ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
নির্বাচন এলেই কদর বাড়ে রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর বস্তির বাসিন্দাদের। মাঠের ভেজা কাপড় শুকানোর রোদে যখন মা-মেয়ের কথোপকথন চলে, তখন সেখানে ঘরকন্যার গল্পের চেয়ে প্রাধান্য পায় মিছিলের ‘বকেয়া’ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন সংসার চালানো দায়, তখন এই বস্তির নারীদের কাছে রাজনৈতিক মিছিল কেবল আদর্শের লড়াই নয়, বরং একবেলা ভাতের সংস্থান।
গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মিছিলে গেলে মাথাপিছু ১০০ টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। এখন একবেলা মিছিলে হাঁটার মজুরি মাত্র ৫০ টাকা। জনসমাগম বেশি হলে সেই দর নেমে আসছে ৪০ টাকায়। তবুও অভাবী মানুষের মিছিলে যাওয়া থামেনি। সাত দিন ধরে নিয়মিত মিছিলে যাচ্ছেন এই বস্তির অসংখ্য নারী।
টাকা দেওয়ার পদ্ধতিতে এসেছে নতুন কৌশল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জানান, এবার বরাদ্দ কম থাকায় সব টাকা একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। এক দিন হাতে রেখে আগের দিনের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে।
বস্তির মাঠে কথা হয় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার সঙ্গে। স্বামী মারা গেছেন তিন বছর আগে। মেয়ে ওষুধ কারখানায় কাজ করে নাতি-নাতনি সামলান, আর ছেলে রিকশা চালিয়ে নিজের সংসারই মেলাতে পারেন না। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা বলেন, "বাধ্য হয়েই মিছিলে ডাক পেলেই যাই।"
একই চিত্র ৬৫ বছর বয়সী এক পঙ্গু বৃদ্ধের। অচল ডান হাত নিয়ে মিছিলে যান তিনি ও তার স্ত্রী। দুজন মিলে পান ১০০ টাকা। তিনি বলেন, "ছেলেরা রিকশা চালায়, সব দিন কাজ থাকে না। সংসার চলে না বলেই পিছে পিছে হলেও মিছিলে থাকি।"
মিছিলে ভাড়ায় গেলেও ভোটের হিসাবটা এই মানুষদের কাছে একদম আলাদা। মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিলেও নিজের পছন্দের প্রার্থীর ব্যাপারে তারা সচেতন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ ও চাপের মুখে অনেকেই নিজের মতামত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। কেউ কেউ বলেন, "মিছিলে ডাকার লোক অনেক থাকলেও, ভোট দেওয়ার সময় আমরা আমাদের হিসাব বুঝি।"
স্থানীয় পর্যায়ে মিছিল আয়োজনের দায়িত্বে থাকা নেতারা স্বীকার করছেন এই করুণ বাস্তবতার কথা। তাদের মতে, কাজ নেই এমন নারী-পুরুষরাই মূলত মিছিলে যান। এক নেতা আক্ষেপ করে বলেন, "পেটের দায়ে মানুষ মিছিলে আসে, কিন্তু তাদের প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তনে কেউ নজর দেয় না।"
সারসংক্ষেপ: রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তির মহড়ায় বড় অংশ জুড়ে থাকে এই ভাসমান মানুষগুলো। ৫০ টাকার বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টা রোদে পুড়ে মিছিল করলেও, দিনশেষে অভাব আর অনিশ্চয়তাই থেকে যায় তাদের চিরস্থায়ী সঙ্গী

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন এলেই কদর বাড়ে রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর বস্তির বাসিন্দাদের। মাঠের ভেজা কাপড় শুকানোর রোদে যখন মা-মেয়ের কথোপকথন চলে, তখন সেখানে ঘরকন্যার গল্পের চেয়ে প্রাধান্য পায় মিছিলের ‘বকেয়া’ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন সংসার চালানো দায়, তখন এই বস্তির নারীদের কাছে রাজনৈতিক মিছিল কেবল আদর্শের লড়াই নয়, বরং একবেলা ভাতের সংস্থান।
গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মিছিলে গেলে মাথাপিছু ১০০ টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। এখন একবেলা মিছিলে হাঁটার মজুরি মাত্র ৫০ টাকা। জনসমাগম বেশি হলে সেই দর নেমে আসছে ৪০ টাকায়। তবুও অভাবী মানুষের মিছিলে যাওয়া থামেনি। সাত দিন ধরে নিয়মিত মিছিলে যাচ্ছেন এই বস্তির অসংখ্য নারী।
টাকা দেওয়ার পদ্ধতিতে এসেছে নতুন কৌশল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জানান, এবার বরাদ্দ কম থাকায় সব টাকা একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। এক দিন হাতে রেখে আগের দিনের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে।
বস্তির মাঠে কথা হয় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার সঙ্গে। স্বামী মারা গেছেন তিন বছর আগে। মেয়ে ওষুধ কারখানায় কাজ করে নাতি-নাতনি সামলান, আর ছেলে রিকশা চালিয়ে নিজের সংসারই মেলাতে পারেন না। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা বলেন, "বাধ্য হয়েই মিছিলে ডাক পেলেই যাই।"
একই চিত্র ৬৫ বছর বয়সী এক পঙ্গু বৃদ্ধের। অচল ডান হাত নিয়ে মিছিলে যান তিনি ও তার স্ত্রী। দুজন মিলে পান ১০০ টাকা। তিনি বলেন, "ছেলেরা রিকশা চালায়, সব দিন কাজ থাকে না। সংসার চলে না বলেই পিছে পিছে হলেও মিছিলে থাকি।"
মিছিলে ভাড়ায় গেলেও ভোটের হিসাবটা এই মানুষদের কাছে একদম আলাদা। মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিলেও নিজের পছন্দের প্রার্থীর ব্যাপারে তারা সচেতন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ ও চাপের মুখে অনেকেই নিজের মতামত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। কেউ কেউ বলেন, "মিছিলে ডাকার লোক অনেক থাকলেও, ভোট দেওয়ার সময় আমরা আমাদের হিসাব বুঝি।"
স্থানীয় পর্যায়ে মিছিল আয়োজনের দায়িত্বে থাকা নেতারা স্বীকার করছেন এই করুণ বাস্তবতার কথা। তাদের মতে, কাজ নেই এমন নারী-পুরুষরাই মূলত মিছিলে যান। এক নেতা আক্ষেপ করে বলেন, "পেটের দায়ে মানুষ মিছিলে আসে, কিন্তু তাদের প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তনে কেউ নজর দেয় না।"
সারসংক্ষেপ: রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তির মহড়ায় বড় অংশ জুড়ে থাকে এই ভাসমান মানুষগুলো। ৫০ টাকার বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টা রোদে পুড়ে মিছিল করলেও, দিনশেষে অভাব আর অনিশ্চয়তাই থেকে যায় তাদের চিরস্থায়ী সঙ্গী
