সোশ্যাল মিডিয়া
১৮ আগস্ট ‘প্রিয় শহরে ঈশ্বরগঞ্জের সিন্ডিকেট এবং একজন গর্বিনী মা ও নাগরিক যাতনা’ শিরোনামে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ঈশ্বরগঞ্জের পরিবহন ব্যবস্থার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে লাবীব আব্দুল্লাহ জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মায়ের জানাজা শেষে তিনি দুই সফরসঙ্গী নুরুল করিম ও মুফতি নাজমুল হককে নিয়ে ময়মনসিংহে ফিরছিলেন। ঈশ্বরগঞ্জে এসে তিনজন মিলে একটি সিএনজি রিজার্ভ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তাঁর অভিযোগ, সিএনজি স্টেশনে কয়েকজন চালক রিজার্ভে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘সিরিয়ালের গাড়িতে’ যাওয়ার কথা বলেন। এমনকি সিরিয়ালের গাড়িতেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছিল বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
তিনি লিখেছেন, কথিত সিরিয়াল পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে খুঁজেও কাউকে সামনে পাওয়া যায়নি। পরে কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে ওঠার চেষ্টা করলেও আসন না থাকায় তিনি নেমে যান। একপর্যায়ে একজন চালক তাঁকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও আগের আচরণে বিরক্ত হয়ে তিনি আর যেতে রাজি হননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরও কি একজন নাগরিক নিজের পছন্দমতো একটি গাড়ি রিজার্ভ করার অধিকার রাখেন না? কথিত সিন্ডিকেটের কাছে কি সাধারণ মানুষকে জিম্মি হয়েই থাকতে হবে?
পোস্টে ময়মনসিংহের অটোরিকশায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পেছনের আসনে দুইজনের জায়গায় তিনজন বসানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। তাঁর মতে, এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে।
লাবীব আব্দুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঈশ্বরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। কাঠগোলা বাজারে ডালের দামে বড় ধরনের পার্থক্য এবং রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে তাঁর পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মায়ের জীবনসংগ্রাম ও সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার গল্প। স্বামীর মৃত্যুর পর একা সন্তানদের মানুষ করে প্রতিষ্ঠিত করা ওই মাকে তিনি ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লাবীব আব্দুল্লাহ লেখেন, মায়ের ত্যাগের কারণেই সন্তানদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই যাদের মা জীবিত আছেন, তাদের মায়ের যথাযথ কদর করার এবং যারা মাকে হারিয়েছেন, তাদের নিয়মিত দোয়া ও নেক আমল করার আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নাগরিক জীবনের নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “এই সব যন্ত্রণা বুকে নিয়েই বলি—প্রিয় বাংলাদেশ, তুমি ভালো থেকো।”
তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ঈশ্বরগঞ্জের পরিবহন স্টেশনে কথিত ‘সিরিয়াল’ ব্যবস্থা, রিজার্ভ যাত্রায় বাধা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
১৮ আগস্ট ‘প্রিয় শহরে ঈশ্বরগঞ্জের সিন্ডিকেট এবং একজন গর্বিনী মা ও নাগরিক যাতনা’ শিরোনামে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ঈশ্বরগঞ্জের পরিবহন ব্যবস্থার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে লাবীব আব্দুল্লাহ জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মায়ের জানাজা শেষে তিনি দুই সফরসঙ্গী নুরুল করিম ও মুফতি নাজমুল হককে নিয়ে ময়মনসিংহে ফিরছিলেন। ঈশ্বরগঞ্জে এসে তিনজন মিলে একটি সিএনজি রিজার্ভ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তাঁর অভিযোগ, সিএনজি স্টেশনে কয়েকজন চালক রিজার্ভে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘সিরিয়ালের গাড়িতে’ যাওয়ার কথা বলেন। এমনকি সিরিয়ালের গাড়িতেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছিল বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
তিনি লিখেছেন, কথিত সিরিয়াল পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে খুঁজেও কাউকে সামনে পাওয়া যায়নি। পরে কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে ওঠার চেষ্টা করলেও আসন না থাকায় তিনি নেমে যান। একপর্যায়ে একজন চালক তাঁকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও আগের আচরণে বিরক্ত হয়ে তিনি আর যেতে রাজি হননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরও কি একজন নাগরিক নিজের পছন্দমতো একটি গাড়ি রিজার্ভ করার অধিকার রাখেন না? কথিত সিন্ডিকেটের কাছে কি সাধারণ মানুষকে জিম্মি হয়েই থাকতে হবে?
পোস্টে ময়মনসিংহের অটোরিকশায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পেছনের আসনে দুইজনের জায়গায় তিনজন বসানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। তাঁর মতে, এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে।
লাবীব আব্দুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঈশ্বরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। কাঠগোলা বাজারে ডালের দামে বড় ধরনের পার্থক্য এবং রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে তাঁর পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মায়ের জীবনসংগ্রাম ও সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার গল্প। স্বামীর মৃত্যুর পর একা সন্তানদের মানুষ করে প্রতিষ্ঠিত করা ওই মাকে তিনি ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লাবীব আব্দুল্লাহ লেখেন, মায়ের ত্যাগের কারণেই সন্তানদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই যাদের মা জীবিত আছেন, তাদের মায়ের যথাযথ কদর করার এবং যারা মাকে হারিয়েছেন, তাদের নিয়মিত দোয়া ও নেক আমল করার আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নাগরিক জীবনের নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “এই সব যন্ত্রণা বুকে নিয়েই বলি—প্রিয় বাংলাদেশ, তুমি ভালো থেকো।”
তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ঈশ্বরগঞ্জের পরিবহন স্টেশনে কথিত ‘সিরিয়াল’ ব্যবস্থা, রিজার্ভ যাত্রায় বাধা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
