আইন-আদালতআইন-আদালত

দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর সাইমুম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিদেশযাত্রা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গুঞ্জন। তার বিরুদ্ধে ঘুস দাবির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের দেশত্যাগের খবর নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর তিনি দেশ ছেড়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাইমুমের বিদেশযাত্রায় কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তাই তার গন্তব্য বা যাত্রা নিয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

এদিকে নিজের দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, বিমানবন্দর থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ইতালি যাওয়ার গুঞ্জনকে নাকচ করে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।’।

সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে তিনি এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নজরে এলে তাকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ সাইমুম নিজেই অব্যাহতির আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এই ঘুস চাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ঘুস দেওয়া এবং নেওয়া—উভয়ই অপরাধের শামিল, তাই যারা অর্থ দিয়েছেন তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গত ১০ মার্চ তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সাইমুমের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখাই ছিল এই কমিটির কাজ। তবে কমিটির একজন সদস্যের দীর্ঘ অসুস্থতা ও অপর এক সদস্যের মায়ের মৃত্যুর কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আট মাস দেরি হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরাও অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে ছিলেন। কমিটি ১১ মার্চ প্রথম বৈঠক করলেও গত আট মাসে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।

বর্তমানে কমিটি সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকলেও যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর সাইমুম

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের দেশত্যাগের খবর নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর তিনি দেশ ছেড়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাইমুমের বিদেশযাত্রায় কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তাই তার গন্তব্য বা যাত্রা নিয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

এদিকে নিজের দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, বিমানবন্দর থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ইতালি যাওয়ার গুঞ্জনকে নাকচ করে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।’।

সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে তিনি এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নজরে এলে তাকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ সাইমুম নিজেই অব্যাহতির আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এই ঘুস চাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ঘুস দেওয়া এবং নেওয়া—উভয়ই অপরাধের শামিল, তাই যারা অর্থ দিয়েছেন তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গত ১০ মার্চ তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সাইমুমের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখাই ছিল এই কমিটির কাজ। তবে কমিটির একজন সদস্যের দীর্ঘ অসুস্থতা ও অপর এক সদস্যের মায়ের মৃত্যুর কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আট মাস দেরি হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরাও অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে ছিলেন। কমিটি ১১ মার্চ প্রথম বৈঠক করলেও গত আট মাসে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।

বর্তমানে কমিটি সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকলেও যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত