বিদ্যুৎবিদ্যুৎ

২৪ ঘণ্টায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন, দিনাজপুরে অন্ধকারে জনজীবন, সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

২৪ ঘণ্টায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন, দিনাজপুরে অন্ধকারে জনজীবন, সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
দিনাজপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে কৃষক ও সাধারণ মানুষ। সেচের জন্য বিদ্যুতের অপেক্ষায় কৃষক।


সারাদিন মাঠে রোদে পুড়ে কৃষকের ঘাম ঝরে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে একটু ফ্যানের বাতাস, পরিবারের সঙ্গে খাবার এবং শান্তিতে ঘুম—এটুকুই যেন তাঁর প্রত্যাশা। কিন্তু দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে সেই স্বাভাবিক জীবনও এখন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুরে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু ঘরের ফ্যানই বন্ধ থাকছে না, ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের সেচ কার্যক্রমও। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অথচ এই কৃষকরাই সারাদিন মাঠে শ্রম দিয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করেন।

এক কৃষক বলেন, “সারাদিন রোদে মাঠে কাজ করি। বাড়িতে এসে একটু বিশ্রাম নেব, ফ্যানের বাতাসে বসব—সেটিও হচ্ছে না। জমিতে পানি দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। আমরা কৃষকরা তাহলে যাব কোথায়?”

শিক্ষা, ব্যবসা ও চিকিৎসাতেও প্রভাব

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যুৎনির্ভর ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফ্রিজ, ফ্যান, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম চালাতে না পারায় ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

প্রশ্ন উঠছে—ঘাটতি কোথায়?

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির প্রকৃত কারণ কী? কেন দিনের পর দিন এত দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে?

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে সেই ঘাটতি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী—এ নিয়েও জানতে চান সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষি সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, শহর ও গ্রামের মানুষের প্রয়োজনের পার্থক্য থাকলেও বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবার অংশ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ, যারা বিকল্প ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সক্ষমতাও রাখেন না।

দ্রুত সমাধান চান দিনাজপুরবাসী

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি সেচ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং জরুরি সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দিনাজপুরবাসীর প্রশ্ন একটাই—যে কৃষক সারাদিন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান দেন, তাঁর ঘরে সন্ধ্যার পর একটু আলো ও বাতাসের নিশ্চয়তা কি দেওয়া যাবে না?

এখন প্রয়োজন শুধু আশ্বাস নয়; লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ প্রকাশ, সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ।

দিনাজপুরবাসী আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


 

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২৪ ঘণ্টায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন, দিনাজপুরে অন্ধকারে জনজীবন, সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image


সারাদিন মাঠে রোদে পুড়ে কৃষকের ঘাম ঝরে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে একটু ফ্যানের বাতাস, পরিবারের সঙ্গে খাবার এবং শান্তিতে ঘুম—এটুকুই যেন তাঁর প্রত্যাশা। কিন্তু দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে সেই স্বাভাবিক জীবনও এখন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুরে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু ঘরের ফ্যানই বন্ধ থাকছে না, ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের সেচ কার্যক্রমও। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অথচ এই কৃষকরাই সারাদিন মাঠে শ্রম দিয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করেন।

এক কৃষক বলেন, “সারাদিন রোদে মাঠে কাজ করি। বাড়িতে এসে একটু বিশ্রাম নেব, ফ্যানের বাতাসে বসব—সেটিও হচ্ছে না। জমিতে পানি দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। আমরা কৃষকরা তাহলে যাব কোথায়?”

শিক্ষা, ব্যবসা ও চিকিৎসাতেও প্রভাব

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যুৎনির্ভর ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফ্রিজ, ফ্যান, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম চালাতে না পারায় ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

প্রশ্ন উঠছে—ঘাটতি কোথায়?

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির প্রকৃত কারণ কী? কেন দিনের পর দিন এত দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে?

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে সেই ঘাটতি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী—এ নিয়েও জানতে চান সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষি সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, শহর ও গ্রামের মানুষের প্রয়োজনের পার্থক্য থাকলেও বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবার অংশ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ, যারা বিকল্প ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সক্ষমতাও রাখেন না।

দ্রুত সমাধান চান দিনাজপুরবাসী

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি সেচ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং জরুরি সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দিনাজপুরবাসীর প্রশ্ন একটাই—যে কৃষক সারাদিন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান দেন, তাঁর ঘরে সন্ধ্যার পর একটু আলো ও বাতাসের নিশ্চয়তা কি দেওয়া যাবে না?

এখন প্রয়োজন শুধু আশ্বাস নয়; লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ প্রকাশ, সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ।

দিনাজপুরবাসী আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


 


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত