লাইফস্টাইল
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলায় বিয়ের ধুম পড়ে যায়—এ যেন এখন এক পরিচিত সামাজিক চিত্র। ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে অনেক পরিবার বিয়ের আয়োজন করে, ফলে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। মহল্লায় মহল্লায় বেজে ওঠে বিয়ের সানাই, আর ঈদের আনন্দ পায় নতুন মাত্রা।
অভিজ্ঞ ঘটকরা জানান, ঈদের সময়টায় বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। ময়মনসিংহের ঘটক হারিছ উদ্দিন বলেন, শুধু ঈদের পরপরই কয়েক দিনের মধ্যে তিনি ১২টি বিয়ে ঠিক করেছেন। এর মধ্যে অনেক পাত্র-পাত্রী নিজেরাই একে অপরকে পছন্দ করেছে, আর পরিবারগুলোও সেই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ম্যারেজ মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ঘটক মো. আনিছ জানান, ঈদের আগে-পরে তাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখন ছেলে-মেয়েদের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাত্র-পাত্রী একে অপরকে পছন্দ করার পরই বেশিরভাগ পরিবার ঈদের পর বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করছে।
এদিকে টিনা খাতুন, যিনি ‘টিনা খালা’ নামে পরিচিত, বলেন—প্রবাসী ছেলেরা ঈদের সময়টাকে বিয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করে। অল্প সময়ের মধ্যে সম্বন্ধ ঠিক করে বিয়ের আয়োজন করতে হলেও এতে এক ধরনের আনন্দ কাজ করে।
বিয়ের এই বাড়তি চাপ পড়েছে কমিউনিটি সেন্টার, কেটারিং সার্ভিস ও বিউটি পার্লারগুলোতেও। অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই বুকড হয়ে গেছে। সোহাগ পার্টি সেন্টারের ম্যানেজার জানান, ঈদের পর বেশ কয়েকটি বিয়ের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে আসে—তাই আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার সোহেল মিয়া বলেন, পাত্র পছন্দ হওয়ায় ঈদের পরই তার মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে, আর সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ঈদের ছুটিতে বিয়ের এই প্রবণতা এখন এক ধরনের সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এতে আত্মীয়তা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
একই কথা বলেন জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তার মতে, প্রতি বছর ঈদের পর বিয়ের হিড়িক পড়ে, কারণ মানুষ চায় ঈদের আনন্দের সঙ্গে বিয়ের আনন্দকে একসঙ্গে ভাগাভাগি করতে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়—এটি এখন বিয়ের মৌসুমও। ছুটি, পারিবারিক মিলনমেলা ও সামাজিক সুবিধার কারণে ঈদের সময়টায় বিয়ের এই বাড়তি প্রবণতা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলায় বিয়ের ধুম পড়ে যায়—এ যেন এখন এক পরিচিত সামাজিক চিত্র। ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে অনেক পরিবার বিয়ের আয়োজন করে, ফলে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। মহল্লায় মহল্লায় বেজে ওঠে বিয়ের সানাই, আর ঈদের আনন্দ পায় নতুন মাত্রা।
অভিজ্ঞ ঘটকরা জানান, ঈদের সময়টায় বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। ময়মনসিংহের ঘটক হারিছ উদ্দিন বলেন, শুধু ঈদের পরপরই কয়েক দিনের মধ্যে তিনি ১২টি বিয়ে ঠিক করেছেন। এর মধ্যে অনেক পাত্র-পাত্রী নিজেরাই একে অপরকে পছন্দ করেছে, আর পরিবারগুলোও সেই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ম্যারেজ মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ঘটক মো. আনিছ জানান, ঈদের আগে-পরে তাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখন ছেলে-মেয়েদের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাত্র-পাত্রী একে অপরকে পছন্দ করার পরই বেশিরভাগ পরিবার ঈদের পর বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করছে।
এদিকে টিনা খাতুন, যিনি ‘টিনা খালা’ নামে পরিচিত, বলেন—প্রবাসী ছেলেরা ঈদের সময়টাকে বিয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করে। অল্প সময়ের মধ্যে সম্বন্ধ ঠিক করে বিয়ের আয়োজন করতে হলেও এতে এক ধরনের আনন্দ কাজ করে।
বিয়ের এই বাড়তি চাপ পড়েছে কমিউনিটি সেন্টার, কেটারিং সার্ভিস ও বিউটি পার্লারগুলোতেও। অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই বুকড হয়ে গেছে। সোহাগ পার্টি সেন্টারের ম্যানেজার জানান, ঈদের পর বেশ কয়েকটি বিয়ের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে আসে—তাই আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার সোহেল মিয়া বলেন, পাত্র পছন্দ হওয়ায় ঈদের পরই তার মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে, আর সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ঈদের ছুটিতে বিয়ের এই প্রবণতা এখন এক ধরনের সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এতে আত্মীয়তা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
একই কথা বলেন জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তার মতে, প্রতি বছর ঈদের পর বিয়ের হিড়িক পড়ে, কারণ মানুষ চায় ঈদের আনন্দের সঙ্গে বিয়ের আনন্দকে একসঙ্গে ভাগাভাগি করতে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়—এটি এখন বিয়ের মৌসুমও। ছুটি, পারিবারিক মিলনমেলা ও সামাজিক সুবিধার কারণে ঈদের সময়টায় বিয়ের এই বাড়তি প্রবণতা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
