নারী-শিশু
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করা এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক সহযোগী নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে তাকে ধর্ষণ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো। গত ১ আগস্ট ছাত্রীটি চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানায় বলে পরিবারের ভাষ্য।
পরিবারের আরও দাবি, ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে ওই ছাত্রীকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে ২৬ আগস্ট রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।
মামলায় রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে বকুল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৮), মেয়ে মোছা. লিমা (২১), আবু মিয়া (৫০) এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোছা. স্মৃতিকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরপরই আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার পর বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তবে পরবর্তীতে মামলার বিষয়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করা এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক সহযোগী নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে তাকে ধর্ষণ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো। গত ১ আগস্ট ছাত্রীটি চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানায় বলে পরিবারের ভাষ্য।
পরিবারের আরও দাবি, ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে ওই ছাত্রীকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে ২৬ আগস্ট রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।
মামলায় রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে বকুল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৮), মেয়ে মোছা. লিমা (২১), আবু মিয়া (৫০) এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোছা. স্মৃতিকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরপরই আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার পর বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তবে পরবর্তীতে মামলার বিষয়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
