লাইফস্টাইল
বর্তমান সময়ে এসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিলেশনশিপ হওয়ার বিভিন্ন গল্প দেখতে পাওয়া যায়। ক্ষেত্র বিশেষ অঞ্চল অনুযায়ী অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সম্পর্কও হয়ে উঠে। কিন্তু এ ধরনের সম্পর্ক এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডেটিং পর্যন্ত গড়ায় না। আর সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকা কিংবা বিয়ে তো দূরের কথা।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হয়তো সহজেই ডেটিং পার্টনারও পেয়ে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মনের মতো সঙ্গী পাওয়া সহজসাধ্য নয়। নানা জটিলতার শঙ্কা থাকে। তবে একমাত্র বিয়েতে ভরসা পান অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু দায়িত্ব আর ভালোবাসার এই মধুর সম্পর্কে জড়াতে চেয়েও অনেকেই পারেন না। এই না পারার ব্যাপারে পাঁচটি কারণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। এ বিষয়ে জেনে নেয়া যাক-
উচ্চ মানদণ্ড:
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন আপনি। হতে পারে আপনি নিজেই নিজের ভালোবাসার অধ্যায়ের যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আপনার হয়তো নির্দিষ্ট কোনো পছন্দ রয়েছে। ফলে সঙ্গী হতে চাওয়া কোনো মানুষকে সেই পছন্দ বা চাহিদা পূরণ করতে হয়। হতে পারে মানুষটির উচ্চতা, চোখ, পেশা কিংবা অন্য কিছু। পছন্দমত মিল না হওয়ায় তাদের বাদ দিচ্ছেন। তবে সত্য হচ্ছে, প্রকৃত সম্পর্ক সব শর্ত পূরণ করার মধ্যে নিহিত নয়; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষ আপনাকে কেমন অনুভব করায়―এর ওপরই নির্ভর করে।
নিজেকে প্রকাশ করা:
একাধিক ডেটিং অ্যাপে হয়তো অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বা বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার কথা বলেছেন। কিন্তু সেখানে কি আপনি নিজেকে মেলে ধরেছেন? গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি কি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে এবং একটি সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী? কিছু মানুষ সম্পর্কে জড়ানোর কথা বললেও প্রয়োজনীয় কাজটি করেন না। যেমন- মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বা সামাজিক রীতি মেনে চলেন না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থেকে অপেক্ষা করার থেকেও অনেক কিছু করার রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া, নতুন নতুন শখ ও ভালোলাগা খুঁজে বের করা, সামাজিক রীতি অনুসরণ করা এবং যেখানে নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে, তাতে অংশ নেয়া।
আগের সম্পর্কের ক্ষত থেকে বের হতে না পারা:
অনেক সময় দেখা যায় আপনি মুখে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর কথা বললেও নিজের অজান্তেই আগের সম্পর্কের কথা বারবার ভাবেন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি সত্যিই নতুন সম্পর্কে যেতে প্রস্তুত? কেননা, অতীতের অমীমাংসিত সম্পর্কগুলো জীবনের পথে বড় বাঁধা হতে পারে। ভাবুন, সবশেষ সম্পর্কটি বন্ধুত্বপূর্ণ শেষ হয়েছিল কিনা। নিরাময় শুধু সময় অতিবাহিত হওয়ার বিষয় নয়, এর জন্য অতীতকে ছেড়ে দেয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। আপনি যদি প্রকৃত অর্থেই নতুন সম্পর্কে যেতে চান, তাহলে অতীতকে তার মতো যেতে দিতে হবে। নিজেকে অতীতে ফেলে রাখা যাবে না।
দুর্বলতা ভয় পাওয়া:
সম্পর্কে থাকার বড় বিষয় হচ্ছে কারও সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেয়া। এটি শুধু আনন্দ ভাগ করা নয়, বরং নিজের শক্তি, সামর্থ ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দুর্বলতাও ভাগ করে নেয়া। সম্পর্কের কোনো ডেটকে বাহ্যিক পর্যায়ে রাখা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি যদি সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখেন, তবে কোনো মানুষ আপনাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে পারবে না। কেউ কেউ বিশ্বাস করে, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করাও একটি দুর্বলতা। কিন্তু জানেন কি, মোটেও তা নয় বিষয়টি। আর এটি হচ্ছে একটি বিশেষ ক্ষমতা। আপনাকে সবকিছু প্রকাশ করতে হবে, এমন নয়। তবে সঙ্গীকে আপনার সম্পর্কে সব সত্যটা জানতে দিন।
পরিপূর্ণতার জন্য অপেক্ষা:
পরিপূর্ণতা হচ্ছে একটি ভ্রান্ত ধারণা। পৃথিবীতে কোনো কিছুই নিখুঁত হয় না। কথাটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি কখনোই একজন নিখুঁত সঙ্গী বা সঠিক মুহূর্ত খুঁজে পাবেন না। সম্পর্কে জড়াতে কখনো পদোন্নতি বা জীবন গুছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। ভালো সম্পর্কগুলো কোনো পরিকল্পিত কৌশলের কারণে হয় না। এগুলো স্বাভাবিক কারণেই হয়। শুধু এতটুকু মনে রাখুন―আপনি ভালোবাসার যোগ্য এবং এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
বর্তমান সময়ে এসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিলেশনশিপ হওয়ার বিভিন্ন গল্প দেখতে পাওয়া যায়। ক্ষেত্র বিশেষ অঞ্চল অনুযায়ী অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সম্পর্কও হয়ে উঠে। কিন্তু এ ধরনের সম্পর্ক এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডেটিং পর্যন্ত গড়ায় না। আর সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকা কিংবা বিয়ে তো দূরের কথা।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হয়তো সহজেই ডেটিং পার্টনারও পেয়ে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মনের মতো সঙ্গী পাওয়া সহজসাধ্য নয়। নানা জটিলতার শঙ্কা থাকে। তবে একমাত্র বিয়েতে ভরসা পান অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু দায়িত্ব আর ভালোবাসার এই মধুর সম্পর্কে জড়াতে চেয়েও অনেকেই পারেন না। এই না পারার ব্যাপারে পাঁচটি কারণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। এ বিষয়ে জেনে নেয়া যাক-
উচ্চ মানদণ্ড:
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন আপনি। হতে পারে আপনি নিজেই নিজের ভালোবাসার অধ্যায়ের যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আপনার হয়তো নির্দিষ্ট কোনো পছন্দ রয়েছে। ফলে সঙ্গী হতে চাওয়া কোনো মানুষকে সেই পছন্দ বা চাহিদা পূরণ করতে হয়। হতে পারে মানুষটির উচ্চতা, চোখ, পেশা কিংবা অন্য কিছু। পছন্দমত মিল না হওয়ায় তাদের বাদ দিচ্ছেন। তবে সত্য হচ্ছে, প্রকৃত সম্পর্ক সব শর্ত পূরণ করার মধ্যে নিহিত নয়; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষ আপনাকে কেমন অনুভব করায়―এর ওপরই নির্ভর করে।
নিজেকে প্রকাশ করা:
একাধিক ডেটিং অ্যাপে হয়তো অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বা বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার কথা বলেছেন। কিন্তু সেখানে কি আপনি নিজেকে মেলে ধরেছেন? গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি কি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে এবং একটি সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী? কিছু মানুষ সম্পর্কে জড়ানোর কথা বললেও প্রয়োজনীয় কাজটি করেন না। যেমন- মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বা সামাজিক রীতি মেনে চলেন না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থেকে অপেক্ষা করার থেকেও অনেক কিছু করার রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া, নতুন নতুন শখ ও ভালোলাগা খুঁজে বের করা, সামাজিক রীতি অনুসরণ করা এবং যেখানে নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে, তাতে অংশ নেয়া।
আগের সম্পর্কের ক্ষত থেকে বের হতে না পারা:
অনেক সময় দেখা যায় আপনি মুখে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর কথা বললেও নিজের অজান্তেই আগের সম্পর্কের কথা বারবার ভাবেন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি সত্যিই নতুন সম্পর্কে যেতে প্রস্তুত? কেননা, অতীতের অমীমাংসিত সম্পর্কগুলো জীবনের পথে বড় বাঁধা হতে পারে। ভাবুন, সবশেষ সম্পর্কটি বন্ধুত্বপূর্ণ শেষ হয়েছিল কিনা। নিরাময় শুধু সময় অতিবাহিত হওয়ার বিষয় নয়, এর জন্য অতীতকে ছেড়ে দেয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। আপনি যদি প্রকৃত অর্থেই নতুন সম্পর্কে যেতে চান, তাহলে অতীতকে তার মতো যেতে দিতে হবে। নিজেকে অতীতে ফেলে রাখা যাবে না।
দুর্বলতা ভয় পাওয়া:
সম্পর্কে থাকার বড় বিষয় হচ্ছে কারও সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেয়া। এটি শুধু আনন্দ ভাগ করা নয়, বরং নিজের শক্তি, সামর্থ ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দুর্বলতাও ভাগ করে নেয়া। সম্পর্কের কোনো ডেটকে বাহ্যিক পর্যায়ে রাখা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি যদি সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখেন, তবে কোনো মানুষ আপনাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে পারবে না। কেউ কেউ বিশ্বাস করে, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করাও একটি দুর্বলতা। কিন্তু জানেন কি, মোটেও তা নয় বিষয়টি। আর এটি হচ্ছে একটি বিশেষ ক্ষমতা। আপনাকে সবকিছু প্রকাশ করতে হবে, এমন নয়। তবে সঙ্গীকে আপনার সম্পর্কে সব সত্যটা জানতে দিন।
পরিপূর্ণতার জন্য অপেক্ষা:
পরিপূর্ণতা হচ্ছে একটি ভ্রান্ত ধারণা। পৃথিবীতে কোনো কিছুই নিখুঁত হয় না। কথাটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি কখনোই একজন নিখুঁত সঙ্গী বা সঠিক মুহূর্ত খুঁজে পাবেন না। সম্পর্কে জড়াতে কখনো পদোন্নতি বা জীবন গুছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। ভালো সম্পর্কগুলো কোনো পরিকল্পিত কৌশলের কারণে হয় না। এগুলো স্বাভাবিক কারণেই হয়। শুধু এতটুকু মনে রাখুন―আপনি ভালোবাসার যোগ্য এবং এগিয়ে যেতে হবে।
