মতামতমতামত

"সফল মানুষের মুখে শিক্ষকের প্রতি অকৃতজ্ঞতা—ব্যর্থ কে, ব্যক্তি নাকি ব্যবস্থা?"

"সফল মানুষের মুখে শিক্ষকের প্রতি অকৃতজ্ঞতা—ব্যর্থ কে, ব্যক্তি নাকি ব্যবস্থা?"
সংগৃহীত

একজন সফল মানুষের মুখে যখন শোনা যায়—“লেখাপড়ার জীবনে শিক্ষকের প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা নেই আমার”, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—কেন?

ব্যারিস্টার ফুয়াদ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি নিজে না দেওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তাই তাঁর বক্তব্যের অন্তর্নিহিত কারণ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে।

সম্ভবত তিনি শিক্ষাজীবনে প্রত্যাশিত দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা বা সহযোগিতা পাননি। আবার এমনও হতে পারে, তিনি মনে করেন তাঁর সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো সহায়ক পরিবেশ। এ-ও সম্ভব, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

একই সঙ্গে আমাদের আরেকটি বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। জাতীয় পে-স্কেলভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত অবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। অনেকের মতে, এসব বিষয় শিক্ষার মান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এর ফলে তিনি তাঁর সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর খরচ বহন করতে পারছেন। বক্তব্যটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে—অনেক পরিবারের কাছে মানসম্মত বা অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শিক্ষক সমাজের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একইভাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। তাই কোনো ব্যক্তির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি-আক্রমণ বা আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে, আমাদের উচিত সেই বক্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কোনো বার্তা বহন করে কি না—সেটি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


"সফল মানুষের মুখে শিক্ষকের প্রতি অকৃতজ্ঞতা—ব্যর্থ কে, ব্যক্তি নাকি ব্যবস্থা?"

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

একজন সফল মানুষের মুখে যখন শোনা যায়—“লেখাপড়ার জীবনে শিক্ষকের প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা নেই আমার”, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—কেন?

ব্যারিস্টার ফুয়াদ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি নিজে না দেওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তাই তাঁর বক্তব্যের অন্তর্নিহিত কারণ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে।

সম্ভবত তিনি শিক্ষাজীবনে প্রত্যাশিত দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা বা সহযোগিতা পাননি। আবার এমনও হতে পারে, তিনি মনে করেন তাঁর সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো সহায়ক পরিবেশ। এ-ও সম্ভব, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

একই সঙ্গে আমাদের আরেকটি বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। জাতীয় পে-স্কেলভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত অবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। অনেকের মতে, এসব বিষয় শিক্ষার মান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এর ফলে তিনি তাঁর সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর খরচ বহন করতে পারছেন। বক্তব্যটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে—অনেক পরিবারের কাছে মানসম্মত বা অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শিক্ষক সমাজের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একইভাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। তাই কোনো ব্যক্তির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি-আক্রমণ বা আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে, আমাদের উচিত সেই বক্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কোনো বার্তা বহন করে কি না—সেটি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত