আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ইসরাইলে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা আইজেনকট

ইসরাইলে নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। নির্বাচনের ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজোগ জানান, তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগটি আইজেনকটকেই দিতে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি এখন ২৮ দিন সময় পাবেন, তবে প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে আইজেনকট বর্তমানে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছে ৪৬ জনের সমর্থন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে জোট সরকার গঠনই সেখানকার স্বাভাবিক চিত্র। তবে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট জোট দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই ফলাফল আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের অন্যতম কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যদিও নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোর সাথে জোট না গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে দেশটিতে সবসময়ই জোট সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পর সরকার গঠনের তিনটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়েছে।

প্রথমটি হলো নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন।

দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের প্রচেষ্টা, যেখানে আইজেনকট জোটের এমপিদের ভাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকটের সরকার গঠন। যদিও আইজেনকট ও তার ব্লকের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠনের প্রস্তাব বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন, তবে পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

এর পাশাপাশি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সাথে চুক্তির পথটিও আইজেনকটের জন্য খোলা রয়েছে, তবে বিষয়টি বেশ জটিল। এর আগে ২০২০ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নেতানিয়াহু এবং বেনি গ্যান্টস রোটেশনাল বা আবর্তক সরকার গঠনের চুক্তি করেছিলেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের সময়কালে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইসরাইলে তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল গভর্মেন্ট) ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরাইল।

Public Voice

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


ইসরাইলে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা আইজেনকট

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজোগ জানান, তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগটি আইজেনকটকেই দিতে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি এখন ২৮ দিন সময় পাবেন, তবে প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে আইজেনকট বর্তমানে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছে ৪৬ জনের সমর্থন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে জোট সরকার গঠনই সেখানকার স্বাভাবিক চিত্র। তবে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট জোট দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই ফলাফল আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের অন্যতম কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যদিও নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোর সাথে জোট না গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে দেশটিতে সবসময়ই জোট সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পর সরকার গঠনের তিনটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়েছে।

প্রথমটি হলো নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন।

দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের প্রচেষ্টা, যেখানে আইজেনকট জোটের এমপিদের ভাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকটের সরকার গঠন। যদিও আইজেনকট ও তার ব্লকের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠনের প্রস্তাব বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন, তবে পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

এর পাশাপাশি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সাথে চুক্তির পথটিও আইজেনকটের জন্য খোলা রয়েছে, তবে বিষয়টি বেশ জটিল। এর আগে ২০২০ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নেতানিয়াহু এবং বেনি গ্যান্টস রোটেশনাল বা আবর্তক সরকার গঠনের চুক্তি করেছিলেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের সময়কালে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইসরাইলে তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল গভর্মেন্ট) ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরাইল।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত