বিদ্যুৎবিদ্যুৎ

সেবা পেতে তদবির, বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা—ইনসুলেটর ক্র্যাকে অন্ধকারে ঈশ্বরগঞ্জ

সেবা পেতে তদবির, বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা—ইনসুলেটর ক্র্যাকে অন্ধকারে ঈশ্বরগঞ্জ
সংগৃহীত

ময়মনসিংহ গ্রিডে ইনসুলেটর ক্র্যাক হওয়ার কারণে উচাখিলা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে এ সমস্যার কারণে উচাখিলা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রিডের ত্রুটি শনাক্ত করে তা নিরসনের কাজ চলছে। ইনসুলেটরের ত্রুটি মেরামত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে।

তবে সাময়িক এই ত্রুটির পাশাপাশি ঈশ্বরগঞ্জের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের প্রশ্নও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩৩ কেভি লাইনের বিভিন্ন ত্রুটি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন গ্রাহকেরা। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন পেশাজীবীকে নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যঙ্গাত্মক তুলনাও টানা যায়—ভাতা হোক আর বিদ্যুৎ হোক, ভোগান্তি যেন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষেরই!

বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাতা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন নিয়ে সময়ে সময়ে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম কিংবা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যঙ্গ করে বলা যায়, একদিন যদি ‘দুঃস্থ ভাতা’ চালু করা হয়, তখনও হয়তো প্রকৃত দুঃস্থরাই তালিকার বাইরে থেকে যাবেন; আর তালিকায় জায়গা করে নেবেন পরিচিত, প্রভাবশালী কিংবা তদবিরকারীদের কেউ কেউ। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়ই যেন বড় যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়—এমন অভিযোগ জনপরিসরে প্রায়ই শোনা যায়।

তবে বিষয়টি ভাতা চালুর বিরোধিতা নয়। মূল প্রশ্ন হলো—যার জন্য যে কর্মসূচি, তার সুবিধা যেন শেষ পর্যন্ত প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে। একইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি থাকতেই পারে; কিন্তু সেই ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করাই প্রত্যাশিত।

ভাতার সুবিধা যেমন প্রকৃত মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছানো প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যুৎ সেবাও পৌঁছানো প্রয়োজন গ্রাহকের ঘরে—নিয়মিত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্যভাবে।

ঈশ্বরগঞ্জবাসীর প্রশ্ন তাই সরল—৩৩ কেভির ত্রুটি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের এই ভোগান্তি থেকে তারা কবে স্থায়ী স্বস্তি পাবেন?

জনগণের প্রত্যাশা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; তারা চান ন্যায্য সহায়তা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং নির্ভরযোগ্য নাগরিক সেবা।

Public Voice

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেবা পেতে তদবির, বিদ্যুৎ পেতে অপেক্ষা—ইনসুলেটর ক্র্যাকে অন্ধকারে ঈশ্বরগঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ গ্রিডে ইনসুলেটর ক্র্যাক হওয়ার কারণে উচাখিলা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে এ সমস্যার কারণে উচাখিলা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রিডের ত্রুটি শনাক্ত করে তা নিরসনের কাজ চলছে। ইনসুলেটরের ত্রুটি মেরামত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে।

তবে সাময়িক এই ত্রুটির পাশাপাশি ঈশ্বরগঞ্জের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের প্রশ্নও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩৩ কেভি লাইনের বিভিন্ন ত্রুটি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন গ্রাহকেরা। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন পেশাজীবীকে নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যঙ্গাত্মক তুলনাও টানা যায়—ভাতা হোক আর বিদ্যুৎ হোক, ভোগান্তি যেন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষেরই!

বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাতা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন নিয়ে সময়ে সময়ে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম কিংবা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যঙ্গ করে বলা যায়, একদিন যদি ‘দুঃস্থ ভাতা’ চালু করা হয়, তখনও হয়তো প্রকৃত দুঃস্থরাই তালিকার বাইরে থেকে যাবেন; আর তালিকায় জায়গা করে নেবেন পরিচিত, প্রভাবশালী কিংবা তদবিরকারীদের কেউ কেউ। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়ই যেন বড় যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়—এমন অভিযোগ জনপরিসরে প্রায়ই শোনা যায়।

তবে বিষয়টি ভাতা চালুর বিরোধিতা নয়। মূল প্রশ্ন হলো—যার জন্য যে কর্মসূচি, তার সুবিধা যেন শেষ পর্যন্ত প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে। একইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি থাকতেই পারে; কিন্তু সেই ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করাই প্রত্যাশিত।

ভাতার সুবিধা যেমন প্রকৃত মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছানো প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যুৎ সেবাও পৌঁছানো প্রয়োজন গ্রাহকের ঘরে—নিয়মিত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্যভাবে।

ঈশ্বরগঞ্জবাসীর প্রশ্ন তাই সরল—৩৩ কেভির ত্রুটি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের এই ভোগান্তি থেকে তারা কবে স্থায়ী স্বস্তি পাবেন?

জনগণের প্রত্যাশা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; তারা চান ন্যায্য সহায়তা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং নির্ভরযোগ্য নাগরিক সেবা।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত