ইসলাম ও জীবন
বৃহত্তর সুন্নী জোটপ্রার্থী, অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ বদরুর রেজা সেলিম (মিষ্টি ভাই/ মিষ্টি হুজুর) বহুবল–নবীগঞ্জ আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই মনোনয়ন কেবল একজন ব্যক্তির নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি দর্শন এবং একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিনিধিত্ব করে। আজকের প্রশ্ন হলো—আমরা কেন তাঁকে ভোট দেব? সর্বোত্তম জবাব হলো, মূল মসনদ হোক ইসলামের আদলে। এবার আসুন—
প্রথমত, সুন্নীয়তের পথে আল্লাহ ও রাসূল ﷺ–এর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সুন্নীয়ত কোনো সংকীর্ণ মতবাদ নয়; বরং এটি ইসলামের মৌলিক, ভারসাম্যপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক ব্যাখ্যা। এই পথ মানুষকে বিভেদ নয়, ঐক্যের দিকে আহ্বান করে; হিংসা নয়, শান্তির দিকে পরিচালিত করে।
দ্বিতীয়ত, একটি অহিংস, আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার আশ্রয়স্থল, শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়ভিত্তিক এবং আইন হবে সবার জন্য সমান।
তৃতীয়ত, সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এই আদর্শের অন্যতম মূল স্তম্ভ। ধর্ম, মত, শ্রেণি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়—বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সবাই হবে রাষ্ট্রের কাছে সমান। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না, কাউকে অবহেলা করা হবে না।
চতুর্থত, সবার জন্য শিক্ষা, খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা প্রদান একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার প্রতিটি নাগরিক শিক্ষিত, সুস্থ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপনের সুযোগ পায়।
পঞ্চমত, খুন, হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ ও সব ধরনের সামাজিক অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে অপরাধীর জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ মানুষের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলাই হবে প্রধান অঙ্গীকার।
ষষ্ঠত, সুদ, ঘুষ ও সকল প্রকার দুর্নীতির মূলোৎপাটন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে দেয়। তাই নৈতিকতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য।
সপ্তমত, বিংশ শতাব্দীর উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আধুনিক চিন্তা ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
অষ্টমত, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে মেধার বিকাশ ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।
নবমত, ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা সুন্নীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলাম কখনোই সন্ত্রাস, উগ্রতা বা অমানবিকতাকে সমর্থন করে না। সুন্নীয়ত সেই ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে, যা শান্তি ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।
দশমত, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
একাদশত, বহিঃবিশ্বের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে দেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
সুতরাং, সুন্নীয়তই ইসলামের মৌলিক, সরল ও সঠিক পথ—যেখানে রয়েছে ন্যায়, মানবতা, সহনশীলতা ও কল্যাণের পূর্ণতা। এখানেই নিহিত আছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সফলতা এবং মানবমুক্তির নিশ্চয়তা।
তাই একটি সুস্থ, সুন্দর, মানবিক, অহিংস ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের ভোটের আমানত সুন্নীয়তের হাতেই সোপর্দ করব। কারণ এই পথই আমাদের ভবিষ্যৎ, এই আদর্শই আমাদের মুক্তি।
লিখেছেনঃ হাসনাত
সংগ্রাহেঃ মোহাম্মদ আব্দুর রাকিব

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহত্তর সুন্নী জোটপ্রার্থী, অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ বদরুর রেজা সেলিম (মিষ্টি ভাই/ মিষ্টি হুজুর) বহুবল–নবীগঞ্জ আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই মনোনয়ন কেবল একজন ব্যক্তির নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি দর্শন এবং একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিনিধিত্ব করে। আজকের প্রশ্ন হলো—আমরা কেন তাঁকে ভোট দেব? সর্বোত্তম জবাব হলো, মূল মসনদ হোক ইসলামের আদলে। এবার আসুন—
প্রথমত, সুন্নীয়তের পথে আল্লাহ ও রাসূল ﷺ–এর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সুন্নীয়ত কোনো সংকীর্ণ মতবাদ নয়; বরং এটি ইসলামের মৌলিক, ভারসাম্যপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক ব্যাখ্যা। এই পথ মানুষকে বিভেদ নয়, ঐক্যের দিকে আহ্বান করে; হিংসা নয়, শান্তির দিকে পরিচালিত করে।
দ্বিতীয়ত, একটি অহিংস, আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার আশ্রয়স্থল, শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়ভিত্তিক এবং আইন হবে সবার জন্য সমান।
তৃতীয়ত, সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এই আদর্শের অন্যতম মূল স্তম্ভ। ধর্ম, মত, শ্রেণি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়—বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সবাই হবে রাষ্ট্রের কাছে সমান। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না, কাউকে অবহেলা করা হবে না।
চতুর্থত, সবার জন্য শিক্ষা, খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা প্রদান একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার প্রতিটি নাগরিক শিক্ষিত, সুস্থ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপনের সুযোগ পায়।
পঞ্চমত, খুন, হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ ও সব ধরনের সামাজিক অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে অপরাধীর জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ মানুষের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলাই হবে প্রধান অঙ্গীকার।
ষষ্ঠত, সুদ, ঘুষ ও সকল প্রকার দুর্নীতির মূলোৎপাটন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে দেয়। তাই নৈতিকতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য।
সপ্তমত, বিংশ শতাব্দীর উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আধুনিক চিন্তা ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
অষ্টমত, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে মেধার বিকাশ ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।
নবমত, ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা সুন্নীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলাম কখনোই সন্ত্রাস, উগ্রতা বা অমানবিকতাকে সমর্থন করে না। সুন্নীয়ত সেই ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে, যা শান্তি ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।
দশমত, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
একাদশত, বহিঃবিশ্বের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে দেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
সুতরাং, সুন্নীয়তই ইসলামের মৌলিক, সরল ও সঠিক পথ—যেখানে রয়েছে ন্যায়, মানবতা, সহনশীলতা ও কল্যাণের পূর্ণতা। এখানেই নিহিত আছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সফলতা এবং মানবমুক্তির নিশ্চয়তা।
তাই একটি সুস্থ, সুন্দর, মানবিক, অহিংস ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের ভোটের আমানত সুন্নীয়তের হাতেই সোপর্দ করব। কারণ এই পথই আমাদের ভবিষ্যৎ, এই আদর্শই আমাদের মুক্তি।
লিখেছেনঃ হাসনাত
সংগ্রাহেঃ মোহাম্মদ আব্দুর রাকিব
