অপরাধঅপরাধ

বাঘারপাড়ায় মা-ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন, তিন মাস পর স্বামী গ্রেপ্তার

বাঘারপাড়ায় মা-ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন, তিন মাস পর স্বামী গ্রেপ্তার
মৃত ছেলে ও মা সাথে জীবিত বাবা

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর ছয় বছরের সন্তানকেও হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় গৃহবধূ ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার ঘটনায় প্রায় তিন মাস পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে ফেলায় নিজের শিশুসন্তানকেও হত্যা করেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার স্থানীয় এলাকা থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খলশী গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে জুবাইদা খাতুন (৩২) ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতরে জুবাইদার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে ছিল। একই কক্ষে পাওয়া যায় শিশু জিসানের মরদেহ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির হাত-পা তোয়ালে দিয়ে বাঁধা ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত জুবাইদার ছোট ভাই জাহিদ হাসান ১০ আগস্ট রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনার আগে থেকেই জাকির ও জুবাইদার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে তথ্য পায় তদন্তকারী দল।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাকির প্রথমে তাঁর স্ত্রী জুবাইদাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় শিশু জিসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বহরামপুর বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে যান জাকির।

পরে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি মুঠোফোনে এক গৃহকর্মীকে বাড়িতে যেতে বলেন। ওই গৃহকর্মী বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে মা ও ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর সোমবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

Public Voice

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


বাঘারপাড়ায় মা-ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন, তিন মাস পর স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর ছয় বছরের সন্তানকেও হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় গৃহবধূ ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার ঘটনায় প্রায় তিন মাস পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে ফেলায় নিজের শিশুসন্তানকেও হত্যা করেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার স্থানীয় এলাকা থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খলশী গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে জুবাইদা খাতুন (৩২) ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতরে জুবাইদার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে ছিল। একই কক্ষে পাওয়া যায় শিশু জিসানের মরদেহ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির হাত-পা তোয়ালে দিয়ে বাঁধা ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত জুবাইদার ছোট ভাই জাহিদ হাসান ১০ আগস্ট রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনার আগে থেকেই জাকির ও জুবাইদার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে তথ্য পায় তদন্তকারী দল।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাকির প্রথমে তাঁর স্ত্রী জুবাইদাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় শিশু জিসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বহরামপুর বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে যান জাকির।

পরে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি মুঠোফোনে এক গৃহকর্মীকে বাড়িতে যেতে বলেন। ওই গৃহকর্মী বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে মা ও ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর সোমবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত