রংপুর
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলো নিভিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাঙের বাড়ি এলাকার ৮৩২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ২ এস সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত ও কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় বাহিনীর সেই অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সীমান্তের ওপারে হঠাৎ করেই সার্চলাইটের আলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ সদস্যরা। অন্ধকারকে পুঁজি করে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছিল তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং অন্যদের খবর দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় সীমান্তের কাছাকাছি বিএসএফ সদস্যদের টর্চলাইট জ্বালানোর চেষ্টা চালাতে এবং বেশ কয়েকজনকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানালে ও বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফ সদস্যরা পুনরায় লাইট জ্বালাতে বাধ্য হয়।
এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন, বোরহান উদ্দিন ও মনছুর আলীর মতো স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই ভারতে অবস্থানরত বাংলাভাষী মুসলিমদের 'অবৈধ' আখ্যা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা আরও জানান, বিএসএফের এ ধরনের আগ্রাসী তৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণও সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার প্রসঙ্গে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির টহল কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিন-রাত সার্বক্ষণিক সতর্কতার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া চেকপোস্টগুলোতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে দায়িত্বরত জওয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিএসএফের যেকোনো ধরনের পুশইন অপচেষ্টা কঠোরহাতে দমনের বার্তা দিয়ে তারা জানায়, সীমান্তের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত। কোনোভাবেই এ ধরনের অপচেষ্টাকে সফল হতে দেওয়া হবে না।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলো নিভিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাঙের বাড়ি এলাকার ৮৩২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ২ এস সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত ও কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় বাহিনীর সেই অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সীমান্তের ওপারে হঠাৎ করেই সার্চলাইটের আলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ সদস্যরা। অন্ধকারকে পুঁজি করে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছিল তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং অন্যদের খবর দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় সীমান্তের কাছাকাছি বিএসএফ সদস্যদের টর্চলাইট জ্বালানোর চেষ্টা চালাতে এবং বেশ কয়েকজনকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানালে ও বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফ সদস্যরা পুনরায় লাইট জ্বালাতে বাধ্য হয়।
এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন, বোরহান উদ্দিন ও মনছুর আলীর মতো স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই ভারতে অবস্থানরত বাংলাভাষী মুসলিমদের 'অবৈধ' আখ্যা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা আরও জানান, বিএসএফের এ ধরনের আগ্রাসী তৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণও সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার প্রসঙ্গে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির টহল কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিন-রাত সার্বক্ষণিক সতর্কতার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া চেকপোস্টগুলোতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে দায়িত্বরত জওয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিএসএফের যেকোনো ধরনের পুশইন অপচেষ্টা কঠোরহাতে দমনের বার্তা দিয়ে তারা জানায়, সীমান্তের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত। কোনোভাবেই এ ধরনের অপচেষ্টাকে সফল হতে দেওয়া হবে না।
