মতামত
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি বন্ধসহ একাধিক কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বিজ্ঞানী রউফুল আলম।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ও তাঁর প্রতিমন্ত্রী দু’জনেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন—যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
রউফুল আলম বলেন, দেশের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ধ্বংসের পথে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকদের দলীয় দাসত্বের রাজনীতি বন্ধ না করলে কখনোই শিক্ষা ব্যবস্থা জাগ্রত হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে কোথাও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় দাসত্ব নেই—আছে কেবল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব।
তিনি শিক্ষকদের জ্ঞান ও গবেষণামুখী করতে নিয়োগ, চাকরির স্থায়িত্ব এবং পদোন্নতির নীতিমালায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানো, প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মদক্ষতার ওপর ইনসেনটিভ চালুর দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম চালু করার পাশাপাশি টেনিউর ট্র্যাক ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিতে বলা হয়, একজন শিক্ষককে ৬–৭ বছর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ছাড়া স্থায়ী করে দিলে কর্মস্পৃহা কমে যায় এবং প্রশাসনিক পদে আগ্রহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। তাই উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ কমিয়ে আনা এবং পিএইচডি ছাড়া প্রমোশন বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আরও কঠোর মাপকাঠি নির্ধারণের দাবি জানান।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রউফুল আলম। তাঁর মতে, এতে শিক্ষকরা আর্থিক চাপমুক্ত হয়ে শিক্ষাদানে আরও মনোযোগী হতে পারবেন।
স্কুল-কলেজ পরিচালনা কমিটিগুলোর বর্তমান অবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অসৎ ও অশিক্ষিত ব্যক্তিরা কমিটি দখল করে রেখেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শিক্ষিত পেশাজীবী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও উপহার গ্রহণের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আফটার স্কুল’ প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দিয়ে রউফুল আলম বলেন, আলাদা পরিচর্যা ও সহায়তা ছাড়া শিক্ষাগত বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।
এ ছাড়া বোর্ডের পাঠ্যবই প্রণয়নে তাড়াহুড়ো বন্ধ করে এক বছর আগে থেকে মানসম্মত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, একাধিক লেখকের লেখা বইয়ে যথাযথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
চিঠির শেষাংশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশ ও বিদেশের শিক্ষক-গবেষকদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এমন একটি বোর্ড স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করতে আগ্রহী হবে এবং নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী পরামর্শ দিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি এসব বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠির প্রেরক—
রউফুল আলম
Scientist, University of Chicago

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি বন্ধসহ একাধিক কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বিজ্ঞানী রউফুল আলম।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ও তাঁর প্রতিমন্ত্রী দু’জনেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন—যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
রউফুল আলম বলেন, দেশের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ধ্বংসের পথে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকদের দলীয় দাসত্বের রাজনীতি বন্ধ না করলে কখনোই শিক্ষা ব্যবস্থা জাগ্রত হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে কোথাও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় দাসত্ব নেই—আছে কেবল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব।
তিনি শিক্ষকদের জ্ঞান ও গবেষণামুখী করতে নিয়োগ, চাকরির স্থায়িত্ব এবং পদোন্নতির নীতিমালায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানো, প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মদক্ষতার ওপর ইনসেনটিভ চালুর দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম চালু করার পাশাপাশি টেনিউর ট্র্যাক ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিতে বলা হয়, একজন শিক্ষককে ৬–৭ বছর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ছাড়া স্থায়ী করে দিলে কর্মস্পৃহা কমে যায় এবং প্রশাসনিক পদে আগ্রহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। তাই উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ কমিয়ে আনা এবং পিএইচডি ছাড়া প্রমোশন বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আরও কঠোর মাপকাঠি নির্ধারণের দাবি জানান।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রউফুল আলম। তাঁর মতে, এতে শিক্ষকরা আর্থিক চাপমুক্ত হয়ে শিক্ষাদানে আরও মনোযোগী হতে পারবেন।
স্কুল-কলেজ পরিচালনা কমিটিগুলোর বর্তমান অবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অসৎ ও অশিক্ষিত ব্যক্তিরা কমিটি দখল করে রেখেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শিক্ষিত পেশাজীবী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও উপহার গ্রহণের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আফটার স্কুল’ প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দিয়ে রউফুল আলম বলেন, আলাদা পরিচর্যা ও সহায়তা ছাড়া শিক্ষাগত বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।
এ ছাড়া বোর্ডের পাঠ্যবই প্রণয়নে তাড়াহুড়ো বন্ধ করে এক বছর আগে থেকে মানসম্মত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, একাধিক লেখকের লেখা বইয়ে যথাযথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
চিঠির শেষাংশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশ ও বিদেশের শিক্ষক-গবেষকদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এমন একটি বোর্ড স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করতে আগ্রহী হবে এবং নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী পরামর্শ দিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি এসব বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠির প্রেরক—
রউফুল আলম
Scientist, University of Chicago
