সারাদেশসারাদেশ

ইশ্বরগঞ্জে সাশ্রয়ী বাজারের আড়ালে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বাস্তবতা

শেয়ার করুন
অ+ অ-
ইশ্বরগঞ্জে সাশ্রয়ী বাজারের আড়ালে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বাস্তবতা
সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাজারে যেখানে গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৭৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেখানে এই উদ্যোগে ৬৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়?

রমজান উপলক্ষে এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখা। কর্মসূচির প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ–৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিয়মিত মাংসসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে হিমশিম খায়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গরুর মাংস সরবরাহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবিক, অন্যদিকে তা নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব চিত্রও সামনে এনে দেয়।

গরুর গোশত না খাওয়া মানুষের কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বয়স, স্বাস্থ্যগত কারণ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে যারা গরুর গোশত খান না, তাদের জন্য লেবু, শশা, ডিম, দুধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও পর্যায়ক্রমে স্বল্পমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্বস্তির পরিধি কিছুটা বাড়লেও, বাজার ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এ বিষয়ে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন,

“রমজান মাস সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে যেন সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”

কর্মসূচির প্রথম দিনেই ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত মূল্যে গরুর মাংস সংগ্রহ করেন। অনেক ক্রেতাই জানান, বাজারের তুলনায় কম দামে মাংস পাওয়ায় রমজানে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকরা আরও জানান, রমজান মাসজুড়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের স্বল্পমূল্যের বাজার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—রমজানে স্বস্তি কি শুধু দলীয় বা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনের মূল সমস্যাগুলোরও কার্যকর সমাধান আসবে?

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ইশ্বরগঞ্জে সাশ্রয়ী বাজারের আড়ালে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাজারে যেখানে গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৭৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেখানে এই উদ্যোগে ৬৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়?

রমজান উপলক্ষে এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখা। কর্মসূচির প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ–৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিয়মিত মাংসসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে হিমশিম খায়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গরুর মাংস সরবরাহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবিক, অন্যদিকে তা নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব চিত্রও সামনে এনে দেয়।

গরুর গোশত না খাওয়া মানুষের কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বয়স, স্বাস্থ্যগত কারণ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে যারা গরুর গোশত খান না, তাদের জন্য লেবু, শশা, ডিম, দুধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও পর্যায়ক্রমে স্বল্পমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্বস্তির পরিধি কিছুটা বাড়লেও, বাজার ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এ বিষয়ে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন,

“রমজান মাস সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে যেন সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”

কর্মসূচির প্রথম দিনেই ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত মূল্যে গরুর মাংস সংগ্রহ করেন। অনেক ক্রেতাই জানান, বাজারের তুলনায় কম দামে মাংস পাওয়ায় রমজানে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকরা আরও জানান, রমজান মাসজুড়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের স্বল্পমূল্যের বাজার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—রমজানে স্বস্তি কি শুধু দলীয় বা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনের মূল সমস্যাগুলোরও কার্যকর সমাধান আসবে?


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত