ফলাফল
সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ধুনটে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট।
একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ২০২৫ সালে ধুনট উপজেলায় ৩০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ২২৩ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৮২ জন। তবে কারিগরি শাখায় এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ধুনট উপজেলার ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৩৪টি এবং দাখিল মাদ্রাসা ২৭টি।
এবার উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৩৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২ হাজার ৪৪১ জন পাস করেছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী সংখ্যা কমার পাশাপাশি পাসের হারেও বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
স্কুল ও কারিগরি শাখায় এবার সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে ধুনট এনইউ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭১ জন পাস করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই উপজেলা সর্বোচ্চ ৫৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গোসাইবাড়ী এ এ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৬২ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন।
দাখিল পরীক্ষায় ধুনট উপজেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে ভালো ফলাফল করেছে নাংলু এমকেএম ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
অন্যদিকে মহেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৭ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি।
এবার ধুনট উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি।
হাজী কাজেম-জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এছাড়া কান্তনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৫ জন পরীক্ষার্থীরও কেউ পাস করতে পারেনি।
ধুনট উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৭ শতাংশে। পরবর্তী সময়ে পাসের হার কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে ২৪৫ জন, ২০২৪ সালে ৩৫৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৩০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৩ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটিতে জোর দিয়েছে। এ কারণে শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেতেই হবে। আশা করছি, সামনে বোর্ডের ফল আরও ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে এবার পাসের হার কমেছে। খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি। এবং শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আগামী বছর আরও ভালো ফলাফল করবেন।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক জানান, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অনাগ্রহী। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় তাদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। এসব কারণেও এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ধুনটে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট।
একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ২০২৫ সালে ধুনট উপজেলায় ৩০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ২২৩ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৮২ জন। তবে কারিগরি শাখায় এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ধুনট উপজেলার ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৩৪টি এবং দাখিল মাদ্রাসা ২৭টি।
এবার উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৩৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২ হাজার ৪৪১ জন পাস করেছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী সংখ্যা কমার পাশাপাশি পাসের হারেও বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
স্কুল ও কারিগরি শাখায় এবার সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে ধুনট এনইউ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭১ জন পাস করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই উপজেলা সর্বোচ্চ ৫৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গোসাইবাড়ী এ এ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৬২ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন।
দাখিল পরীক্ষায় ধুনট উপজেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে ভালো ফলাফল করেছে নাংলু এমকেএম ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
অন্যদিকে মহেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৭ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি।
এবার ধুনট উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি।
হাজী কাজেম-জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এছাড়া কান্তনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৫ জন পরীক্ষার্থীরও কেউ পাস করতে পারেনি।
ধুনট উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৭ শতাংশে। পরবর্তী সময়ে পাসের হার কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে ২৪৫ জন, ২০২৪ সালে ৩৫৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৩০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৩ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটিতে জোর দিয়েছে। এ কারণে শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেতেই হবে। আশা করছি, সামনে বোর্ডের ফল আরও ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে এবার পাসের হার কমেছে। খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি। এবং শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আগামী বছর আরও ভালো ফলাফল করবেন।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক জানান, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অনাগ্রহী। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় তাদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। এসব কারণেও এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তারা মনে করেন।
