বিদ্যুৎবিদ্যুৎ

বিল আছে, বিদ্যুৎ নেই- ঈশ্বরগঞ্জ বড়হিত ইউনিয়নে এক পরিবারের চিত্র

ঈশ্বরগঞ্জে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও গ্রাহকের নামে নিয়মিত যোগ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। পুনঃসংযোগের জন্য তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরেও বিদ্যুৎ না পেলেও জুন মাসে তার নামে ৩৪১ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী শরিফা আক্তার উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের পাড়া নারায়ণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। শরিফা আক্তারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রায় ছয় মাস আগে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস। তখন এক মাসের সময় চেয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও কর্তৃপক্ষ সংযোগ বহাল রাখেনি। পরে বকেয়া বিল পরিশোধ করে চলতি বছরের ২৯ মার্চ পুনঃসংযোগের জন্য ৮২৮ টাকা জমা দেন তিনি। কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়নি।

শরিফা আক্তার বলেন, “নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। অনেক কষ্ট করে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছি। টাকার অভাবে সামান্য বকেয়ার জন্য লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরে সব টাকা পরিশোধ করেও তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরছি। তারপরও বিদ্যুৎ পাইনি। অথচ জুন মাসে আমার নামে ৩৪১ টাকার বিল এসেছে।”

তিনি জানান, প্রচণ্ড গরম ও ঈদের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাধ্য হয়ে পৌর শহরের শিমরাইল এলাকায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈশ্বরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিল আসার মতো অভিযোগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ‘ভূতুড়ে বিল’ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অসংখ্য গ্রাহক জোনাল অফিসে ভিড় করছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের মিটারম্যানরা প্রায় সময়ই মিটারের রিডিং না দেখে গড় বিল করেন। এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত গ্রাহকের সংযোগ চালু এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মূল সংবাদ- যুগান্তর 

Public Voice

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিল আছে, বিদ্যুৎ নেই- ঈশ্বরগঞ্জ বড়হিত ইউনিয়নে এক পরিবারের চিত্র

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঈশ্বরগঞ্জে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও গ্রাহকের নামে নিয়মিত যোগ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। পুনঃসংযোগের জন্য তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরেও বিদ্যুৎ না পেলেও জুন মাসে তার নামে ৩৪১ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী শরিফা আক্তার উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের পাড়া নারায়ণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। শরিফা আক্তারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রায় ছয় মাস আগে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস। তখন এক মাসের সময় চেয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও কর্তৃপক্ষ সংযোগ বহাল রাখেনি। পরে বকেয়া বিল পরিশোধ করে চলতি বছরের ২৯ মার্চ পুনঃসংযোগের জন্য ৮২৮ টাকা জমা দেন তিনি। কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়নি।

শরিফা আক্তার বলেন, “নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। অনেক কষ্ট করে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছি। টাকার অভাবে সামান্য বকেয়ার জন্য লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরে সব টাকা পরিশোধ করেও তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরছি। তারপরও বিদ্যুৎ পাইনি। অথচ জুন মাসে আমার নামে ৩৪১ টাকার বিল এসেছে।”

তিনি জানান, প্রচণ্ড গরম ও ঈদের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাধ্য হয়ে পৌর শহরের শিমরাইল এলাকায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈশ্বরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিল আসার মতো অভিযোগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ‘ভূতুড়ে বিল’ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অসংখ্য গ্রাহক জোনাল অফিসে ভিড় করছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের মিটারম্যানরা প্রায় সময়ই মিটারের রিডিং না দেখে গড় বিল করেন। এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত গ্রাহকের সংযোগ চালু এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মূল সংবাদ- যুগান্তর 


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত