল ও গোয়েন্দা সংস্থা, যারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস, ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম, সেনা ক্যাপ্টেন আবির, থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রজিত কুমার দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহাম্মেদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রনি আহমেদ, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুনিয়া সুলতানা এবং সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথবাহিনীর সক্রিয় অভিযান শুরু করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও যৌথবাহিনীর অভিযান ও মহড়া অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ঈশ্বরগঞ্জ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ইউএনও আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে যারা সন্দেহ, গুজব ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদেরও কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওশতী বাজার, উচাখিলা ও তারুন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনী মাঠে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে যৌথবাহিনীর এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্যগুলো হলো— অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের ডি.এস. কামিল মাদ্রাসায় সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা ও স্পর্শকাতর স্থানে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠে রয়েছে পৃথক অভিযানিক দল ও গোয়েন্দা সংস্থা, যারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস, ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম, সেনা ক্যাপ্টেন আবির, থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রজিত কুমার দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহাম্মেদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রনি আহমেদ, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুনিয়া সুলতানা এবং সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথবাহিনীর সক্রিয় অভিযান শুরু করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও যৌথবাহিনীর অভিযান ও মহড়া অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ঈশ্বরগঞ্জ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ইউএনও আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে যারা সন্দেহ, গুজব ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদেরও কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
