অপরাধঅপরাধ

তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিল পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নিয়ে যায়। শুক্রবার পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ওই তরুণ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ওইদিন মায়ের কাছে ‘দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি’ বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। এর পরদিনই তুরাগ নদে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে তুরাগ নদে একটি লাশ ভেসে থাকার কথা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’— মাকে এই কথা বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট কেএম তাহসিফ সাউরি। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে। দ্বীপ ছিলেন তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো কাছের বন্ধু। এর কিছুক্ষণ পরই তাহসিফ ওপর থেকে নেমে নিচে চলে আসেন এবং দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে হাত মেলান।

তদন্তকারী সূত্রগুলো সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে পৌঁছান দ্বীপ। ফুটেজে তাকে হেলমেট খুলে কাপড় দিয়ে মুখ মুছতে দেখা যায়। এরপর ৬টা ৩১ মিনিটে তাহসিফের সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন।

নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন বন্ধুকে বেশ উৎফুল্ল ও স্বাভাবিক মেজাজে দেখেছেন বলেও তিনি জানান। তবে তাহসিফের পরিবারের স্বজনদের দাবি ও ঘটনাপ্রবাহে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক মনে হচ্ছে। ঘটনার রাতে দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন এবং তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে পিবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ।

Public Voice

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিল পিবিআই

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের একটি বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নিয়ে যায়। শুক্রবার পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ওই তরুণ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ওইদিন মায়ের কাছে ‘দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি’ বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। এর পরদিনই তুরাগ নদে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে তুরাগ নদে একটি লাশ ভেসে থাকার কথা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’— মাকে এই কথা বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট কেএম তাহসিফ সাউরি। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে। দ্বীপ ছিলেন তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো কাছের বন্ধু। এর কিছুক্ষণ পরই তাহসিফ ওপর থেকে নেমে নিচে চলে আসেন এবং দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে হাত মেলান।

তদন্তকারী সূত্রগুলো সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে পৌঁছান দ্বীপ। ফুটেজে তাকে হেলমেট খুলে কাপড় দিয়ে মুখ মুছতে দেখা যায়। এরপর ৬টা ৩১ মিনিটে তাহসিফের সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন।

নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন বন্ধুকে বেশ উৎফুল্ল ও স্বাভাবিক মেজাজে দেখেছেন বলেও তিনি জানান। তবে তাহসিফের পরিবারের স্বজনদের দাবি ও ঘটনাপ্রবাহে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক মনে হচ্ছে। ঘটনার রাতে দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন এবং তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে পিবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত