ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
রাজশাহী রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ধুলোবালি ও মেঠোপথ এখন সাক্ষী হচ্ছে এক অসম লড়াইয়ের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগম। হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর হাতে সময় কম, তার ওপর নেই দলীয় বিশাল কর্মী বাহিনী। তবুও দমে যাননি তিনি। একটি জীর্ণপ্রায় অটোরিকশায় চড়ে, একাই ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তিনি।
রোববার বিকেলে রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ অথচ লড়াকু দৃশ্য। অটোরিকশার হুড থেকে ঝালর খসে পড়ছে, যেন নড়বড়ে এক ঘর। তার ভেতর থেকে ফুটবল প্রতীকের প্রচারপত্র হাতে নিয়ে পথচারীদের কাছে ভোট চাইছেন হাবিবা।
প্রচারের গতি বাড়াতে এদিন সকালে স্বামী মাসুদ রানার মোটরসাইকেলে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম! হেলমেট না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাইকটি আটকে দেয়। ২৪ কিলোমিটার দূরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় আর ট্রাফিক অফিসে ধরণা দিয়েও গাড়িটি ছাড়াতে পারেননি তিনি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাবিবা বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেই কি যত বাধা? অন্য প্রার্থীরা ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর আমার বাইকটি আটকে দেওয়া হলো। বাইকটা থাকলে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারতাম।”
হাবিবা বেগমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। একসময় বিপুল ভোটে মোহনপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস কেশরহাট বাজারের চায়ের দোকানটিও গত বছর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছয়টি মামলার ঘানি টানতে হয়েছে তাঁকে, জেল খেটেছেন সাতবার। এমনকি আত্মরক্ষার্থে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে একবার দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর নামে দুটি মামলা চলমান থাকলেও তিনি সেগুলোকে হয়রানিমূলক বলেই দাবি করেন।
সাধারণত প্রার্থীদের পেছনে কর্মী-সমর্থকদের বিশাল বহর দেখা গেলেও হাবিবার ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার সাথে কেউ প্রচারণায় নামলেই তাকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হচ্ছে। সমর্থকদের ঝামেলা থেকে বাঁচাতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একাই লড়ব।” ### জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
একা লড়লেও হাবিবা মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন। উপজেলার দামকুড়া বাজারে দেখা গেল, তিনি নারী ভোটারদের নিবিড়ভাবে বুঝিয়ে ভোট চাইছেন। অনেক ভোটারই তাঁর লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করছেন। কাশিয়াডাঙ্গার ঠিকাদার আকরাম আলী জানান, হাবিবার লড়াইয়ের কথা তারা জানেন এবং অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁর জন্য কাজ করছেন।
৮০০ টাকায় ভাড়া করা অটোরিকশা আর নিজের রেকর্ড করা মাইকিং—এই সম্বল করেই হাবিবা বেগম প্রমাণ করছেন যে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ইচ্ছা থাকলে একাই পথ চলা সম্ভব। মোটরসাইকেল ফেরত পাননি, নেই কোনো দলীয় পদ বা বড় বাজেট, তবুও ফুটবলের জয়গান গেয়ে তিনি ছুটে চলেছেন পবা থেকে মোহনপুরে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ধুলোবালি ও মেঠোপথ এখন সাক্ষী হচ্ছে এক অসম লড়াইয়ের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগম। হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর হাতে সময় কম, তার ওপর নেই দলীয় বিশাল কর্মী বাহিনী। তবুও দমে যাননি তিনি। একটি জীর্ণপ্রায় অটোরিকশায় চড়ে, একাই ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তিনি।
রোববার বিকেলে রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ অথচ লড়াকু দৃশ্য। অটোরিকশার হুড থেকে ঝালর খসে পড়ছে, যেন নড়বড়ে এক ঘর। তার ভেতর থেকে ফুটবল প্রতীকের প্রচারপত্র হাতে নিয়ে পথচারীদের কাছে ভোট চাইছেন হাবিবা।
প্রচারের গতি বাড়াতে এদিন সকালে স্বামী মাসুদ রানার মোটরসাইকেলে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম! হেলমেট না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাইকটি আটকে দেয়। ২৪ কিলোমিটার দূরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় আর ট্রাফিক অফিসে ধরণা দিয়েও গাড়িটি ছাড়াতে পারেননি তিনি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাবিবা বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেই কি যত বাধা? অন্য প্রার্থীরা ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর আমার বাইকটি আটকে দেওয়া হলো। বাইকটা থাকলে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারতাম।”
হাবিবা বেগমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। একসময় বিপুল ভোটে মোহনপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস কেশরহাট বাজারের চায়ের দোকানটিও গত বছর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছয়টি মামলার ঘানি টানতে হয়েছে তাঁকে, জেল খেটেছেন সাতবার। এমনকি আত্মরক্ষার্থে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে একবার দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর নামে দুটি মামলা চলমান থাকলেও তিনি সেগুলোকে হয়রানিমূলক বলেই দাবি করেন।
সাধারণত প্রার্থীদের পেছনে কর্মী-সমর্থকদের বিশাল বহর দেখা গেলেও হাবিবার ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার সাথে কেউ প্রচারণায় নামলেই তাকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হচ্ছে। সমর্থকদের ঝামেলা থেকে বাঁচাতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একাই লড়ব।” ### জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
একা লড়লেও হাবিবা মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন। উপজেলার দামকুড়া বাজারে দেখা গেল, তিনি নারী ভোটারদের নিবিড়ভাবে বুঝিয়ে ভোট চাইছেন। অনেক ভোটারই তাঁর লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করছেন। কাশিয়াডাঙ্গার ঠিকাদার আকরাম আলী জানান, হাবিবার লড়াইয়ের কথা তারা জানেন এবং অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁর জন্য কাজ করছেন।
৮০০ টাকায় ভাড়া করা অটোরিকশা আর নিজের রেকর্ড করা মাইকিং—এই সম্বল করেই হাবিবা বেগম প্রমাণ করছেন যে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ইচ্ছা থাকলে একাই পথ চলা সম্ভব। মোটরসাইকেল ফেরত পাননি, নেই কোনো দলীয় পদ বা বড় বাজেট, তবুও ফুটবলের জয়গান গেয়ে তিনি ছুটে চলেছেন পবা থেকে মোহনপুরে।
