ফুটবল
কামব্যাক যেন আর্জেন্টিনার জন্য স্বভাবিক ঘটনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের পর এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কামব্যাক। পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচজুড়ে জাদুকরী পারফরম্যান্স করে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই ম্যাচসেরা মেসি।
সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির নেতৃত্বে দল ঘুরে দাঁড়ায়। প্রথমে এনজো, পরে লাউতারোকে দিয়ে গোল করান মেসি। এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা এবার মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের।
আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। কারণ এটিই হবে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন বনাম দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়নের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল।
মেসির রেকর্ড ঝড়
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসি:
১০টি নকআউট অ্যাসিস্ট যা গত ৬০ বছরে অন্য কারও নেই। পেলে ও গ্রিজম্যানের আছে মাত্র ৪টি করে।
টানা ১১ ম্যাচে গোল+অ্যাসিস্ট যা ২০২২ সাল থেকে চলমান। গত ৬০ বছরে এটা দীর্ঘতম রেকর্ড।
৩৩ ম্যাচে ৩৩ গোল /অবদান ২১ গোল + ১২ অ্যাসিস্ট। এরপরেই আছেন এমবাপে ২৫টি নিয়ে।
৯৯টি সুযোগ সৃষ্টি যা গত ৬০ বছরে সর্বোচ্চ। আর ১টি করলেই ১০০ ছুঁয়ে ফেলবেন। ম্যারাডোনা আছেন ৭১টি নিয়ে ২য় স্থানে।
৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপ সেমিতে খেলা সর্বকালের বয়স্কতম আউটফিল্ডার তিনি।
রোববার ফাইনাল খেললে কাফুর পর ২য় খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন।
এক বিশ্বকাপেই ৮ গোল করে এমবাপের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে অ্যাসিস্ট তালিকায় ২য়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২টি ডুয়েল জয়, যা ২০১৪ পর তার সর্বোচ্চ সাথে ৯টি ড্রিবল, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ
আর্জেন্টিনার দলগত রেকর্ড
টানা ১৩ ম্যাচে ২+ গোল যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দীর্ঘতম।
৭ম বারের মতো ফাইনালে যা ব্রাজিলের সাথে যৌথভাবে ২য় সর্বোচ্চ। উপরে শুধু জার্মানি ৮বার।
প্রথম দল হিসেবে এক বিশ্বকাপে একাধিকবার ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোল করেছে আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬-৯০ এর পর টানা ২য় ফাইনালে এসেছে তারা। প্রথমবারের মতো ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা ২য় শিরোপার স্বপ্ন।
অন্যান্য তথ্য
লাউতারো মার্তিনেজ মেসির কাছ থেকে বিশ্বকাপে প্রথম অ্যাসিস্ট পেলেন। তিনিই প্রথম আর্জেন্টাইন যিনি এক বিশ্বকাপে বদলি নেমে একাধিক ম্যাচে গোল করলেন।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে একবার মাত্র দেখা হয়েছে তাদের। সেবার আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ গোলে।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং প্রথমবারের মতো প্রথম দুটি দল (১ নম্বর আর্জেন্টিনা বনাম ২ নম্বর স্পেন) ফাইনাল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালুর পর এটিই প্রথমবার শীর্ষ ২ দলের বিশ্বকাপ ফাইনাল।
শেষ কথা
এই বিশ্বকাপ জয় করতে পারলে ম্যারাডোনা, পেলে, এমবাপের সাথে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ফেলবে মেসি। তার কারণে স্বপ্নের শিরোপার আর মাত্র ৯০ মিনিট দূরে আর্জেন্টিনা। যদিও এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী দল কখনোই কাপ জেতেনি তবুও সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে না স্কালোনির টিম।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
কামব্যাক যেন আর্জেন্টিনার জন্য স্বভাবিক ঘটনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের পর এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কামব্যাক। পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচজুড়ে জাদুকরী পারফরম্যান্স করে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই ম্যাচসেরা মেসি।
সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির নেতৃত্বে দল ঘুরে দাঁড়ায়। প্রথমে এনজো, পরে লাউতারোকে দিয়ে গোল করান মেসি। এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা এবার মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের।
আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। কারণ এটিই হবে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন বনাম দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়নের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল।
মেসির রেকর্ড ঝড়
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসি:
১০টি নকআউট অ্যাসিস্ট যা গত ৬০ বছরে অন্য কারও নেই। পেলে ও গ্রিজম্যানের আছে মাত্র ৪টি করে।
টানা ১১ ম্যাচে গোল+অ্যাসিস্ট যা ২০২২ সাল থেকে চলমান। গত ৬০ বছরে এটা দীর্ঘতম রেকর্ড।
৩৩ ম্যাচে ৩৩ গোল /অবদান ২১ গোল + ১২ অ্যাসিস্ট। এরপরেই আছেন এমবাপে ২৫টি নিয়ে।
৯৯টি সুযোগ সৃষ্টি যা গত ৬০ বছরে সর্বোচ্চ। আর ১টি করলেই ১০০ ছুঁয়ে ফেলবেন। ম্যারাডোনা আছেন ৭১টি নিয়ে ২য় স্থানে।
৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপ সেমিতে খেলা সর্বকালের বয়স্কতম আউটফিল্ডার তিনি।
রোববার ফাইনাল খেললে কাফুর পর ২য় খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন।
এক বিশ্বকাপেই ৮ গোল করে এমবাপের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে অ্যাসিস্ট তালিকায় ২য়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২টি ডুয়েল জয়, যা ২০১৪ পর তার সর্বোচ্চ সাথে ৯টি ড্রিবল, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ
আর্জেন্টিনার দলগত রেকর্ড
টানা ১৩ ম্যাচে ২+ গোল যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দীর্ঘতম।
৭ম বারের মতো ফাইনালে যা ব্রাজিলের সাথে যৌথভাবে ২য় সর্বোচ্চ। উপরে শুধু জার্মানি ৮বার।
প্রথম দল হিসেবে এক বিশ্বকাপে একাধিকবার ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোল করেছে আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬-৯০ এর পর টানা ২য় ফাইনালে এসেছে তারা। প্রথমবারের মতো ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা ২য় শিরোপার স্বপ্ন।
অন্যান্য তথ্য
লাউতারো মার্তিনেজ মেসির কাছ থেকে বিশ্বকাপে প্রথম অ্যাসিস্ট পেলেন। তিনিই প্রথম আর্জেন্টাইন যিনি এক বিশ্বকাপে বদলি নেমে একাধিক ম্যাচে গোল করলেন।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে একবার মাত্র দেখা হয়েছে তাদের। সেবার আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ গোলে।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং প্রথমবারের মতো প্রথম দুটি দল (১ নম্বর আর্জেন্টিনা বনাম ২ নম্বর স্পেন) ফাইনাল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালুর পর এটিই প্রথমবার শীর্ষ ২ দলের বিশ্বকাপ ফাইনাল।
শেষ কথা
এই বিশ্বকাপ জয় করতে পারলে ম্যারাডোনা, পেলে, এমবাপের সাথে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ফেলবে মেসি। তার কারণে স্বপ্নের শিরোপার আর মাত্র ৯০ মিনিট দূরে আর্জেন্টিনা। যদিও এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী দল কখনোই কাপ জেতেনি তবুও সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে না স্কালোনির টিম।
