শিক্ষাশিক্ষা

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অনিয়মের মহোৎসব: বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জনের ‘গোপন’ নিয়োগ

রিপন আলী
রিপন আলী নিজস্ব প্রতিবেদক
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অনিয়মের মহোৎসব: বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জনের ‘গোপন’ নিয়োগ
অনিয়মের আখড়ায় পরিণত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গত রোববার ৬০ জন শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা লঙ্ঘন করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জন শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ‘অবৈধ’ নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

​বিধিবহির্ভূত নিয়োগের নেপথ্যে

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী—শূন্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং দৈনিক মজুরিতে কর্মরতদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করে এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করেছে। এছাড়া বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এস আর ৬৫’-এর ২ নম্বর ধারা সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

​নিয়মানুযায়ী যেকোনো নিয়োগের জন্য একটি সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করা হয়নি। রোববার অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষে বসেই নিয়োগ ও যোগদানপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।

​নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ

​দুর্নীতি ঢাকতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপত্রে স্মারক নম্বর হিসেবে ৭৪৯ ও ৭৫০ ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল স্মারক বইয়ে (Despatch Register) এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্তদের আগে কোনো দাপ্তরিক চিঠি বা ইন্টারভিউ কার্ডও পাঠানো হয়নি; সরাসরি যোগদানের দিনই সব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

​কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ

​বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, বোর্ডে এতগুলো পদ সৃজন করা হয়নি, অথচ অবৈধভাবে ৬০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পাঁয়তারা করছিলেন। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই নিয়োগ একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখম মোফাকখারুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “সব নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। চেয়ারম্যান চাইলে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেন, এর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

​স্মারক নম্বর বহিতে না থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, দায়িত্বরত ব্যক্তি তালা মেরে বাইরে থাকায় সাদা কাগজে দুটি স্মারক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরে রেজিস্টারে তোলা হয়নি।

​কোনো পদ সৃজন না করে এবং স্বচ্ছতা বজায় না রেখে এভাবে বিপুল সংখ্যক নিয়োগ বর্তমান প্রশাসনের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অনিয়মের মহোৎসব: বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জনের ‘গোপন’ নিয়োগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জন শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ‘অবৈধ’ নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

​বিধিবহির্ভূত নিয়োগের নেপথ্যে

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী—শূন্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং দৈনিক মজুরিতে কর্মরতদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করে এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করেছে। এছাড়া বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এস আর ৬৫’-এর ২ নম্বর ধারা সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

​নিয়মানুযায়ী যেকোনো নিয়োগের জন্য একটি সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করা হয়নি। রোববার অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষে বসেই নিয়োগ ও যোগদানপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।

​নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ

​দুর্নীতি ঢাকতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপত্রে স্মারক নম্বর হিসেবে ৭৪৯ ও ৭৫০ ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল স্মারক বইয়ে (Despatch Register) এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্তদের আগে কোনো দাপ্তরিক চিঠি বা ইন্টারভিউ কার্ডও পাঠানো হয়নি; সরাসরি যোগদানের দিনই সব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

​কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ

​বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, বোর্ডে এতগুলো পদ সৃজন করা হয়নি, অথচ অবৈধভাবে ৬০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পাঁয়তারা করছিলেন। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই নিয়োগ একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখম মোফাকখারুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “সব নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। চেয়ারম্যান চাইলে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেন, এর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

​স্মারক নম্বর বহিতে না থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, দায়িত্বরত ব্যক্তি তালা মেরে বাইরে থাকায় সাদা কাগজে দুটি স্মারক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরে রেজিস্টারে তোলা হয়নি।

​কোনো পদ সৃজন না করে এবং স্বচ্ছতা বজায় না রেখে এভাবে বিপুল সংখ্যক নিয়োগ বর্তমান প্রশাসনের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত