মতামত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি নতুন নয়। মতপ্রকাশের সংকোচন, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ—এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কি কেবল অতীতের একটি অধ্যায়, নাকি বর্তমান বাস্তবতা—এবং ভবিষ্যতে কি এটি বিলুপ্ত হবে?
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধী শক্তিকে দমন, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং পেশী শক্তির অপব্যবহার—এসবই ফ্যাসিবাদী প্রবণতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান সময়ে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঘিরে। অনেকের অভিযোগ—পেশিশক্তি ব্যবহার করে মতপ্রকাশ সংকুচিত করা হচ্ছে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্যতায় যদি বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দুর্বল হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধী কণ্ঠ রোধ চলতে থাকলে ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে আরও প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে।
বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে—গণতন্ত্র কখনো স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায় না, আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেও টিকে থাকে না। ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে জনগণের সচেতনতা, রাজনৈতিক লড়াই এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে?

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি নতুন নয়। মতপ্রকাশের সংকোচন, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ—এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কি কেবল অতীতের একটি অধ্যায়, নাকি বর্তমান বাস্তবতা—এবং ভবিষ্যতে কি এটি বিলুপ্ত হবে?
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধী শক্তিকে দমন, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং পেশী শক্তির অপব্যবহার—এসবই ফ্যাসিবাদী প্রবণতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান সময়ে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঘিরে। অনেকের অভিযোগ—পেশিশক্তি ব্যবহার করে মতপ্রকাশ সংকুচিত করা হচ্ছে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্যতায় যদি বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দুর্বল হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধী কণ্ঠ রোধ চলতে থাকলে ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে আরও প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে।
বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে—গণতন্ত্র কখনো স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায় না, আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেও টিকে থাকে না। ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে জনগণের সচেতনতা, রাজনৈতিক লড়াই এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে?
