আবহওয়াআবহওয়া

ঈশ্বরগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গনে হাঁটুসমান পানি, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

টানা বৃষ্টির ঢলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি

টানা বৃষ্টিপাত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোটরাঘবপুর গ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ এবং চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ নং ছোট রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, চারপাশের সড়ক ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। কোথাও কোথাও মানুষকে পানির মধ্যেই মাছ ধরতে দেখা যায়।

যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ সংকটের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। এবারের টানা বর্ষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে গ্রামের কয়েকশ একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। চলতি মৌসুমের ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “সব জমি পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গন দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেই হবে না; টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হবে এলাকাবাসীকে।

দুর্গত এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।

Public Voice

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ঈশ্বরগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গনে হাঁটুসমান পানি, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টিপাত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোটরাঘবপুর গ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ এবং চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ নং ছোট রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, চারপাশের সড়ক ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। কোথাও কোথাও মানুষকে পানির মধ্যেই মাছ ধরতে দেখা যায়।

যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ সংকটের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। এবারের টানা বর্ষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে গ্রামের কয়েকশ একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। চলতি মৌসুমের ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “সব জমি পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গন দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেই হবে না; টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হবে এলাকাবাসীকে।

দুর্গত এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত