অপরাধ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সোনাদিয়া দ্বীপে ঝাউবাগান কেটে গড়ে ওঠা ডজনখানেক কটেজে হাত বাড়ালেই সহজে মিলছে ইয়াবা, মদ, নারীসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। সমুদ্রের বালিয়াড়িতে তাবুতে রাত্রিযাপনের নানা ‘প্যাকেজ সুবিধা’র আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়লেও বাস্তবে এসব কটেজে পর্যটনের আড়ালে মাদক ও নারী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১লা জানুয়ারি রাতে সোনাদিয়ার একটি কটেজ থেকে লালমনিরহাটের এক নারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা কামনা করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্থানীয় চৌকিদার, ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং আকাশ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান এক ইউপি সদস্য।
সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩১ ডিসেম্বর পর্যটক পরিচয়ে তিন যুবক লালমনিরহাটের ভিকটিম লালমনিরহাট সদরের আহসানুল হোসাইনের মেয়ে ফাইরোজ (ছদ্মনাম) নামে এক নারীকে নিয়ে সোনাদিয়ার রাকিবের মালিকানাধীন ‘ক্যাম্পফায়ার’ নামের একটি কটেজে অবস্থান করেন সামি,আকাশ ও হৃদয় নামে ৩ যুবক। সেখানে রাতভর ইয়াবা ও মদ সেবনের পাশাপাশি ওই নারীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ১ জানুয়ারী নারীটি চলে যেতে চাইলে জোরপূর্বক আটকে রেখে আবারও মদ্যপান করিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পরিবার ও পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও স্থানীয়দের সহযোগিতা ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং কক্সবাজার সদরের লাইটহাউজ এলাকার আবদু ছফুর পুত্র মো: হৃদয় (২০) ও হোয়ানক পানিরছড়া এলাকার আবদুস সালামের পুত্র মোঃ আকতার হামিদ আকাশ (২২) আটক করে। বড় মহেশখালীর শরীফ বাদশার ছেলে সামি পালিয়ে যায় বলে সূত্রে জানা যায়।
সোনাদিয়ায় রাত্রিযাপন করতে আসা কয়েকজন স্থানীয় পর্যটক অভিযোগ করে বলেন, “সোনাদিয়ার কটেজে কি নেই? যা চাইবেন সবই পাওয়া যায়—নারী, ইয়াবা, মদ। কটেজ পরিচালকেরাই এসবের ব্যবস্থা করে দেয়। পর্যটনের নামে এখানে মূলত মাদক ও নারী ব্যবসা চলছে। নেই কোনো নিরাপত্তা। আজ একটি মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, এটি নতুন কিছু নয়—এখানে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটে। কেউ মুখ খুললে তবেই তা গণমাধ্যমে আসে। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে।
এদিকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সোনাদিয়া দ্বীপে ঝাউবন উজাড় করে সরকারি জমি দখলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজগুলোতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা, নজরদারি বা নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই। পর্যটনের আড়ালে এসব কটেজে অবাধে নারী নিয়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্বামী–স্ত্রী না হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই যুগল হিসেবে একসঙ্গে অবস্থানের সুযোগ থাকায় দ্বীপটি ক্রমেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও কার্যকর তদারকির অভাবে এসব কটেজে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং নারীদের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দ্বীপের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে, অন্যদিকে পর্যটনের নামে সোনাদিয়ার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সুনাম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি মো মুজিবুর রহমান বলেন, সোনাদিয়ার ঘটনায় ভিকটিম নারীকে উদ্ধার ও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সোনাদিয়া দ্বীপে ঝাউবাগান কেটে গড়ে ওঠা ডজনখানেক কটেজে হাত বাড়ালেই সহজে মিলছে ইয়াবা, মদ, নারীসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। সমুদ্রের বালিয়াড়িতে তাবুতে রাত্রিযাপনের নানা ‘প্যাকেজ সুবিধা’র আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়লেও বাস্তবে এসব কটেজে পর্যটনের আড়ালে মাদক ও নারী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১লা জানুয়ারি রাতে সোনাদিয়ার একটি কটেজ থেকে লালমনিরহাটের এক নারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা কামনা করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্থানীয় চৌকিদার, ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং আকাশ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান এক ইউপি সদস্য।
সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩১ ডিসেম্বর পর্যটক পরিচয়ে তিন যুবক লালমনিরহাটের ভিকটিম লালমনিরহাট সদরের আহসানুল হোসাইনের মেয়ে ফাইরোজ (ছদ্মনাম) নামে এক নারীকে নিয়ে সোনাদিয়ার রাকিবের মালিকানাধীন ‘ক্যাম্পফায়ার’ নামের একটি কটেজে অবস্থান করেন সামি,আকাশ ও হৃদয় নামে ৩ যুবক। সেখানে রাতভর ইয়াবা ও মদ সেবনের পাশাপাশি ওই নারীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ১ জানুয়ারী নারীটি চলে যেতে চাইলে জোরপূর্বক আটকে রেখে আবারও মদ্যপান করিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পরিবার ও পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও স্থানীয়দের সহযোগিতা ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং কক্সবাজার সদরের লাইটহাউজ এলাকার আবদু ছফুর পুত্র মো: হৃদয় (২০) ও হোয়ানক পানিরছড়া এলাকার আবদুস সালামের পুত্র মোঃ আকতার হামিদ আকাশ (২২) আটক করে। বড় মহেশখালীর শরীফ বাদশার ছেলে সামি পালিয়ে যায় বলে সূত্রে জানা যায়।
সোনাদিয়ায় রাত্রিযাপন করতে আসা কয়েকজন স্থানীয় পর্যটক অভিযোগ করে বলেন, “সোনাদিয়ার কটেজে কি নেই? যা চাইবেন সবই পাওয়া যায়—নারী, ইয়াবা, মদ। কটেজ পরিচালকেরাই এসবের ব্যবস্থা করে দেয়। পর্যটনের নামে এখানে মূলত মাদক ও নারী ব্যবসা চলছে। নেই কোনো নিরাপত্তা। আজ একটি মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, এটি নতুন কিছু নয়—এখানে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটে। কেউ মুখ খুললে তবেই তা গণমাধ্যমে আসে। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে।
এদিকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সোনাদিয়া দ্বীপে ঝাউবন উজাড় করে সরকারি জমি দখলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজগুলোতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা, নজরদারি বা নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই। পর্যটনের আড়ালে এসব কটেজে অবাধে নারী নিয়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্বামী–স্ত্রী না হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই যুগল হিসেবে একসঙ্গে অবস্থানের সুযোগ থাকায় দ্বীপটি ক্রমেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও কার্যকর তদারকির অভাবে এসব কটেজে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং নারীদের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দ্বীপের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে, অন্যদিকে পর্যটনের নামে সোনাদিয়ার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সুনাম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি মো মুজিবুর রহমান বলেন, সোনাদিয়ার ঘটনায় ভিকটিম নারীকে উদ্ধার ও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
