ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

কুবি শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমী ভাবনা : দশ টাকায় ইফতারি

‎দশ টাকায় ইফতারি! কি, অবাক হচ্ছেন? আমিও প্রথম শুনে থমকে গিয়েছিলাম। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপণ্যের বাজার যেন আগুন ছুঁইছুঁই। তার ওপর রমজান মাস এলে সেই আগুনে আরও ঘি পড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তখন বাজার দখলে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ায়। এমন সময় আর্থিক সংকটকে জয় করে, টিউশনির টাকায় ৫০–৬০ টাকার ইফতারি প্যাকেজ বিক্রি করছেন মাত্র ১০ টাকায়। ভাবুন তো একবার, কতটা সাহস আর মানবিকতা লাগে এমন উদ্যোগ নিতে!

‎

‎গাইবান্ধার ছেলে কাজী মিরাজ। বেড়ে ওঠা ও শৈশব সেখানেই। এখন পড়াশোনা করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই সেবামূলক কাজে একটু বেশিই ঝোঁক ছিল তার। মানুষের উপকার ও কল্যাণের কথা ভাবলেই যেন তৃপ্তি মেলে তার মনে। কাউকে সাহায্য করতে পারা যেন তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ছোটবেলা থেকে অসহায় মানুষের কল্যাণে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছেন কাজী মিরাজ।

‎

‎রমজান মাস এলেই তাকে নতুন করে ভাবায়। সেই ভাবনা থেকেই মাথায় আসে রমজানে ইফতার বিতরণের চিন্তা। তবে শুরুতে একটু দ্বিধায় ছিলেন, তার এই উদ্যোগ আদৌ কাজে দেবে কি না। কিন্তু পরে মনে হলো, ফ্রি দিলে অনেকেই সংকোচ বোধ করতে পারে। তাই নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে ৫০ থেকে ৬০ টাকার ইফতারি প্যাকেজ মাত্র ১০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত দুই রমজানে শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাড়া দেখে আরও উৎসাহ পান কাজী মিরাজ।

‎

‎স্থানীয় হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করেন মিরাজ। এরপর বন্ধুরা মিলে ইফতার বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তার প্যাকেজে থাকে খেজুর, মুড়ি, ছোলা, কলা, জিলাপি, বড়া, আলুর চপসহ মোট ১০ প্রকারের আইটেম। মাঝে মাঝে বিরিয়ানির ব্যবস্থাও করেন।

‎

‎শুরুর দিকে ৭০ থেকে ৮০ প্যাকেট ইফতারির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন অনেক শিক্ষার্থী খাবার না পেয়ে ফিরে যায়। তা দেখে তার কষ্ট আরও বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়তে থাকায় প্যাকেটের সংখ্যাও বাড়াতে হয়। তখনই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক সংকট। কিন্তু কার্যক্রম থামানোর পাত্র নন মিরাজ। অনেক শিক্ষকও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তার এই মহৎ উদ্যোগে। ফলে তার মনে নতুন সাহসের সঞ্চার হয়।

‎

‎শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো বাংলাদেশে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চান কাজী মিরাজ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমি বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু করতে চাই, যেন প্রতিটি ক্যাম্পাসের নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা পবিত্র রমজান মাসে কম টাকায় ইফতারি পায়। যদি কখনো সম্ভব হয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশেই এই কার্যক্রম চালু করতে চাই। তবে এটি আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়; অবশ্যই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

‎

‎মিরাজের মতে, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসা দরকার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ, প্রতিটি ক্যাম্পাসে কেউ না কেউ এই কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। একবার শুরু হলে এসব কাজ থেমে থাকে না; কারও না কারও মাধ্যমে অবশ্যই চলমান থাকে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলে নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

‎

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


কুবি শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমী ভাবনা : দশ টাকায় ইফতারি

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

‎দশ টাকায় ইফতারি! কি, অবাক হচ্ছেন? আমিও প্রথম শুনে থমকে গিয়েছিলাম। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপণ্যের বাজার যেন আগুন ছুঁইছুঁই। তার ওপর রমজান মাস এলে সেই আগুনে আরও ঘি পড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তখন বাজার দখলে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ায়। এমন সময় আর্থিক সংকটকে জয় করে, টিউশনির টাকায় ৫০–৬০ টাকার ইফতারি প্যাকেজ বিক্রি করছেন মাত্র ১০ টাকায়। ভাবুন তো একবার, কতটা সাহস আর মানবিকতা লাগে এমন উদ্যোগ নিতে!

‎

‎গাইবান্ধার ছেলে কাজী মিরাজ। বেড়ে ওঠা ও শৈশব সেখানেই। এখন পড়াশোনা করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই সেবামূলক কাজে একটু বেশিই ঝোঁক ছিল তার। মানুষের উপকার ও কল্যাণের কথা ভাবলেই যেন তৃপ্তি মেলে তার মনে। কাউকে সাহায্য করতে পারা যেন তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ছোটবেলা থেকে অসহায় মানুষের কল্যাণে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছেন কাজী মিরাজ।

‎

‎রমজান মাস এলেই তাকে নতুন করে ভাবায়। সেই ভাবনা থেকেই মাথায় আসে রমজানে ইফতার বিতরণের চিন্তা। তবে শুরুতে একটু দ্বিধায় ছিলেন, তার এই উদ্যোগ আদৌ কাজে দেবে কি না। কিন্তু পরে মনে হলো, ফ্রি দিলে অনেকেই সংকোচ বোধ করতে পারে। তাই নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে ৫০ থেকে ৬০ টাকার ইফতারি প্যাকেজ মাত্র ১০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত দুই রমজানে শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাড়া দেখে আরও উৎসাহ পান কাজী মিরাজ।

‎

‎স্থানীয় হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করেন মিরাজ। এরপর বন্ধুরা মিলে ইফতার বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তার প্যাকেজে থাকে খেজুর, মুড়ি, ছোলা, কলা, জিলাপি, বড়া, আলুর চপসহ মোট ১০ প্রকারের আইটেম। মাঝে মাঝে বিরিয়ানির ব্যবস্থাও করেন।

‎

‎শুরুর দিকে ৭০ থেকে ৮০ প্যাকেট ইফতারির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন অনেক শিক্ষার্থী খাবার না পেয়ে ফিরে যায়। তা দেখে তার কষ্ট আরও বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়তে থাকায় প্যাকেটের সংখ্যাও বাড়াতে হয়। তখনই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক সংকট। কিন্তু কার্যক্রম থামানোর পাত্র নন মিরাজ। অনেক শিক্ষকও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তার এই মহৎ উদ্যোগে। ফলে তার মনে নতুন সাহসের সঞ্চার হয়।

‎

‎শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো বাংলাদেশে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চান কাজী মিরাজ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমি বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু করতে চাই, যেন প্রতিটি ক্যাম্পাসের নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা পবিত্র রমজান মাসে কম টাকায় ইফতারি পায়। যদি কখনো সম্ভব হয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশেই এই কার্যক্রম চালু করতে চাই। তবে এটি আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়; অবশ্যই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

‎

‎মিরাজের মতে, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসা দরকার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ, প্রতিটি ক্যাম্পাসে কেউ না কেউ এই কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। একবার শুরু হলে এসব কাজ থেমে থাকে না; কারও না কারও মাধ্যমে অবশ্যই চলমান থাকে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলে নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

‎


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত