ক্যাম্পাস
আনন্দ র্যালি, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নগরবাউল জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সোমবার (২ নভেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার স্মরণে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করা শুভ লক্ষণ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা দেওয়া নয়; বরং গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হবে। এ সময় রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ২০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাসের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজধানীর বুকে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি ও ইতিবাচক উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন নগরবাউল জেমস। তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
আনন্দ র্যালি, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নগরবাউল জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সোমবার (২ নভেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার স্মরণে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করা শুভ লক্ষণ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা দেওয়া নয়; বরং গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হবে। এ সময় রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ২০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাসের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজধানীর বুকে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি ও ইতিবাচক উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন নগরবাউল জেমস। তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
