পাঠকের কথাপাঠকের কথা

কওমি মাদরাসায় জবাবদিহি ও শিশু সুরক্ষায় রেগুলেটরি কাঠামো জরুরি দরকার

কওমি মাদরাসা বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে লাখো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে ইমাম, খতিব, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় আসেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা, শিশুর অধিকার, শিক্ষার মান এবং জবাবদিহিতার জায়গা থেকেও মূল্যায়ন করা জরুরি। সেই কারণেই কওমি মাদরাসার জন্য একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত রেগুলেটরি বডি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথমত, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো না কোনো সরকারি নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হলেও অধিকাংশ কওমি মাদরাসা স্বাধীন কাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে কোথাও আর্থিক অনিয়ম, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নিপীড়ন কিংবা যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠলেও তার কার্যকর তদন্ত ও প্রতিকার অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। একটি রেগুলেটরি বডি থাকলে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি হবে।

বিশেষ করে কওমি মাদরাসায় ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যায় না। সমাজবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু বদ্ধ ও অস্বচ্ছ পরিবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়। যখন কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অতিমানবীয়, প্রশ্নাতীত কিংবা “পবিত্র” সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। অনেক ভুক্তভোগী নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনকেও “নিয়তি” বা “পরীক্ষা” হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। এতে অপরাধী নিরাপদ বোধ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষণের চক্র চালিয়ে যেতে পারে।

সমাজবিজ্ঞানী Erving Goffman তাঁর “টোটাল ইনস্টিটিউশন” ধারণায় দেখিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি একক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক আবাসিক মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের চলাফেরা, যোগাযোগ, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত জীবন এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যে তারা বাইরের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই বিচ্ছিন্নতা তাদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা, সচেতনতা ও অভিযোগ জানানোর সাহস কমিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতা অনেক সময় অপরাধের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। “প্রতিষ্ঠানের সুনাম” রক্ষার নামে যদি অভিযোগ গোপন করা হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কারণ তারা জানে, তাদের কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কার্যকর ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নেই। এখানেই সরকার নিয়ন্ত্রিত তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শিশু সুরক্ষার প্রশ্নেও একটি রেগুলেটরি বডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবাসিক পরিবেশে নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষক যাচাই, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, অভিভাবক যোগাযোগ, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা এবং নিয়মিত বাহ্যিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা গেলে অনেক ঝুঁকি কমে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষাবিষয়ক সচেতনতাও নিশ্চিত করা জরুরি।

এখানে “পাওয়ার ডিসট্যান্স” বা ক্ষমতার দূরত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক যদি এমন হয় যেখানে প্রশ্ন করা, দ্বিমত পোষণ করা বা প্রতিবাদ করাকে “বেয়াদবি” বা ধর্মীয় অবাধ্যতা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ভুক্তভোগীরা নীরব থাকতে বাধ্য হয়। এই নীরবতা ধীরে ধীরে “স্ট্রাকচারাল সায়লেন্স” বা কাঠামোগত নীরবতায় রূপ নেয়, যা অপরাধকে টিকিয়ে রাখে। তাই একটি স্বাস্থ্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভয়ভিত্তিক সংস্কৃতির পরিবর্তে মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যও একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দরকার। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নাগরিক শিক্ষা যুক্ত করা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সমাজে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নেও রাষ্ট্রীয় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ সমস্যাকে পুরো ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। অপরাধীর দায় ব্যক্তিগত ও কাঠামোগত—ধর্মের নয়। অধিকাংশ কওমি মাদরাসা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয় এবং বহু আলেম সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু ভয়াবহ ঘটনা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখেই স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আলেম সমাজকেই। কারণ ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে যারা নির্যাতন চালায়, তারা শুধু একজন শিশুর জীবন ধ্বংস করে না; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মনে রাখতে হবে, সুরক্ষার নামে যে গোপনীয়তা অপরাধকে আড়াল করে, তা ধর্মের নয়—বরং পাপের সহায়ক।

আজকের পৃথিবীতে কোনো শিক্ষাব্যবস্থাই সম্পূর্ণ জবাবদিহিতার বাইরে থাকতে পারে না। তাই কওমি মাদরাসাগুলোকে আরও নিরাপদ, আধুনিক, মানবিক ও গ্রহণযোগ্য করতে একটি কার্যকর সরকার নিয়ন্ত্রিত রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

লেখক- শিক্ষানুরাগী ও সামাজিক অ্যাক্টিভিস্ট 

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কওমি মাদরাসায় জবাবদিহি ও শিশু সুরক্ষায় রেগুলেটরি কাঠামো জরুরি দরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

কওমি মাদরাসা বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে লাখো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে ইমাম, খতিব, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় আসেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা, শিশুর অধিকার, শিক্ষার মান এবং জবাবদিহিতার জায়গা থেকেও মূল্যায়ন করা জরুরি। সেই কারণেই কওমি মাদরাসার জন্য একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত রেগুলেটরি বডি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথমত, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো না কোনো সরকারি নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হলেও অধিকাংশ কওমি মাদরাসা স্বাধীন কাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে কোথাও আর্থিক অনিয়ম, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নিপীড়ন কিংবা যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠলেও তার কার্যকর তদন্ত ও প্রতিকার অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। একটি রেগুলেটরি বডি থাকলে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি হবে।

বিশেষ করে কওমি মাদরাসায় ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যায় না। সমাজবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু বদ্ধ ও অস্বচ্ছ পরিবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়। যখন কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অতিমানবীয়, প্রশ্নাতীত কিংবা “পবিত্র” সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। অনেক ভুক্তভোগী নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনকেও “নিয়তি” বা “পরীক্ষা” হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। এতে অপরাধী নিরাপদ বোধ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষণের চক্র চালিয়ে যেতে পারে।

সমাজবিজ্ঞানী Erving Goffman তাঁর “টোটাল ইনস্টিটিউশন” ধারণায় দেখিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি একক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক আবাসিক মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের চলাফেরা, যোগাযোগ, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত জীবন এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যে তারা বাইরের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই বিচ্ছিন্নতা তাদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা, সচেতনতা ও অভিযোগ জানানোর সাহস কমিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতা অনেক সময় অপরাধের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। “প্রতিষ্ঠানের সুনাম” রক্ষার নামে যদি অভিযোগ গোপন করা হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কারণ তারা জানে, তাদের কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কার্যকর ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নেই। এখানেই সরকার নিয়ন্ত্রিত তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শিশু সুরক্ষার প্রশ্নেও একটি রেগুলেটরি বডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবাসিক পরিবেশে নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষক যাচাই, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, অভিভাবক যোগাযোগ, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা এবং নিয়মিত বাহ্যিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা গেলে অনেক ঝুঁকি কমে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষাবিষয়ক সচেতনতাও নিশ্চিত করা জরুরি।

এখানে “পাওয়ার ডিসট্যান্স” বা ক্ষমতার দূরত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক যদি এমন হয় যেখানে প্রশ্ন করা, দ্বিমত পোষণ করা বা প্রতিবাদ করাকে “বেয়াদবি” বা ধর্মীয় অবাধ্যতা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ভুক্তভোগীরা নীরব থাকতে বাধ্য হয়। এই নীরবতা ধীরে ধীরে “স্ট্রাকচারাল সায়লেন্স” বা কাঠামোগত নীরবতায় রূপ নেয়, যা অপরাধকে টিকিয়ে রাখে। তাই একটি স্বাস্থ্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভয়ভিত্তিক সংস্কৃতির পরিবর্তে মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যও একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দরকার। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নাগরিক শিক্ষা যুক্ত করা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সমাজে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নেও রাষ্ট্রীয় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ সমস্যাকে পুরো ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। অপরাধীর দায় ব্যক্তিগত ও কাঠামোগত—ধর্মের নয়। অধিকাংশ কওমি মাদরাসা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয় এবং বহু আলেম সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু ভয়াবহ ঘটনা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখেই স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আলেম সমাজকেই। কারণ ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে যারা নির্যাতন চালায়, তারা শুধু একজন শিশুর জীবন ধ্বংস করে না; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মনে রাখতে হবে, সুরক্ষার নামে যে গোপনীয়তা অপরাধকে আড়াল করে, তা ধর্মের নয়—বরং পাপের সহায়ক।

আজকের পৃথিবীতে কোনো শিক্ষাব্যবস্থাই সম্পূর্ণ জবাবদিহিতার বাইরে থাকতে পারে না। তাই কওমি মাদরাসাগুলোকে আরও নিরাপদ, আধুনিক, মানবিক ও গ্রহণযোগ্য করতে একটি কার্যকর সরকার নিয়ন্ত্রিত রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

লেখক- শিক্ষানুরাগী ও সামাজিক অ্যাক্টিভিস্ট 


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত