চট্টগ্রামচট্টগ্রাম

টেকনাফে মানবপাচার বিরোধী অভিযানে সেনাসদস্য তিতাস শেখের জীবনদান

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী দলের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। শুক্রবার তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, রঙ্গীখালী পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এই সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে বিকেল ৫টার দিকে যৌথ আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছায়। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নিকটস্থ প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে এবং পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।

এই সফল অভিযানে যৌথ বাহিনী ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার জানান, অত্যন্ত ভদ্র স্বভাবের তিতাস মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য এই শোক সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তিতাস অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার এই সংবাদে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) তালুকদার বলেন, আমার ভাগিনা তিতাসের লাশ আজ বিকেলে বাড়িতে আনা হবে। মাত্র কয়েক দিন আগে সে বিয়ে করেছে; কিন্তু নতুন সংসার শুরুর আগেই তার এভাবে চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বছর দুয়েক আগে তিনি বিয়ে করেন এবং তাদের কোনো সন্তান নেই।

Public Voice

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


টেকনাফে মানবপাচার বিরোধী অভিযানে সেনাসদস্য তিতাস শেখের জীবনদান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। শুক্রবার তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, রঙ্গীখালী পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এই সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে বিকেল ৫টার দিকে যৌথ আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছায়। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নিকটস্থ প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে এবং পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।

এই সফল অভিযানে যৌথ বাহিনী ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার জানান, অত্যন্ত ভদ্র স্বভাবের তিতাস মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য এই শোক সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তিতাস অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার এই সংবাদে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) তালুকদার বলেন, আমার ভাগিনা তিতাসের লাশ আজ বিকেলে বাড়িতে আনা হবে। মাত্র কয়েক দিন আগে সে বিয়ে করেছে; কিন্তু নতুন সংসার শুরুর আগেই তার এভাবে চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বছর দুয়েক আগে তিনি বিয়ে করেন এবং তাদের কোনো সন্তান নেই।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত