মতামতমতামত

ভয়ভীতি ও পেশিশক্তিতে নয়, ভোট হোক বিবেকের রায়ে

ভয়ভীতি ও পেশিশক্তিতে নয়, ভোট হোক বিবেকের রায়ে
সংগৃহীত

নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো জনগণের স্বাধীন মতামত ও বিবেকের আলোকে ভোটাধিকার প্রয়োগ। কিন্তু বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, কিছু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল জনগণের আস্থা, যোগ্যতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমর্থন অর্জনের পরিবর্তে ভয়ভীতি, পেশিশক্তির ব্যবহার, অর্থ, উপহার কিংবা প্রভাবশালী বয়ান ও রাজনৈতিক হেজেমনিজমের মাধ্যমে ভোট আদায়ের চেষ্টা করে। এর ফলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ হারায় এবং নির্বাচনের মৌলিক উদ্দেশ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ভয়ভীতি ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি সমাজে দুর্নীতি, অনৈতিকতা ও বৈষম্যকে আরও গভীর করে তোলে। অর্থ ও ক্ষমতার জোরে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পরবর্তীতে সেই বিনিয়োগের অর্থ ও প্রভাব পুনরুদ্ধারে অবৈধ ও অন্যায় পথে হাঁটে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ঘটে এবং সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বয়ান ও হেজেমনিজমের মাধ্যমে একপেশে চিন্তা চাপিয়ে দিয়ে জনগণের প্রকৃত মতামতকে আড়াল করা হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়ভীতি, পেশিশক্তি, অর্থ ও হেজেমনিক বয়ানের মাধ্যমে ভোট আদায়ের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে যোগ্যতা, সততা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সচেতন ভোটার ও নৈতিক রাজনীতিই পারে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। এই অনৈতিক ও অবৈধ প্রথা বিলুপ্ত করতে কোনো একক পক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং প্রার্থী, জনগণ ও সরকারের সম্মিলিত, দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য।

কোনো প্রার্থী যেন অর্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি কিংবা বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ানের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে—সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভোটাররা যেন নিরাপদে, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত সব অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

সর্বোপরি প্রার্থী, জনগণ ও সরকার—এই তিন পক্ষের সম্মিলিত ও নৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভয়ভীতি, পেশিশক্তি ও হেজেমনিজমনির্ভর ভোট আদায়ের অনৈতিক প্রথা বিলুপ্ত করা সম্ভব। এতে একটি সুস্থ, স্বচ্ছ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত হবে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ভয়ভীতি ও পেশিশক্তিতে নয়, ভোট হোক বিবেকের রায়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো জনগণের স্বাধীন মতামত ও বিবেকের আলোকে ভোটাধিকার প্রয়োগ। কিন্তু বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, কিছু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল জনগণের আস্থা, যোগ্যতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমর্থন অর্জনের পরিবর্তে ভয়ভীতি, পেশিশক্তির ব্যবহার, অর্থ, উপহার কিংবা প্রভাবশালী বয়ান ও রাজনৈতিক হেজেমনিজমের মাধ্যমে ভোট আদায়ের চেষ্টা করে। এর ফলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ হারায় এবং নির্বাচনের মৌলিক উদ্দেশ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ভয়ভীতি ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি সমাজে দুর্নীতি, অনৈতিকতা ও বৈষম্যকে আরও গভীর করে তোলে। অর্থ ও ক্ষমতার জোরে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পরবর্তীতে সেই বিনিয়োগের অর্থ ও প্রভাব পুনরুদ্ধারে অবৈধ ও অন্যায় পথে হাঁটে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ঘটে এবং সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বয়ান ও হেজেমনিজমের মাধ্যমে একপেশে চিন্তা চাপিয়ে দিয়ে জনগণের প্রকৃত মতামতকে আড়াল করা হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়ভীতি, পেশিশক্তি, অর্থ ও হেজেমনিক বয়ানের মাধ্যমে ভোট আদায়ের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে যোগ্যতা, সততা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সচেতন ভোটার ও নৈতিক রাজনীতিই পারে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। এই অনৈতিক ও অবৈধ প্রথা বিলুপ্ত করতে কোনো একক পক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং প্রার্থী, জনগণ ও সরকারের সম্মিলিত, দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য।

কোনো প্রার্থী যেন অর্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি কিংবা বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ানের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে—সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভোটাররা যেন নিরাপদে, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত সব অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

সর্বোপরি প্রার্থী, জনগণ ও সরকার—এই তিন পক্ষের সম্মিলিত ও নৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভয়ভীতি, পেশিশক্তি ও হেজেমনিজমনির্ভর ভোট আদায়ের অনৈতিক প্রথা বিলুপ্ত করা সম্ভব। এতে একটি সুস্থ, স্বচ্ছ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত হবে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত