কৃষিকৃষি

তীব্র শীত উপেক্ষা করে বরেন্দ্রজুড়ে বোরো রোপণের ধুম কমেছে আলুর আবাদ

শেয়ার করুন
অ+ অ-
তীব্র শীত উপেক্ষা করে বরেন্দ্রজুড়ে বোরো রোপণের ধুম কমেছে আলুর আবাদ
বরেন্দ্রজুড়ে বোরো রোপণের ধুম: তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দমাতে পারেনি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের। রোববার গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নে কনকনে ঠান্ডার মাঝে কাদা-পানিতে নেমে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষি শ্রমিকরা। তবে বোরোতে আগ্রহ বাড়লেও এই অঞ্চলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

মাঘের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশাকে জয় করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের কাজ। তবে বোরো নিয়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা থাকলেও, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর আবাদ লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

​মাঠে মাঠে চলছে কর্মযজ্ঞ

​গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মাঝেও কৃষকরা ঘরে বসে নেই। কাকডাকা ভোরে কুয়াশা মোড়ানো মাঠের কাদা-পানিতে নেমে পড়েছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ দলবেঁধে চারা রোপণ করছেন।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লেও বোরো রোপণের উপযুক্ত সময় পার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডাকেই মেনে নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হলে এবার বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।

​আলুর আবাদে বড় ধস

​এদিকে বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে আলুর আবাদে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কমেছে।

​আবাদ কমার নেপথ্যে কৃষকরা মূলত তিনটি কারণকে দায়ী করছেন:

১. কৃষি উপকরণের ঊর্ধ্বগতি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া।

২. গত মৌসুমে আলুর দাম ও সংরক্ষণ নিয়ে নানা জটিলতা।

৩. ঝুঁকি এড়াতে আলুর পরিবর্তে ধান চাষের প্রতি কৃষকদের অধিক আগ্রহ।

​কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ

​রিশিকুল এলাকার মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আলুর আবাদ কমলেও তা বোরো ধান উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকরা যাতে এই তীব্র শীতেও কোল্ড ইনজুরি থেকে ধানের চারা রক্ষা করতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বীজতলায় পানি রাখা এবং দিনের বেলা পানি বের করে দেওয়ার মতো কৌশলগুলো কৃষকদের জানানো হচ্ছে।

​মাঠের এই ব্যস্ততা বলে দিচ্ছে, তীব্র শীত কৃষি অর্থনীতিতে কোনো বাধা হতে পারছে না। তবে আলুর আবাদ কমে যাওয়া ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজারে সবজির দামে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


তীব্র শীত উপেক্ষা করে বরেন্দ্রজুড়ে বোরো রোপণের ধুম কমেছে আলুর আবাদ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মাঘের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশাকে জয় করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের কাজ। তবে বোরো নিয়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা থাকলেও, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর আবাদ লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

​মাঠে মাঠে চলছে কর্মযজ্ঞ

​গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মাঝেও কৃষকরা ঘরে বসে নেই। কাকডাকা ভোরে কুয়াশা মোড়ানো মাঠের কাদা-পানিতে নেমে পড়েছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ দলবেঁধে চারা রোপণ করছেন।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লেও বোরো রোপণের উপযুক্ত সময় পার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডাকেই মেনে নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হলে এবার বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।

​আলুর আবাদে বড় ধস

​এদিকে বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে আলুর আবাদে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কমেছে।

​আবাদ কমার নেপথ্যে কৃষকরা মূলত তিনটি কারণকে দায়ী করছেন:

১. কৃষি উপকরণের ঊর্ধ্বগতি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া।

২. গত মৌসুমে আলুর দাম ও সংরক্ষণ নিয়ে নানা জটিলতা।

৩. ঝুঁকি এড়াতে আলুর পরিবর্তে ধান চাষের প্রতি কৃষকদের অধিক আগ্রহ।

​কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ

​রিশিকুল এলাকার মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আলুর আবাদ কমলেও তা বোরো ধান উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকরা যাতে এই তীব্র শীতেও কোল্ড ইনজুরি থেকে ধানের চারা রক্ষা করতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বীজতলায় পানি রাখা এবং দিনের বেলা পানি বের করে দেওয়ার মতো কৌশলগুলো কৃষকদের জানানো হচ্ছে।

​মাঠের এই ব্যস্ততা বলে দিচ্ছে, তীব্র শীত কৃষি অর্থনীতিতে কোনো বাধা হতে পারছে না। তবে আলুর আবাদ কমে যাওয়া ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজারে সবজির দামে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত