অন্যান্য
তীব্র গরম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গত পাঁচ দিনে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও গরমজনিত নানা রোগে ভুগে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১২১ জন—এর মধ্যে ৬৭ জন ডায়রিয়ায়, ৪১ জন ডেঙ্গুতে এবং বাকি ১৩ জন পানিশূন্যতা, পেটব্যথা, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। হঠাৎ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ছিলেন ৬৭ জন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে, যেখানে গরমের সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈদ্যুতিক পাখার অভাব। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন রোগী জানান, তিন দিন ধরে বারান্দায় থাকতে হয়েছে তাকে, বিদ্যুৎ ও ফ্যান না থাকায় গরম ও পেটব্যথায় কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। আরেকজন রোগীর স্বজন প্রশ্ন তোলেন হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে কিনা তা নিয়ে। ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগী উদ্বেগ প্রকাশ করেন, একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া রোগী একসঙ্গে থাকায় নিজের সুস্থতা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। এছাড়া ওয়ার্ডের কাছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় নিচতলার টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হয়, যা রোগীর স্বজনদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও আরএমওসহ ৩৩টি পদের মধ্যে ১৫টি এবং জুনিয়র বিশেষজ্ঞের ১০টি পদের ৬টি শূন্য পড়ে আছে। জরুরি বিভাগে নির্ধারিত কোনো চিকিৎসকও নেই, ফলে অনেক ক্ষেত্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল চিকিৎসকদের দিয়ে রোগী দেখা হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট আরও প্রকট—১০৭টি তৃতীয় শ্রেণির পদে কর্মরত মাত্র ৬৭ জন, আর ২৯টি চতুর্থ শ্রেণির পদে মাত্র ৭ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওটি বয়, ওয়ার্ড বয়, টিকিট ক্লার্ক বা নিরাপত্তা প্রহরী কেউই নেই এই হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাপ্পি বলেন, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখো মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যেখানে মাসে গড়ে ১২-১৩ হাজার রোগী সেবা নেন। কিন্তু জনবল সংকট ও সীমিত সুবিধার কারণে জটিল রোগীদের প্রায়ই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রেফার করতে হয়, কখনো যেতে হয় বেসরকারি ক্লিনিকেও।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ রোগী আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। শুধু আশঙ্কাজনক রোগীদের রেফার করা হয়, বাকিদের ভর্তি রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু-ডায়রিয়া রোগী একসঙ্গে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, জায়গার স্বল্পতার কারণে সাময়িকভাবে এভাবে চালাতে হচ্ছে, তবে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদুল কাদিরকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। পরে তার অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
M

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
তীব্র গরম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গত পাঁচ দিনে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও গরমজনিত নানা রোগে ভুগে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১২১ জন—এর মধ্যে ৬৭ জন ডায়রিয়ায়, ৪১ জন ডেঙ্গুতে এবং বাকি ১৩ জন পানিশূন্যতা, পেটব্যথা, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। হঠাৎ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ছিলেন ৬৭ জন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে, যেখানে গরমের সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈদ্যুতিক পাখার অভাব। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন রোগী জানান, তিন দিন ধরে বারান্দায় থাকতে হয়েছে তাকে, বিদ্যুৎ ও ফ্যান না থাকায় গরম ও পেটব্যথায় কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। আরেকজন রোগীর স্বজন প্রশ্ন তোলেন হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে কিনা তা নিয়ে। ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগী উদ্বেগ প্রকাশ করেন, একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া রোগী একসঙ্গে থাকায় নিজের সুস্থতা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। এছাড়া ওয়ার্ডের কাছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় নিচতলার টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হয়, যা রোগীর স্বজনদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও আরএমওসহ ৩৩টি পদের মধ্যে ১৫টি এবং জুনিয়র বিশেষজ্ঞের ১০টি পদের ৬টি শূন্য পড়ে আছে। জরুরি বিভাগে নির্ধারিত কোনো চিকিৎসকও নেই, ফলে অনেক ক্ষেত্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল চিকিৎসকদের দিয়ে রোগী দেখা হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট আরও প্রকট—১০৭টি তৃতীয় শ্রেণির পদে কর্মরত মাত্র ৬৭ জন, আর ২৯টি চতুর্থ শ্রেণির পদে মাত্র ৭ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওটি বয়, ওয়ার্ড বয়, টিকিট ক্লার্ক বা নিরাপত্তা প্রহরী কেউই নেই এই হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাপ্পি বলেন, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখো মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যেখানে মাসে গড়ে ১২-১৩ হাজার রোগী সেবা নেন। কিন্তু জনবল সংকট ও সীমিত সুবিধার কারণে জটিল রোগীদের প্রায়ই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রেফার করতে হয়, কখনো যেতে হয় বেসরকারি ক্লিনিকেও।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ রোগী আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। শুধু আশঙ্কাজনক রোগীদের রেফার করা হয়, বাকিদের ভর্তি রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু-ডায়রিয়া রোগী একসঙ্গে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, জায়গার স্বল্পতার কারণে সাময়িকভাবে এভাবে চালাতে হচ্ছে, তবে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদুল কাদিরকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। পরে তার অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
M
