অন্যান্য
আমি মিয়া সুলেমান—একজন উচ্চাভিলাষী জেন ওয়াই (Gen Y)।
আমার পথটা কখনো খুব মসৃণ ছিল না। দারিদ্র্য আমাকে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছে, ব্যর্থতা আমাকে নিজের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, প্রতিকূলতা আমাকে বারবার থামিয়ে দিতে চেয়েছে। জীবনের কোনো কোনো সময়ে পতন এসেছে, হতাশা এসেছে, নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হয়েছে।
তবু আমি থামিনি।
কারণ সময়ের সঙ্গে আমি একটি বিষয় শিখেছি—পতন মানেই পরাজয় নয়। পরাজয় তখনই, যখন পতনের পর উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে যায়।
আমার জীবনে আসা প্রতিটি আঘাত আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি করেছে। প্রতিটি প্রতিকূলতা আমাকে বুঝিয়েছে—পথ কঠিন হলেই গন্তব্য বদলে ফেলতে হয় না।
অভাব মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। কখনো কখনো অভাব স্বপ্নের আকারও ছোট করে দেয়। মানুষ প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে একসময় নিজের সম্ভাবনার কথাই ভুলে যায়।
আমি সেই ভুলটি করতে চাইনি।
আমি বিশ্বাস করি—মানুষের প্রকৃত দারিদ্র্য অর্থের অভাব নয়; স্বপ্নের দারিদ্র্যই তার সবচেয়ে গভীর নিঃস্বতা।
অর্থের অভাব আমাকে হয়তো কিছু সুযোগ থেকে দূরে রেখেছে, কিন্তু স্বপ্ন দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি।
তাই রুচির দুর্ভিক্ষের এই মহামারির মধ্যেও, যখন চারপাশে বড় স্বপ্ন দেখার মানুষ কমে যাচ্ছে, যখন অনেকেই প্রয়োজনের সীমাকেই সম্ভাবনার শেষ সীমানা মনে করছে, তখনও আমি বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ধরে রেখেছি।
কারণ আমি জানি—স্বপ্ন ছোট হয়ে গেলে জীবনও ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে।
‘উচ্চাভিলাষী’ শব্দটি অনেকের কাছে হয়তো প্রতিযোগিতা, শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা অন্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
আমার কাছে এর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অন্যকে ছাড়িয়ে নয়, গতকালের আমিকে অতিক্রম করাই আমার উচ্চাভিলাষ।
আমি কারও চেয়ে বড় হতে চাই না; আমি গতকালের নিজের চেয়ে বড় হতে চাই।
গতকাল যেখানে থেমে গিয়েছিলাম, আজ সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগোতে চাই।
গতকাল যে ভুল করেছি, আজ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
গতকাল যে ভয় আমাকে আটকে রেখেছিল, আজ সেই ভয়কে অতিক্রম করতে চাই।
গতকাল যে মানুষটি ছিলাম, আগামীকাল তার চেয়ে আরও পরিণত একজন মানুষ হতে চাই।
আমার প্রতিযোগিতা তাই অন্য কারও সঙ্গে নয়—আমার প্রতিযোগিতা আমার নিজের সঙ্গেই।
জীবনে অনেক সীমাবদ্ধতা বাইরের। আবার কিছু সীমাবদ্ধতা আমরা নিজেরাই তৈরি করি।
‘আমি পারব না’, ‘আমার দ্বারা হবে না’, ‘আমার পরিস্থিতি অনুকূলে নয়’—এই বাক্যগুলো কখনো কখনো মানুষের চারপাশে এমন এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে, যা কোনো বাইরের শক্তির চেয়েও শক্তিশালী।
আমি সেই দেয়ালের ভেতর চিরকাল থাকতে চাইনি।
স্বাধীনতার সীমারেখা আমি নিজেই এঁকেছি; আবার সেই সীমারেখা অতিক্রম করার সাহসও নিজের ভেতরেই লালন করেছি।
আমি সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করি না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সবচেয়ে বড় কারাগার অনেক সময় বাইরের দেয়াল নয়—নিজের তৈরি সীমাবদ্ধতার দেয়াল।
আমি ব্যর্থতাকে ভয় পাই না।
কারণ ব্যর্থতা আমাকে অন্তত একটি প্রশ্ন করে—কোথায় ভুল হলো?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের দুর্বলতাগুলোকে চিনেছি। কোথাও প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল, কোথাও সিদ্ধান্তের ভুল ছিল, কোথাও হয়তো সময়ের অপেক্ষা ছিল।
কিন্তু ব্যর্থতাকে শেষ কথা হিসেবে গ্রহণ করিনি।
বরং ব্যর্থতাকে বলেছি—তুমি আমাকে থামাতে এসেছ, আমি তোমার কাছ থেকেই পরবর্তী পথের শিক্ষা নেব।
প্রতিকূলতাকেও তাই অভিশাপ মনে করি না। বরং সেটিকে নিজের চরিত্র নির্মাণের উপাদান হিসেবে দেখি।
আমি জানি, আমার সব স্বপ্ন পূরণ হবে না।
সব পথ মসৃণ হবে না।
সব দরজা আমার জন্য খুলবে না।
সব লড়াইয়ে জয় আসবে না।
তবু আমি স্বপ্ন দেখব।
তবু আমি হাঁটব।
তবু আমি লড়ব।
কারণ কোনো স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেওয়া আমার কাছে আরও বড় পরাজয়।
জীবনের কাছে আমার প্রত্যাশা নিখুঁত সাফল্য নয়; প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে উন্নত করার সুযোগ।
পেছনে তাকালে দেখি, আমার জীবনের প্রতিটি পতনের ভেতরেই কোনো না কোনো উত্থানের বীজ ছিল।
কিছু ব্যর্থতা আমাকে থামিয়েছে, যাতে আমি ভুল পথটি চিনতে পারি।
কিছু প্রতিকূলতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, যাতে আমি নিজের শক্তি আবিষ্কার করতে পারি।
কিছু অভাব আমাকে বঞ্চিত করেছে, যাতে আমি প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে পারি।
তাই আজ আমি আমার অতীতকে ঘৃণা করি না।
আমার দারিদ্র্যকে লজ্জা মনে করি না।
আমার ব্যর্থতাকে অভিশাপ মনে করি না।
আমার পতনকে জীবনের শেষ অধ্যায় মনে করি না।
কারণ যে মানুষ পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে শেখে, তার কাছে পতনও এক ধরনের শিক্ষা।
আমি জানি না আমার শেষ গন্তব্য কোথায়।
হয়তো আজ যে স্বপ্নকে বিশাল মনে হচ্ছে, আগামীকাল তার চেয়েও বড় কোনো স্বপ্ন সামনে দাঁড়াবে। হয়তো কোনো কোনো স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।
কিন্তু একটি লক্ষ্য আমার কাছে পরিষ্কার—
আগামীকালের আমি যেন আজকের আমির চেয়ে ভালো হয়।
আর আজকের আমি যেন গতকালের আমিকে অতিক্রম করে।
আমি অন্যকে হারানোর জন্য দৌড়াতে চাই না। আমি নিজের থেমে থাকা সংস্করণটিকে পেছনে ফেলতে চাই।
আমার কাছে এটাই উচ্চাভিলাষ।
এটাই আমার লড়াই।
এটাই আমার পতন থেকে উত্থানের গল্প।
অন্যকে ছাড়িয়ে নয়—গতকালের আমিকে অতিক্রম করাই আমার উচ্চাভিলাষ।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
আমি মিয়া সুলেমান—একজন উচ্চাভিলাষী জেন ওয়াই (Gen Y)।
আমার পথটা কখনো খুব মসৃণ ছিল না। দারিদ্র্য আমাকে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছে, ব্যর্থতা আমাকে নিজের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, প্রতিকূলতা আমাকে বারবার থামিয়ে দিতে চেয়েছে। জীবনের কোনো কোনো সময়ে পতন এসেছে, হতাশা এসেছে, নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হয়েছে।
তবু আমি থামিনি।
কারণ সময়ের সঙ্গে আমি একটি বিষয় শিখেছি—পতন মানেই পরাজয় নয়। পরাজয় তখনই, যখন পতনের পর উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে যায়।
আমার জীবনে আসা প্রতিটি আঘাত আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাকে নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি করেছে। প্রতিটি প্রতিকূলতা আমাকে বুঝিয়েছে—পথ কঠিন হলেই গন্তব্য বদলে ফেলতে হয় না।
অভাব মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। কখনো কখনো অভাব স্বপ্নের আকারও ছোট করে দেয়। মানুষ প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে একসময় নিজের সম্ভাবনার কথাই ভুলে যায়।
আমি সেই ভুলটি করতে চাইনি।
আমি বিশ্বাস করি—মানুষের প্রকৃত দারিদ্র্য অর্থের অভাব নয়; স্বপ্নের দারিদ্র্যই তার সবচেয়ে গভীর নিঃস্বতা।
অর্থের অভাব আমাকে হয়তো কিছু সুযোগ থেকে দূরে রেখেছে, কিন্তু স্বপ্ন দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি।
তাই রুচির দুর্ভিক্ষের এই মহামারির মধ্যেও, যখন চারপাশে বড় স্বপ্ন দেখার মানুষ কমে যাচ্ছে, যখন অনেকেই প্রয়োজনের সীমাকেই সম্ভাবনার শেষ সীমানা মনে করছে, তখনও আমি বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ধরে রেখেছি।
কারণ আমি জানি—স্বপ্ন ছোট হয়ে গেলে জীবনও ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে।
‘উচ্চাভিলাষী’ শব্দটি অনেকের কাছে হয়তো প্রতিযোগিতা, শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা অন্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
আমার কাছে এর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অন্যকে ছাড়িয়ে নয়, গতকালের আমিকে অতিক্রম করাই আমার উচ্চাভিলাষ।
আমি কারও চেয়ে বড় হতে চাই না; আমি গতকালের নিজের চেয়ে বড় হতে চাই।
গতকাল যেখানে থেমে গিয়েছিলাম, আজ সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগোতে চাই।
গতকাল যে ভুল করেছি, আজ সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
গতকাল যে ভয় আমাকে আটকে রেখেছিল, আজ সেই ভয়কে অতিক্রম করতে চাই।
গতকাল যে মানুষটি ছিলাম, আগামীকাল তার চেয়ে আরও পরিণত একজন মানুষ হতে চাই।
আমার প্রতিযোগিতা তাই অন্য কারও সঙ্গে নয়—আমার প্রতিযোগিতা আমার নিজের সঙ্গেই।
জীবনে অনেক সীমাবদ্ধতা বাইরের। আবার কিছু সীমাবদ্ধতা আমরা নিজেরাই তৈরি করি।
‘আমি পারব না’, ‘আমার দ্বারা হবে না’, ‘আমার পরিস্থিতি অনুকূলে নয়’—এই বাক্যগুলো কখনো কখনো মানুষের চারপাশে এমন এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে, যা কোনো বাইরের শক্তির চেয়েও শক্তিশালী।
আমি সেই দেয়ালের ভেতর চিরকাল থাকতে চাইনি।
স্বাধীনতার সীমারেখা আমি নিজেই এঁকেছি; আবার সেই সীমারেখা অতিক্রম করার সাহসও নিজের ভেতরেই লালন করেছি।
আমি সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করি না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সবচেয়ে বড় কারাগার অনেক সময় বাইরের দেয়াল নয়—নিজের তৈরি সীমাবদ্ধতার দেয়াল।
আমি ব্যর্থতাকে ভয় পাই না।
কারণ ব্যর্থতা আমাকে অন্তত একটি প্রশ্ন করে—কোথায় ভুল হলো?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের দুর্বলতাগুলোকে চিনেছি। কোথাও প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল, কোথাও সিদ্ধান্তের ভুল ছিল, কোথাও হয়তো সময়ের অপেক্ষা ছিল।
কিন্তু ব্যর্থতাকে শেষ কথা হিসেবে গ্রহণ করিনি।
বরং ব্যর্থতাকে বলেছি—তুমি আমাকে থামাতে এসেছ, আমি তোমার কাছ থেকেই পরবর্তী পথের শিক্ষা নেব।
প্রতিকূলতাকেও তাই অভিশাপ মনে করি না। বরং সেটিকে নিজের চরিত্র নির্মাণের উপাদান হিসেবে দেখি।
আমি জানি, আমার সব স্বপ্ন পূরণ হবে না।
সব পথ মসৃণ হবে না।
সব দরজা আমার জন্য খুলবে না।
সব লড়াইয়ে জয় আসবে না।
তবু আমি স্বপ্ন দেখব।
তবু আমি হাঁটব।
তবু আমি লড়ব।
কারণ কোনো স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেওয়া আমার কাছে আরও বড় পরাজয়।
জীবনের কাছে আমার প্রত্যাশা নিখুঁত সাফল্য নয়; প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে উন্নত করার সুযোগ।
পেছনে তাকালে দেখি, আমার জীবনের প্রতিটি পতনের ভেতরেই কোনো না কোনো উত্থানের বীজ ছিল।
কিছু ব্যর্থতা আমাকে থামিয়েছে, যাতে আমি ভুল পথটি চিনতে পারি।
কিছু প্রতিকূলতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, যাতে আমি নিজের শক্তি আবিষ্কার করতে পারি।
কিছু অভাব আমাকে বঞ্চিত করেছে, যাতে আমি প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে পারি।
তাই আজ আমি আমার অতীতকে ঘৃণা করি না।
আমার দারিদ্র্যকে লজ্জা মনে করি না।
আমার ব্যর্থতাকে অভিশাপ মনে করি না।
আমার পতনকে জীবনের শেষ অধ্যায় মনে করি না।
কারণ যে মানুষ পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে শেখে, তার কাছে পতনও এক ধরনের শিক্ষা।
আমি জানি না আমার শেষ গন্তব্য কোথায়।
হয়তো আজ যে স্বপ্নকে বিশাল মনে হচ্ছে, আগামীকাল তার চেয়েও বড় কোনো স্বপ্ন সামনে দাঁড়াবে। হয়তো কোনো কোনো স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।
কিন্তু একটি লক্ষ্য আমার কাছে পরিষ্কার—
আগামীকালের আমি যেন আজকের আমির চেয়ে ভালো হয়।
আর আজকের আমি যেন গতকালের আমিকে অতিক্রম করে।
আমি অন্যকে হারানোর জন্য দৌড়াতে চাই না। আমি নিজের থেমে থাকা সংস্করণটিকে পেছনে ফেলতে চাই।
আমার কাছে এটাই উচ্চাভিলাষ।
এটাই আমার লড়াই।
এটাই আমার পতন থেকে উত্থানের গল্প।
অন্যকে ছাড়িয়ে নয়—গতকালের আমিকে অতিক্রম করাই আমার উচ্চাভিলাষ।
