চট্টগ্রামচট্টগ্রাম

সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ: ভ্রমণে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজে ১৫৫৮ জন পর্যটক প্রবালদ্বীপটিতে পাড়ি জমিয়েছেন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হতে শুরু করেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি জাহাজ মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে এই ৩ জাহাজে করে সর্বমোট ১৫৫৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। ৬ নভেম্বর আরো দুটি জাহাজ মোট তিনটি জাহাজ রওয়ানা করেছে বলে আমাকে অবহিত করা হয়েছে।’। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন। পরে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়।

এদিন সকালে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটি পর্যটকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বারো আউলিয়া জাহাজটি সাফল্যের সঙ্গে দ্বীপটিতে পৌঁছে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসে। সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নানামুখী সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাহাজগুলো সচল করা হয়েছে।

যাত্রীসংখ্যা বিবেচনায় প্রথম দিন একটি জাহাজ চলাচল করলেও দ্বিতীয় দিনে তা তিনটি জাহাজে উন্নীত হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, মৌসুমের প্রথম দিন ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজ দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয়রা আনন্দচিত্তে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে পর্যটন মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানকার বেশির ভাগ মানুষ পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলোও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। অনেক ভ্রমণপিপাসু আগে থেকেই তাদের কক্ষ বুকিং করে রেখেছেন। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। এদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রশাসন, হোটেল-রিসোর্টের মালিকেরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক রয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকেই জাহাজগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন নেই। একই সঙ্গে দ্বীপে ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং ট্রাভেল পাস সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নির্ধারিত জাহাজগুলোর টিকিটের মূল্য একমুখী ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটে কেবিনের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সেবা প্রদানের চেষ্টা করছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন দর্শনার্থীরা নিরাপদে উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।

Public Voice

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ: ভ্রমণে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হতে শুরু করেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি জাহাজ মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে এই ৩ জাহাজে করে সর্বমোট ১৫৫৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। ৬ নভেম্বর আরো দুটি জাহাজ মোট তিনটি জাহাজ রওয়ানা করেছে বলে আমাকে অবহিত করা হয়েছে।’। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন। পরে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়।

এদিন সকালে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটি পর্যটকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বারো আউলিয়া জাহাজটি সাফল্যের সঙ্গে দ্বীপটিতে পৌঁছে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসে। সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নানামুখী সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাহাজগুলো সচল করা হয়েছে।

যাত্রীসংখ্যা বিবেচনায় প্রথম দিন একটি জাহাজ চলাচল করলেও দ্বিতীয় দিনে তা তিনটি জাহাজে উন্নীত হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, মৌসুমের প্রথম দিন ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজ দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয়রা আনন্দচিত্তে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে পর্যটন মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানকার বেশির ভাগ মানুষ পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলোও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। অনেক ভ্রমণপিপাসু আগে থেকেই তাদের কক্ষ বুকিং করে রেখেছেন। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। এদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রশাসন, হোটেল-রিসোর্টের মালিকেরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক রয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকেই জাহাজগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন নেই। একই সঙ্গে দ্বীপে ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং ট্রাভেল পাস সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নির্ধারিত জাহাজগুলোর টিকিটের মূল্য একমুখী ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটে কেবিনের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সেবা প্রদানের চেষ্টা করছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন দর্শনার্থীরা নিরাপদে উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত