সারাদেশসারাদেশ

উন্নয়ন সংস্থার কিংবদন্তি আজাদুল কবির আরজু আর নেই

শেয়ার করুন
অ+ অ-
উন্নয়ন সংস্থার কিংবদন্তি আজাদুল কবির আরজু আর নেই
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক -আজাদুল কবির আরজু

যশোরের মাটি ও মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন সংস্থার কিংবদন্তি, প্রখ্যাত সমাজসেবক এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আজাদুল কবির আরজু। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তরুণ আরজু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে কারাবরণও করেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৫ সালে কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাগরণী চক্র’। যশোর শহরে শুরু করেন ব্যবহারিক বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র—যার শিক্ষার্থী ছিলেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।

সেই ছোট্ট শুরু থেকে অর্ধশত বছরের পথচলায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন আজ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, মানবাধিকার এবং সমাজ উন্নয়নে তার আজীবনের সংগ্রাম তাকে সমাজসেবা খাতের উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছে।

সহকর্মী ও পরিচিত মহলে আজাদুল কবির আরজুকে সবাই চিনতেন একজন বিনয়ী, নিরহংকারী ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তার পেশাদারিত্বে যেমন ছিল শৈল্পিক ছোঁয়া, তেমনি ছিল প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক অদম্য প্রত্যয়।

তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গুণীজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। উন্নয়ন ও সমাজসেবা খাতে সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা—যে শূন্যতা শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, মানুষের হৃদয়ের ভেতরেও দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন জাগরণের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করে। সেই উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজাদুল কবির আরজুর বিদায় যেন সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আরও গভীর বেদনা হয়ে নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় সহ সকল শাখা অফিস আগামীকাল রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


উন্নয়ন সংস্থার কিংবদন্তি আজাদুল কবির আরজু আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

যশোরের মাটি ও মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন সংস্থার কিংবদন্তি, প্রখ্যাত সমাজসেবক এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আজাদুল কবির আরজু। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তরুণ আরজু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে কারাবরণও করেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৫ সালে কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাগরণী চক্র’। যশোর শহরে শুরু করেন ব্যবহারিক বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র—যার শিক্ষার্থী ছিলেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।

সেই ছোট্ট শুরু থেকে অর্ধশত বছরের পথচলায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন আজ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, মানবাধিকার এবং সমাজ উন্নয়নে তার আজীবনের সংগ্রাম তাকে সমাজসেবা খাতের উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছে।

সহকর্মী ও পরিচিত মহলে আজাদুল কবির আরজুকে সবাই চিনতেন একজন বিনয়ী, নিরহংকারী ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তার পেশাদারিত্বে যেমন ছিল শৈল্পিক ছোঁয়া, তেমনি ছিল প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক অদম্য প্রত্যয়।

তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গুণীজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। উন্নয়ন ও সমাজসেবা খাতে সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা—যে শূন্যতা শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, মানুষের হৃদয়ের ভেতরেও দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন জাগরণের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করে। সেই উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজাদুল কবির আরজুর বিদায় যেন সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আরও গভীর বেদনা হয়ে নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় সহ সকল শাখা অফিস আগামীকাল রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত