ক্রিকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ে পড়ার পর তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টে খেলতে নেমে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। লাঞ্চের পর টেলএন্ডারদের নিয়ে একাই উইন্ডিজ বোলারদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে বাংলাদেশ দলকে বড় লিড দেওয়ার পথ থেকে আটকে দেন এই ব্যাটার। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে অপরাজিত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৩১৮ রান নিয়ে, যেখানে ক্যারিবীয়দের চেয়ে সফরকারীরা পিছিয়ে ছিল ৩৮ রানে। মাত্র তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা হৃদয় সেই কাজটা করলেন পেশাদারদের মতোই। লাঞ্চের পর হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলামও।
এর আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ৭ ওভারে ৩৩ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে প্রথম ধাক্কা খায় দল। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেন ৩৪ রান। এরপর উইকেটে এসে থিতু হতে পারেননি লিটন দাসও। একই বোলারকে আক্রমণাত্মক ড্রাইভ খেলতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
লিটনের পতন হলে মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে জুটি বাঁধেন হৃদয়। দুজনে সাবলীলভাবে এগোনোর চেষ্টা করলেও ৪১ রানের জুটির পর আউট হন মিরাজ। রোস্টন চেজের বলে মিরাজ প্যাডেল সুইপ করতে গেলে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা জাস্টিন গ্রিভস বুদ্ধিদীপ্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এর পর বল হাতে আলো ছড়ানো হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতে বেশি দূর এগোতে পারেননি, আউট হন ১ রান করে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২০৫ রান তুলে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায়। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না থাকায় বাস্তবে এই রান ছিল ৮ উইকেট হারানোর সমান। ৭ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেটে ১১৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। কারণ গোড়ালির চোটে ছিটকে পড়া সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার প্রকৃতপক্ষে কোনো সুযোগ ছিল না। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন।
তবে বিরতির পর পুরো চিত্র বদলে দেন হৃদয় ও তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজনে মিলে গড়ার কাজ শুরু করেন এবং ১১৭ রানের এক চমৎকার জুটি উপহার দেন, যা এই উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অসাধারণ সহায়তার পরিচয় দেওয়া তাইজুল ২২ রান করে একটি ক্লোজ স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত থেকে চা বিরতি পর্যন্ত আরও ১৭ রান যোগ করেন হৃদয়। অন্যদিকে বল হাতে ভালো করা হাসান মাহমুদ ১ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ১ রানে। দুর্দান্ত চার-ছক্কার শটে উইন্ডিজ লিড নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান হৃদয়। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে। মধ্যাহ্নবিরতির পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যেটা করলেন তাওহীদ হৃদয়, সেটা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ফলে টেইলেন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের কাঁধেই। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা এবং চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজিয়ে দর্শকদের যেমন বিনোদিত করেছেন তেমনি লিডটাকেও নামিয়ে এনেছেন পঞ্চাশের নিচে।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ে পড়ার পর তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টে খেলতে নেমে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। লাঞ্চের পর টেলএন্ডারদের নিয়ে একাই উইন্ডিজ বোলারদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে বাংলাদেশ দলকে বড় লিড দেওয়ার পথ থেকে আটকে দেন এই ব্যাটার। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে অপরাজিত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৩১৮ রান নিয়ে, যেখানে ক্যারিবীয়দের চেয়ে সফরকারীরা পিছিয়ে ছিল ৩৮ রানে। মাত্র তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা হৃদয় সেই কাজটা করলেন পেশাদারদের মতোই। লাঞ্চের পর হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলামও।
এর আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ৭ ওভারে ৩৩ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে প্রথম ধাক্কা খায় দল। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেন ৩৪ রান। এরপর উইকেটে এসে থিতু হতে পারেননি লিটন দাসও। একই বোলারকে আক্রমণাত্মক ড্রাইভ খেলতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
লিটনের পতন হলে মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে জুটি বাঁধেন হৃদয়। দুজনে সাবলীলভাবে এগোনোর চেষ্টা করলেও ৪১ রানের জুটির পর আউট হন মিরাজ। রোস্টন চেজের বলে মিরাজ প্যাডেল সুইপ করতে গেলে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা জাস্টিন গ্রিভস বুদ্ধিদীপ্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এর পর বল হাতে আলো ছড়ানো হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতে বেশি দূর এগোতে পারেননি, আউট হন ১ রান করে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২০৫ রান তুলে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায়। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না থাকায় বাস্তবে এই রান ছিল ৮ উইকেট হারানোর সমান। ৭ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেটে ১১৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। কারণ গোড়ালির চোটে ছিটকে পড়া সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার প্রকৃতপক্ষে কোনো সুযোগ ছিল না। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন।
তবে বিরতির পর পুরো চিত্র বদলে দেন হৃদয় ও তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজনে মিলে গড়ার কাজ শুরু করেন এবং ১১৭ রানের এক চমৎকার জুটি উপহার দেন, যা এই উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অসাধারণ সহায়তার পরিচয় দেওয়া তাইজুল ২২ রান করে একটি ক্লোজ স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত থেকে চা বিরতি পর্যন্ত আরও ১৭ রান যোগ করেন হৃদয়। অন্যদিকে বল হাতে ভালো করা হাসান মাহমুদ ১ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ১ রানে। দুর্দান্ত চার-ছক্কার শটে উইন্ডিজ লিড নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান হৃদয়। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে। মধ্যাহ্নবিরতির পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যেটা করলেন তাওহীদ হৃদয়, সেটা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ফলে টেইলেন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের কাঁধেই। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা এবং চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজিয়ে দর্শকদের যেমন বিনোদিত করেছেন তেমনি লিডটাকেও নামিয়ে এনেছেন পঞ্চাশের নিচে।
