অন্যান্যঅন্যান্য

মনসা পূজা ঘিরে জমজমাট নেত্রকোনার পাঁঠার হাট

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা ঘিরে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে জমে উঠেছে পাঁঠার হাট।

 

আগামী ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা। মনসা পূজা উপলক্ষে এ দিন সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেকেই দেবী মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা, মেষ ও হাঁস বলি দিয়ে থাকেন। তাই প্রতি বছরই এ পূজাকে ঘিরে শ্রবণ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে জমে ওঠে পাঁঠার হাট। পূজার দিন যতই এগিয়ে আসে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ততই বেড়ে যায়।

 

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২ টার পর থেকে সময় বাড়ার সাথে সাথে হাটে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয় কেনাবেচার ব্যস্ততা। প্রতিটি হাটে স্থানীয়দের পালিত ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঝারি ও বড় পাঁঠা ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতে আসা বেপারীদেরও দেখা গেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পাঁঠা ১০ হাজার টাকা থেকে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঁঠা ক্রয় করতে দেখা গেছে অনেককে।

 

জেলা সদরের মৌগাতি, পুকুরিয়া, ঠাকুরাকোনা থেকে পাঁঠা কিনতে আসা জিতেন্দ্র চৌধুরী, নিরঞ্জন সরকার, তিনু রায়, পিযুষ মল্লিক সহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এলাকায় মনসা পূজা প্রচলন বেশি, প্রায় সব বাড়িতেই হয়। মনসা পূজার বাকি আর মাত্র ২ দিন। পূজাকে কেন্দ্র করে পাঁঠার বাজার বেশ জমজমাট। তাই দর কষাকষির পাশাপাশি বেচা-কেনাও ভালোই হচ্ছে। জেলার কিছু কিছু এলাকায় রড় পাঁঠা কেনা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। তাই এ সময়ে বিক্রেতারা বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় পাঁঠা কিনে এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। বাজারে ছোট সাইজের পাঁঠার দাম তূলনামূলক বেশি তবে বড় সাইজের পাঁঠার দাম অনেকটাই কম।

অন্যদিকে পাঁঠা বিক্রি করতে আসা জেলা সদরের কালিয়ারা গাবরাগাতী এলাকার ঝুটন সরকার, অরুণ সরকার, ঠাকুরাকোনা এলাকার নজরুল ইসলাম, রহমত উল্লাহসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বাজারে কয়েকশ ব্যবসায়ী পাঁঠা নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, সুনামগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে পাঁঠা এনে বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার গ্রাম ঘুরে পাঁঠা কিনে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। বাজারগুলোতে ছোট-বড় যেকোনো আকারের পাঁঠা পাওয়া যাচ্ছে। এই বছর পাঁঠার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

 

তারা জানান, ভূষিসহ পাঁঠার খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাঁঠা লালন-পালনে এ বছর খরচ একটু বেশি। তারপরও সন্তোষজনক দাম পেলে পাঁঠা বিক্রি করে দিচ্ছি।

 

বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ছুটের টাকার পরিমাণও কম নিচ্ছি এ কারণে এবার বাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি পাঁঠা ও ভেড়া এসেছে।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মনসা পূজা ঘিরে জমজমাট নেত্রকোনার পাঁঠার হাট

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা ঘিরে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে জমে উঠেছে পাঁঠার হাট।

 

আগামী ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা। মনসা পূজা উপলক্ষে এ দিন সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেকেই দেবী মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা, মেষ ও হাঁস বলি দিয়ে থাকেন। তাই প্রতি বছরই এ পূজাকে ঘিরে শ্রবণ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে জমে ওঠে পাঁঠার হাট। পূজার দিন যতই এগিয়ে আসে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ততই বেড়ে যায়।

 

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২ টার পর থেকে সময় বাড়ার সাথে সাথে হাটে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয় কেনাবেচার ব্যস্ততা। প্রতিটি হাটে স্থানীয়দের পালিত ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঝারি ও বড় পাঁঠা ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতে আসা বেপারীদেরও দেখা গেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পাঁঠা ১০ হাজার টাকা থেকে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঁঠা ক্রয় করতে দেখা গেছে অনেককে।

 

জেলা সদরের মৌগাতি, পুকুরিয়া, ঠাকুরাকোনা থেকে পাঁঠা কিনতে আসা জিতেন্দ্র চৌধুরী, নিরঞ্জন সরকার, তিনু রায়, পিযুষ মল্লিক সহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এলাকায় মনসা পূজা প্রচলন বেশি, প্রায় সব বাড়িতেই হয়। মনসা পূজার বাকি আর মাত্র ২ দিন। পূজাকে কেন্দ্র করে পাঁঠার বাজার বেশ জমজমাট। তাই দর কষাকষির পাশাপাশি বেচা-কেনাও ভালোই হচ্ছে। জেলার কিছু কিছু এলাকায় রড় পাঁঠা কেনা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। তাই এ সময়ে বিক্রেতারা বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় পাঁঠা কিনে এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। বাজারে ছোট সাইজের পাঁঠার দাম তূলনামূলক বেশি তবে বড় সাইজের পাঁঠার দাম অনেকটাই কম।

অন্যদিকে পাঁঠা বিক্রি করতে আসা জেলা সদরের কালিয়ারা গাবরাগাতী এলাকার ঝুটন সরকার, অরুণ সরকার, ঠাকুরাকোনা এলাকার নজরুল ইসলাম, রহমত উল্লাহসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বাজারে কয়েকশ ব্যবসায়ী পাঁঠা নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, সুনামগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে পাঁঠা এনে বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার গ্রাম ঘুরে পাঁঠা কিনে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। বাজারগুলোতে ছোট-বড় যেকোনো আকারের পাঁঠা পাওয়া যাচ্ছে। এই বছর পাঁঠার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

 

তারা জানান, ভূষিসহ পাঁঠার খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাঁঠা লালন-পালনে এ বছর খরচ একটু বেশি। তারপরও সন্তোষজনক দাম পেলে পাঁঠা বিক্রি করে দিচ্ছি।

 

বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ছুটের টাকার পরিমাণও কম নিচ্ছি এ কারণে এবার বাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি পাঁঠা ও ভেড়া এসেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত