মতামতমতামত

যেসব গুণে প্রভাবিত তরুণ ভোটারগণ

শেয়ার করুন
অ+ অ-
যেসব গুণে প্রভাবিত তরুণ ভোটারগণ
প্রতীকি ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। অনলাইন ও অফলাইন—সবখানেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, তর্ক ও মতবিনিময়ে সক্রিয় তাঁরা। শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বেশ কয়েকজন তরুণ রাজনীতিবিদ। বিশেষ করে যাঁরা এবার প্রথমবার ভোট দেবেন, তাঁদের ভাবনা ও প্রত্যাশা ঘিরেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভোটকে তরুণেরা এখন আর কেবল মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ লক্ষ করা যাচ্ছে। অভ্যুত্থানে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকায় এবারের নির্বাচনের দিকে তাঁদের দৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের অনেকেই বলছেন, প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও ভোট দেওয়ার সুযোগকে তাঁরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তাঁদের ভাষায়, এটি একটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত—যেখানে দায়িত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তরুণ ভোটারদের মতে, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। ফলাফল যাই হোক, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁরা।

ভোটের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেউ কেউ ইতিমধ্যে পছন্দ চূড়ান্ত করেছেন। আবার অনেকে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যাচাই করে দেখছেন বলে জানান।

অধিকাংশ তরুণের মত, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এক তরুণীর ভাষায়, “আমি এখনো পর্যবেক্ষণ করছি। তাড়াহুড়া বা অন্যের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব তথ্য যাচাই করে নিজের বিবেচনায় ভোট দেব।”

ভোটের সিদ্ধান্তে কোন বিষয়গুলো প্রভাব ফেলছে—এ প্রশ্নে অনেকেই বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রার্থীদের বক্তব্য, কর্মসূচি ও অতীত কার্যক্রম সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি ও মূল্যবোধই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে জানান মারিয়া রহমান।

অন্যদিকে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আলোচনা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন নাদিয়া তাবাসসুম। তাঁর মতে, পারস্পরিক আলোচনা, যুক্তি উপস্থাপন এবং ভিন্ন মতামত শোনার মাধ্যমেই অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়।

মার্কা নাকি ব্যক্তি—এই প্রশ্নে অধিকাংশ তরুণই ব্যক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের যুক্তি, অতীতে শুধু প্রতীকের ওপর নির্ভর করে ভোট দিয়ে হতাশ হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সঠিক ব্যক্তি নির্বাচিত হলে বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, শুধু ব্যক্তি নয়—মার্কাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কা একটি রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নীতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁদের মতে, প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও কাজের রেকর্ডের পাশাপাশি দলের অবস্থানও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তরুণদের প্রত্যাশা—নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। তবে তাঁদের বড় অংশই মনে করেন, পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না। পরিবর্তনের দায়িত্ব শুধু সরকারের ওপর নয়; বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সুশীল সমাজের মতে, “এত ত্যাগের পরও যদি দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু একটি নির্বাচনেই বড় পরিবর্তন সম্ভব—এমন আশা করা কঠিন। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, সিস্টেমের পরিবর্তন এবং সমাজে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না।”

সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের বিষয়টি স্পষ্ট। সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব—এমন বিশ্বাস থেকেই তাঁরা ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


যেসব গুণে প্রভাবিত তরুণ ভোটারগণ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। অনলাইন ও অফলাইন—সবখানেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, তর্ক ও মতবিনিময়ে সক্রিয় তাঁরা। শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বেশ কয়েকজন তরুণ রাজনীতিবিদ। বিশেষ করে যাঁরা এবার প্রথমবার ভোট দেবেন, তাঁদের ভাবনা ও প্রত্যাশা ঘিরেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভোটকে তরুণেরা এখন আর কেবল মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ লক্ষ করা যাচ্ছে। অভ্যুত্থানে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকায় এবারের নির্বাচনের দিকে তাঁদের দৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের অনেকেই বলছেন, প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও ভোট দেওয়ার সুযোগকে তাঁরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তাঁদের ভাষায়, এটি একটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত—যেখানে দায়িত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তরুণ ভোটারদের মতে, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। ফলাফল যাই হোক, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁরা।

ভোটের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেউ কেউ ইতিমধ্যে পছন্দ চূড়ান্ত করেছেন। আবার অনেকে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যাচাই করে দেখছেন বলে জানান।

অধিকাংশ তরুণের মত, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এক তরুণীর ভাষায়, “আমি এখনো পর্যবেক্ষণ করছি। তাড়াহুড়া বা অন্যের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব তথ্য যাচাই করে নিজের বিবেচনায় ভোট দেব।”

ভোটের সিদ্ধান্তে কোন বিষয়গুলো প্রভাব ফেলছে—এ প্রশ্নে অনেকেই বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রার্থীদের বক্তব্য, কর্মসূচি ও অতীত কার্যক্রম সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি ও মূল্যবোধই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে জানান মারিয়া রহমান।

অন্যদিকে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আলোচনা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন নাদিয়া তাবাসসুম। তাঁর মতে, পারস্পরিক আলোচনা, যুক্তি উপস্থাপন এবং ভিন্ন মতামত শোনার মাধ্যমেই অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়।

মার্কা নাকি ব্যক্তি—এই প্রশ্নে অধিকাংশ তরুণই ব্যক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের যুক্তি, অতীতে শুধু প্রতীকের ওপর নির্ভর করে ভোট দিয়ে হতাশ হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সঠিক ব্যক্তি নির্বাচিত হলে বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, শুধু ব্যক্তি নয়—মার্কাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কা একটি রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নীতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁদের মতে, প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও কাজের রেকর্ডের পাশাপাশি দলের অবস্থানও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তরুণদের প্রত্যাশা—নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। তবে তাঁদের বড় অংশই মনে করেন, পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না। পরিবর্তনের দায়িত্ব শুধু সরকারের ওপর নয়; বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সুশীল সমাজের মতে, “এত ত্যাগের পরও যদি দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু একটি নির্বাচনেই বড় পরিবর্তন সম্ভব—এমন আশা করা কঠিন। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, সিস্টেমের পরিবর্তন এবং সমাজে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না।”

সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের বিষয়টি স্পষ্ট। সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব—এমন বিশ্বাস থেকেই তাঁরা ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।



Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত