ক্যাম্পাস
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেড়িয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসনিক হল আজও নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন সমস্যা, গরমে পানির সংকট, এক রুমে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী,এক বিছানায় একাধিক শিক্ষার্থী—এসব সমস্যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। হলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানির সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, নিম্নমানের খাবার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল—বিজয় ২৪ হল, শের-ই-বাংলা হল, সুফিয়া কামাল হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এই দুরবস্থার চিত্র স্পষ্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের বিজয় ২৪ হলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ বার পানি আসে। অনেক সময় ট্যাংকে পানি না থাকায় শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় হাত-মুখ ধোয়ার জন্যও। মেয়েদের হলেও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। বর্ষার সময় ট্যাংক পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর হল চত্বরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে মেয়েদের হলে নিরাপত্তাকর্মীদের অনুপস্থিতি ও অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি হলে সাপ ও ইঁদুরের উপদ্রবেও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে। হল ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসের একমাত্র আশ্রয়স্থল যদি এত অনিরাপদ এবং সমস্যায় জর্জরিত হয়, তবে আমরা কোথায় যাবো?” বিজয় ২৪ হলের ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জুনায়েদ আক্ষেপ করে বলেন, “যে হলে দিনে এক গ্লাস পানি পাওয়াই যুদ্ধ, সেখানে পড়াশোনার পরিবেশ আশা করাটাই দুর্ভাগ্যজনক।” শের-ই-বাংলা হলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, “৪৫ টাকায় যে মিল দেওয়া হয়, তা খাওয়ার অনুপযুক্ত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ”।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেড়িয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসনিক হল আজও নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন সমস্যা, গরমে পানির সংকট, এক রুমে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী,এক বিছানায় একাধিক শিক্ষার্থী—এসব সমস্যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। হলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানির সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, নিম্নমানের খাবার এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল—বিজয় ২৪ হল, শের-ই-বাংলা হল, সুফিয়া কামাল হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এই দুরবস্থার চিত্র স্পষ্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের বিজয় ২৪ হলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ বার পানি আসে। অনেক সময় ট্যাংকে পানি না থাকায় শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় হাত-মুখ ধোয়ার জন্যও। মেয়েদের হলেও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। বর্ষার সময় ট্যাংক পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর হল চত্বরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে মেয়েদের হলে নিরাপত্তাকর্মীদের অনুপস্থিতি ও অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি হলে সাপ ও ইঁদুরের উপদ্রবেও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে। হল ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসের একমাত্র আশ্রয়স্থল যদি এত অনিরাপদ এবং সমস্যায় জর্জরিত হয়, তবে আমরা কোথায় যাবো?” বিজয় ২৪ হলের ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জুনায়েদ আক্ষেপ করে বলেন, “যে হলে দিনে এক গ্লাস পানি পাওয়াই যুদ্ধ, সেখানে পড়াশোনার পরিবেশ আশা করাটাই দুর্ভাগ্যজনক।” শের-ই-বাংলা হলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, “৪৫ টাকায় যে মিল দেওয়া হয়, তা খাওয়ার অনুপযুক্ত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ”।
