পাঠকের কথা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম হয়েছিল, সেই সম্ভাবনাকে কার্যকর রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে রূপ দিতে পারেনি দলটি।
নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৭ আসনের সংসদে এনসিপি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন—যা দলটির আন্দোলন-পরবর্তী জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল আন্দোলনের ভাষা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধরে রাখতে না পারা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল—নতুন রাজনীতি, পুরোনো শক্তির সঙ্গে আপসহীনতা—তা ডিসেম্বর মাসে জোট গঠন ও সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা যে রাজনীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলাম, এনসিপি শেষ পর্যন্ত সেই রাজনীতির সঙ্গেই আপস করল। এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতোই লেগেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিপির প্রতি তরুণদের সমর্থন কমে যাওয়ার মূল কারণ এখানেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক গণমাধ্যমকে বলেন, “এই জোট সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। যারা নতুন রাজনৈতিক ধারার স্বপ্ন দেখেছিল, তারা এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবেই দেখেছে।” এর ফল হিসেবে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তির দিকে ভোটের ঝোঁক বাড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০০টির বেশি আসনে জয় পেয়ে দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে। দলীয় নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তবে বাংলাদেশে তারা রাজনীতিতে বেশ অগ্রসর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির বিভ্রান্ত অবস্থান বিএনপির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত—যেখানে তরুণরা শুধু সরকারবিরোধী নয়, পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক রূপ দিতে ব্যর্থ হওয়াই এনসিপির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে হলে শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন ছিল নীতিগত দৃঢ়তা, স্পষ্ট রাজনৈতিক সীমারেখা এবং আপসহীন অবস্থান—যা এনসিপি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি।
২৪-এর আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব ক্ষমতায় রূপ দেওয়ার জন্য যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশল প্রয়োজন, এনসিপি তা দেখাতে পারেনি। ফলে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রধান দাবিদার হয়েও দলটি ব্যালটের রাজনীতিতে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পায়নি।
২৪-এর আন্দোলনের ফসল শেষ পর্যন্ত গেছে অন্যের ঘরে—এনসিপি শুধু তাকিয়ে দেখেছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম হয়েছিল, সেই সম্ভাবনাকে কার্যকর রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে রূপ দিতে পারেনি দলটি।
নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৭ আসনের সংসদে এনসিপি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন—যা দলটির আন্দোলন-পরবর্তী জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল আন্দোলনের ভাষা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধরে রাখতে না পারা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল—নতুন রাজনীতি, পুরোনো শক্তির সঙ্গে আপসহীনতা—তা ডিসেম্বর মাসে জোট গঠন ও সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা যে রাজনীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলাম, এনসিপি শেষ পর্যন্ত সেই রাজনীতির সঙ্গেই আপস করল। এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতোই লেগেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিপির প্রতি তরুণদের সমর্থন কমে যাওয়ার মূল কারণ এখানেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক গণমাধ্যমকে বলেন, “এই জোট সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। যারা নতুন রাজনৈতিক ধারার স্বপ্ন দেখেছিল, তারা এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবেই দেখেছে।” এর ফল হিসেবে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তির দিকে ভোটের ঝোঁক বাড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০০টির বেশি আসনে জয় পেয়ে দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে। দলীয় নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তবে বাংলাদেশে তারা রাজনীতিতে বেশ অগ্রসর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির বিভ্রান্ত অবস্থান বিএনপির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত—যেখানে তরুণরা শুধু সরকারবিরোধী নয়, পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক রূপ দিতে ব্যর্থ হওয়াই এনসিপির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে হলে শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন ছিল নীতিগত দৃঢ়তা, স্পষ্ট রাজনৈতিক সীমারেখা এবং আপসহীন অবস্থান—যা এনসিপি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি।
২৪-এর আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব ক্ষমতায় রূপ দেওয়ার জন্য যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশল প্রয়োজন, এনসিপি তা দেখাতে পারেনি। ফলে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রধান দাবিদার হয়েও দলটি ব্যালটের রাজনীতিতে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পায়নি।
২৪-এর আন্দোলনের ফসল শেষ পর্যন্ত গেছে অন্যের ঘরে—এনসিপি শুধু তাকিয়ে দেখেছে।
