প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া

গণতন্ত্রে আশাভঙ্গের ভাষাও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে

শেয়ার করুন
অ+ অ-
গণতন্ত্রে আশাভঙ্গের ভাষাও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে
ইন্টারনেট

ভীষণ আশাবাদী হয়ে মানুষ যখন কোনো ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়ায়, পরবর্তীতে সেই ব্যবস্থা বারবার আশাভঙ্গ করলে—সেই হতাশা থেকে করা সমালোচনাও ন্যায়বোধেরই অংশ

একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়—বিশেষ করে যখন রাষ্ট্র একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করে। সেই প্রত্যাশা তৈরি হয় পরিবর্তনের আশায়, ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় এবং একটি সুশাসিত ভবিষ্যতের বিশ্বাস থেকে।

উচ্চ প্রত্যাশার জায়গা থেকেই অনেক নাগরিক একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা বা অসংগতিগুলো সামনে এলে সমালোচনাও উঠে আসে। এই সমর্থন ও সমালোচনা—দুটোই একই চেতনার দুই দিক; তা হলো ন্যায়বোধ, দায়িত্ববোধ এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা।

অন্ধ সমর্থন যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি দায়িত্বশীল সমালোচনা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয়। আশাভঙ্গের যন্ত্রণা থেকে উঠে আসা সমালোচনাকে ব্যক্তিগত ক্রোধ বা দলান্ধতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটিকে নাগরিক সচেতনতারই প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তার ভালো-মন্দ মিলিয়ে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিচালনা করেছে—এটি একটি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করেই বলা যায়, ইতিহাসে তাদের ভূমিকার চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে একটি বিষয়ের ওপর—তারা শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারে।

নির্বাচন ঘিরে যদি একজন মানুষও আহত বা নিহত হয়, যদি এক ফোঁটা রক্তও ঝরে—তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক পরিসংখ্যানে একজন নিহত ব্যক্তি হয়তো একটি সংখ্যা, রাজনৈতিক দলের চোখে প্রতিপক্ষের একজন কর্মী, সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি শিরোনাম। কিন্তু যে পরিবারটি তার মানুষটিকে হারায়, তাদের কাছে সেই ক্ষতি কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না—সেখানে পুরো জীবনটাই থমকে যায়।

আমাদের কাছে যে মানুষটি কেবল একটি সংখ্যা, কারও কারও কাছে সেই মানুষটিই ছিল পুরো পৃথিবী।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো—জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। সহিংসতামুক্ত নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক জয়।

শেষ সময়ে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে, তবে সেটিই হবে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


গণতন্ত্রে আশাভঙ্গের ভাষাও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভীষণ আশাবাদী হয়ে মানুষ যখন কোনো ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়ায়, পরবর্তীতে সেই ব্যবস্থা বারবার আশাভঙ্গ করলে—সেই হতাশা থেকে করা সমালোচনাও ন্যায়বোধেরই অংশ

একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়—বিশেষ করে যখন রাষ্ট্র একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করে। সেই প্রত্যাশা তৈরি হয় পরিবর্তনের আশায়, ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় এবং একটি সুশাসিত ভবিষ্যতের বিশ্বাস থেকে।

উচ্চ প্রত্যাশার জায়গা থেকেই অনেক নাগরিক একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা বা অসংগতিগুলো সামনে এলে সমালোচনাও উঠে আসে। এই সমর্থন ও সমালোচনা—দুটোই একই চেতনার দুই দিক; তা হলো ন্যায়বোধ, দায়িত্ববোধ এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা।

অন্ধ সমর্থন যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি দায়িত্বশীল সমালোচনা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয়। আশাভঙ্গের যন্ত্রণা থেকে উঠে আসা সমালোচনাকে ব্যক্তিগত ক্রোধ বা দলান্ধতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটিকে নাগরিক সচেতনতারই প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তার ভালো-মন্দ মিলিয়ে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিচালনা করেছে—এটি একটি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করেই বলা যায়, ইতিহাসে তাদের ভূমিকার চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে একটি বিষয়ের ওপর—তারা শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারে।

নির্বাচন ঘিরে যদি একজন মানুষও আহত বা নিহত হয়, যদি এক ফোঁটা রক্তও ঝরে—তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক পরিসংখ্যানে একজন নিহত ব্যক্তি হয়তো একটি সংখ্যা, রাজনৈতিক দলের চোখে প্রতিপক্ষের একজন কর্মী, সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি শিরোনাম। কিন্তু যে পরিবারটি তার মানুষটিকে হারায়, তাদের কাছে সেই ক্ষতি কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না—সেখানে পুরো জীবনটাই থমকে যায়।

আমাদের কাছে যে মানুষটি কেবল একটি সংখ্যা, কারও কারও কাছে সেই মানুষটিই ছিল পুরো পৃথিবী।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো—জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। সহিংসতামুক্ত নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক জয়।

শেষ সময়ে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে, তবে সেটিই হবে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত