প্রতিক্রিয়া
ময়মনসিংহে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক জুড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ত্রিশাল উপজেলা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে এই কর্মসূচি পালিত হয়। চালকদের অভিযোগ, ত্রিশাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেট পর্যন্ত চলাচলে প্রতিদিন জনপ্রতি ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তবে আজ সেই ‘নিয়মিত’ চাঁদার পরিবর্তে এক চালকের কাছে ৭০ টাকা দাবি করা হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চালককে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি—যা সরাসরি তাঁর জীবিকার ওপর আঘাত বলে দাবি করেন সহকর্মীরা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ চালকেরা একত্র হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের স্লোগানে বার্তা ছিল স্পষ্ট— “চাঁদা না দিলে গাড়ি চলবে না—এই জুলুম আর চলবে না!”
চালকদের ভাষ্য, একাধিক পয়েন্টে নিয়মিত চাঁদা দিতে হলে অটোরিকশা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই গিয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, সাময়িক ভোগান্তি হলেও অনেক যাত্রীই চালকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এক কলেজগামী শিক্ষার্থী বলেন,
“আজ দেরি হলেও চালকদের পাশে আছি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভাড়া বাড়বে, ভুগবো আমরাই।”
একজন চাকরিজীবী যাত্রী বলেন, “এক ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু অন্যায় চাঁদার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে সমর্থন করি।”
এক নারী যাত্রীর বক্তব্য, “চালকেরা লড়ছে তাদের রুজির জন্য। আজ তারা না দাঁড়ালে কাল এই চাঁদার বোঝা আমাদের ঘাড়েই পড়ত।”
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অবরোধ সমস্যা নয়, সমস্যা হলো প্রশাসনের নীরবতা। চাঁদাবাজরা এতদিন পার পেল কীভাবে?”
নিয়মিত সিএনজি যাত্রীদের অনেকেই মনে করেন, যাত্রী হিসেবে ভোগান্তি কেউই চান না, তবে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে ভাড়া বৃদ্ধি, সেবার মান অবনতি এবং শ্রমিক-যাত্রী সংঘাত আরও বাড়বে। আজকের এই আন্দোলন কেবল চালকদের রুজির লড়াই নয়, বরং যাত্রীদের ভবিষ্যৎ ভোগান্তির বিরুদ্ধেও একটি স্পষ্ট বার্তা।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক জুড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ত্রিশাল উপজেলা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে এই কর্মসূচি পালিত হয়। চালকদের অভিযোগ, ত্রিশাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেট পর্যন্ত চলাচলে প্রতিদিন জনপ্রতি ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তবে আজ সেই ‘নিয়মিত’ চাঁদার পরিবর্তে এক চালকের কাছে ৭০ টাকা দাবি করা হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চালককে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি—যা সরাসরি তাঁর জীবিকার ওপর আঘাত বলে দাবি করেন সহকর্মীরা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ চালকেরা একত্র হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের স্লোগানে বার্তা ছিল স্পষ্ট— “চাঁদা না দিলে গাড়ি চলবে না—এই জুলুম আর চলবে না!”
চালকদের ভাষ্য, একাধিক পয়েন্টে নিয়মিত চাঁদা দিতে হলে অটোরিকশা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই গিয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, সাময়িক ভোগান্তি হলেও অনেক যাত্রীই চালকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এক কলেজগামী শিক্ষার্থী বলেন,
“আজ দেরি হলেও চালকদের পাশে আছি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভাড়া বাড়বে, ভুগবো আমরাই।”
একজন চাকরিজীবী যাত্রী বলেন, “এক ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু অন্যায় চাঁদার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে সমর্থন করি।”
এক নারী যাত্রীর বক্তব্য, “চালকেরা লড়ছে তাদের রুজির জন্য। আজ তারা না দাঁড়ালে কাল এই চাঁদার বোঝা আমাদের ঘাড়েই পড়ত।”
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অবরোধ সমস্যা নয়, সমস্যা হলো প্রশাসনের নীরবতা। চাঁদাবাজরা এতদিন পার পেল কীভাবে?”
নিয়মিত সিএনজি যাত্রীদের অনেকেই মনে করেন, যাত্রী হিসেবে ভোগান্তি কেউই চান না, তবে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে ভাড়া বৃদ্ধি, সেবার মান অবনতি এবং শ্রমিক-যাত্রী সংঘাত আরও বাড়বে। আজকের এই আন্দোলন কেবল চালকদের রুজির লড়াই নয়, বরং যাত্রীদের ভবিষ্যৎ ভোগান্তির বিরুদ্ধেও একটি স্পষ্ট বার্তা।
