ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বগুড়া-৫ এ ভোটের হাওয়া উত্তপ্ত: ধানের শীষ–দাঁড়িপাল্লায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

বগুড়া-৫ এ ভোটের হাওয়া উত্তপ্ত: ধানের শীষ–দাঁড়িপাল্লায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়া-৫ (ধুনট–শেরপুর) আসনে ক্রমেই জমে উঠছে নির্বাচনী লড়াই। ভোটের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ও চা–স্টলে নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও ভোটারদের আগ্রহ বিশ্লেষণে এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইসি ঘোষিত নতুন নিয়মে পোস্টারবিহীন প্রচারণার কারণে এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা। গানের তালে তালে স্লোগান, ছোট ছোট সভা ও সরাসরি ভোটার সংলাপে মুখর হয়ে উঠেছে ধুনট ও শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মীর মো. মাহমুদুর রহমান চুন্নু (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত খান কুদরত-ই-সাকলায়েন (ছাতা)। তবে প্রচার-প্রচারণা ও জনমত বিশ্লেষণে মূল লড়াই সীমিত হয়ে এসেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সচেতন মহলের মতে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ধুনট ও শেরপুর—দুই উপজেলাতেই ভোটারদের আলোচনায় প্রধানত এই দুই প্রতীকের কথাই উঠে আসছে। কেউ মনে করছেন সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের জনপ্রিয়তা ও সংগঠিত ভোটব্যাংক তাকে এগিয়ে রাখছে, আবার অনেকে বলছেন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ দাঁড়িপাল্লাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন। এই বিপুল ভোটার সংখ্যার সমীকরণই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের ভাগ্য।

ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি থাকাকালীন এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাদের মতে, বিএনপির সুসংগঠিত ভোটব্যাংক, স্থানীয় নেতৃত্ব ও তারুণ্যের সমর্থন তার বড় শক্তি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমানের সমর্থকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত তিনটি নির্বাচন একপাক্ষিক হলেও এবারের নির্বাচন মোটেও একপাক্ষিক হচ্ছে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মাঠের পরিস্থিতি, প্রচার-প্রচারণার গতি ও ভোটারদের আলোচনায় স্পষ্ট—এবারের লড়াই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা কার গলায় উঠবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে নির্বাচনী উত্তাপ, ভোটারদের আগ্রহ ও প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সক্রিয়তায় বগুড়া-৫ (ধুনট–শেরপুর) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকেই এগোচ্ছে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


বগুড়া-৫ এ ভোটের হাওয়া উত্তপ্ত: ধানের শীষ–দাঁড়িপাল্লায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়া-৫ (ধুনট–শেরপুর) আসনে ক্রমেই জমে উঠছে নির্বাচনী লড়াই। ভোটের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ও চা–স্টলে নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও ভোটারদের আগ্রহ বিশ্লেষণে এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইসি ঘোষিত নতুন নিয়মে পোস্টারবিহীন প্রচারণার কারণে এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা। গানের তালে তালে স্লোগান, ছোট ছোট সভা ও সরাসরি ভোটার সংলাপে মুখর হয়ে উঠেছে ধুনট ও শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মীর মো. মাহমুদুর রহমান চুন্নু (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত খান কুদরত-ই-সাকলায়েন (ছাতা)। তবে প্রচার-প্রচারণা ও জনমত বিশ্লেষণে মূল লড়াই সীমিত হয়ে এসেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সচেতন মহলের মতে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ধুনট ও শেরপুর—দুই উপজেলাতেই ভোটারদের আলোচনায় প্রধানত এই দুই প্রতীকের কথাই উঠে আসছে। কেউ মনে করছেন সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের জনপ্রিয়তা ও সংগঠিত ভোটব্যাংক তাকে এগিয়ে রাখছে, আবার অনেকে বলছেন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ দাঁড়িপাল্লাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন। এই বিপুল ভোটার সংখ্যার সমীকরণই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের ভাগ্য।

ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি থাকাকালীন এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাদের মতে, বিএনপির সুসংগঠিত ভোটব্যাংক, স্থানীয় নেতৃত্ব ও তারুণ্যের সমর্থন তার বড় শক্তি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমানের সমর্থকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত তিনটি নির্বাচন একপাক্ষিক হলেও এবারের নির্বাচন মোটেও একপাক্ষিক হচ্ছে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মাঠের পরিস্থিতি, প্রচার-প্রচারণার গতি ও ভোটারদের আলোচনায় স্পষ্ট—এবারের লড়াই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা কার গলায় উঠবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে নির্বাচনী উত্তাপ, ভোটারদের আগ্রহ ও প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সক্রিয়তায় বগুড়া-৫ (ধুনট–শেরপুর) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকেই এগোচ্ছে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত