সারাদেশসারাদেশ

ধুনটে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদমান জমিতে পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ

ধুনটে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদমান জমিতে পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ
ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা সত্ত্বেও বিবাদমান জমিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার নোটিশ অমান্য করে একটি বিবাদমান জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়েরবাড়ি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোস্তফা কামালের সঙ্গে একই গ্রামের শমসের আলীর ছেলে আব্দুস সামাদের মধ্যে প্রায় ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিতে আব্দুস সামাদ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন বলে জানা গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি আব্দুস সামাদ ওই জমিতে থাকা বাড়ির সংস্কার কাজ শুরু করেন।

এ ঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারি মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে আব্দুস সামাদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন ২৯ জানুয়ারি থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নোটিশ জারি করে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যে পক্ষ যে অবস্থানে আছেন, তারা সেই অবস্থানেই থাকবেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ওই নোটিশ অমান্য করে আব্দুস সামাদ ও তাঁর লোকজন বিবাদমান জমিতে একটি পাকাঘর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ বলেন, “এই জায়গায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। মোস্তফা কামাল আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।”

অন্যদিকে মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, “বিবাদমান জমিতে তারা জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে। আমি বাধা দিলে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। পরে আইনের আশ্রয় নিলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। অথচ আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের নোটিশ উপেক্ষা করে তারা লোকজন নিয়ে এসে দেয়াল নির্মাণ করছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. খায়রুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে কেউ জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ধুনটে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদমান জমিতে পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার নোটিশ অমান্য করে একটি বিবাদমান জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়েরবাড়ি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোস্তফা কামালের সঙ্গে একই গ্রামের শমসের আলীর ছেলে আব্দুস সামাদের মধ্যে প্রায় ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিতে আব্দুস সামাদ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন বলে জানা গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি আব্দুস সামাদ ওই জমিতে থাকা বাড়ির সংস্কার কাজ শুরু করেন।

এ ঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারি মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে আব্দুস সামাদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন ২৯ জানুয়ারি থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নোটিশ জারি করে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যে পক্ষ যে অবস্থানে আছেন, তারা সেই অবস্থানেই থাকবেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ওই নোটিশ অমান্য করে আব্দুস সামাদ ও তাঁর লোকজন বিবাদমান জমিতে একটি পাকাঘর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ বলেন, “এই জায়গায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। মোস্তফা কামাল আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।”

অন্যদিকে মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, “বিবাদমান জমিতে তারা জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে। আমি বাধা দিলে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। পরে আইনের আশ্রয় নিলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। অথচ আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের নোটিশ উপেক্ষা করে তারা লোকজন নিয়ে এসে দেয়াল নির্মাণ করছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. খায়রুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে কেউ জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত