দূর্ঘটনাদূর্ঘটনা

শুধু ভালোবাসা নয়, সন্তানের নিরাপত্তাও গুড প্যারেন্টিংয়ের অপরিহার্য অংশ

গুড প্যারেন্টিংয়ের অভাবে ঝরে গেল প্রীতির প্রাণ: ভালোবাসার সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তাও অভিভাবকের দায়িত্ব

গুড প্যারেন্টিং মানে শুধু সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নয়; তাকে নিরাপদ রাখা, সঠিক শিক্ষা দেওয়া, ভালো আচরণ শেখানো এবং প্রতিটি মুহূর্তে দায়িত্বশীলভাবে তার পাশে থাকা। এই সচেতনতার সামান্য ঘাটতিও কখনো কখনো ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ট্র্যাজেডি। নেত্রকোণার পূর্বধলায় ছয় বছরের শিশু মারিয়া আক্তার প্রীতির মর্মান্তিক মৃত্যু যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ।

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে দেখে দৌড়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মারিয়া আক্তার প্রীতি (৬) নামে এক মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নয়াপাড়া (থানা রোড) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রীতি পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল উলুম নয়াপাড়া মহিলা মাদরাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে প্রীতি মাদরাসায় যায়। দুপুরে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় নয়াপাড়া এলাকায় বাবুল মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে দেখতে পেয়ে সে হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় সে সড়কে ছিটকে পড়ে গেলে অটোরিকশার একটি চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও তার বাবা দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত অটোরিকশা ও চালককে শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার ও ট্রাফিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুরা তাৎক্ষণিক আবেগে বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই অভিভাবকদের কখনোই রাস্তার বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে শিশুকে একা আসতে ইঙ্গিত দেওয়া উচিত নয়; বরং নিজে এগিয়ে গিয়ে শিশুর হাত ধরে নিরাপদে রাস্তা পার করানো প্রয়োজন। গুড প্যারেন্টিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিকই হলো সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ, মাত্র এক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শুধু ভালোবাসা নয়, সন্তানের নিরাপত্তাও গুড প্যারেন্টিংয়ের অপরিহার্য অংশ

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গুড প্যারেন্টিংয়ের অভাবে ঝরে গেল প্রীতির প্রাণ: ভালোবাসার সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তাও অভিভাবকের দায়িত্ব

গুড প্যারেন্টিং মানে শুধু সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নয়; তাকে নিরাপদ রাখা, সঠিক শিক্ষা দেওয়া, ভালো আচরণ শেখানো এবং প্রতিটি মুহূর্তে দায়িত্বশীলভাবে তার পাশে থাকা। এই সচেতনতার সামান্য ঘাটতিও কখনো কখনো ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ট্র্যাজেডি। নেত্রকোণার পূর্বধলায় ছয় বছরের শিশু মারিয়া আক্তার প্রীতির মর্মান্তিক মৃত্যু যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ।

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে দেখে দৌড়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মারিয়া আক্তার প্রীতি (৬) নামে এক মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নয়াপাড়া (থানা রোড) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রীতি পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল উলুম নয়াপাড়া মহিলা মাদরাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে প্রীতি মাদরাসায় যায়। দুপুরে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় নয়াপাড়া এলাকায় বাবুল মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে দেখতে পেয়ে সে হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় সে সড়কে ছিটকে পড়ে গেলে অটোরিকশার একটি চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও তার বাবা দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত অটোরিকশা ও চালককে শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার ও ট্রাফিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুরা তাৎক্ষণিক আবেগে বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই অভিভাবকদের কখনোই রাস্তার বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে শিশুকে একা আসতে ইঙ্গিত দেওয়া উচিত নয়; বরং নিজে এগিয়ে গিয়ে শিশুর হাত ধরে নিরাপদে রাস্তা পার করানো প্রয়োজন। গুড প্যারেন্টিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিকই হলো সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ, মাত্র এক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে উঠতে পারে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত