আন্তর্জাতিক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে দেওয়া বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন তারা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, সহায়তা বন্ধ করলেও ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অব্যাহত থাকবে। ২০২০ সালে কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের ভোট প্রদানের সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও কোন নির্দিষ্ট তহবিল থেকে এই অর্থায়ন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার আওতায় প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ফলে বর্তমান এই ঘোষণা ও বিদ্যমান চুক্তির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওই সময়সীমার পর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।
ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ইস্যুটিকে ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই আমরা চুক্তি করেছি যে এ বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ সহায়তা বন্ধ করব। কারণ তাদের এখন আর এর প্রয়োজন নেই।’ তবে তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইসরাইলকে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, বামপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থায়নকে ‘অন্যায্যতার সংকেত’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তিনি হতে দিতে পারেন না।
ট্রাম্প বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলকে সহায়তার বিরোধিতাকারী এল-সায়েদকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন ব্যক্তিদের আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগান থেকে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার রাজনৈতিক মিত্র রিপাবলিকানদের সঙ্গে এই সমঝোতা হলেও হোয়াইট হাউস কিংবা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এটি একটি খারাপ, খুব খারাপ রাজনৈতিক বক্তব্য।’।
এদিকে, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের গত জুনের জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যে ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ১৬ ও ২০ শতাংশ। জনমতের এই পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশও এখন ইসরাইলের প্রতি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর সরকার প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় ইরানকে সহজে পরাজিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইসরাইল দিয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন তুলছেন তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পকে ইসরাইল বিশ্বাস করিয়েছিল, ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।
এর আগে অক্টোবরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আমেরিকার সহায়তা পাওয়ার পুরোনো দিন শেষ হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি মনে করি যে আমেরিকার কাছ থেকে কয়েক দশক ধরে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তবে আমাদের নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে হবে।’ বর্তমানে কংগ্রেসের বার্ষিক বাজেট পাসের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে দেওয়া বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন তারা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, সহায়তা বন্ধ করলেও ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অব্যাহত থাকবে। ২০২০ সালে কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের ভোট প্রদানের সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও কোন নির্দিষ্ট তহবিল থেকে এই অর্থায়ন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার আওতায় প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ফলে বর্তমান এই ঘোষণা ও বিদ্যমান চুক্তির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওই সময়সীমার পর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।
ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ইস্যুটিকে ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই আমরা চুক্তি করেছি যে এ বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ সহায়তা বন্ধ করব। কারণ তাদের এখন আর এর প্রয়োজন নেই।’ তবে তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইসরাইলকে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, বামপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থায়নকে ‘অন্যায্যতার সংকেত’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তিনি হতে দিতে পারেন না।
ট্রাম্প বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলকে সহায়তার বিরোধিতাকারী এল-সায়েদকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন ব্যক্তিদের আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগান থেকে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার রাজনৈতিক মিত্র রিপাবলিকানদের সঙ্গে এই সমঝোতা হলেও হোয়াইট হাউস কিংবা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এটি একটি খারাপ, খুব খারাপ রাজনৈতিক বক্তব্য।’।
এদিকে, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের গত জুনের জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যে ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ১৬ ও ২০ শতাংশ। জনমতের এই পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশও এখন ইসরাইলের প্রতি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর সরকার প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় ইরানকে সহজে পরাজিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইসরাইল দিয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন তুলছেন তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পকে ইসরাইল বিশ্বাস করিয়েছিল, ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।
এর আগে অক্টোবরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আমেরিকার সহায়তা পাওয়ার পুরোনো দিন শেষ হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি মনে করি যে আমেরিকার কাছ থেকে কয়েক দশক ধরে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তবে আমাদের নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে হবে।’ বর্তমানে কংগ্রেসের বার্ষিক বাজেট পাসের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
